স্বাভাবিক মূল্যস্তর সীমায় ফিরল পুঁজিবাজার

ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার হওয়া সিকিউরিটিজগুলোর দরের সর্বনিম্ন সীমা তুলে নেওয়ার মাধ্যমে স্বাভাবিক সার্কিট ব্রেকারে (মূল্যস্তর সীমা) ফিরেছে পুঁজিবাজার। গতকাল দরহ্রাসের সর্বনিম্ন ২ শতাংশ সীমা তুলে দেওয়ার মাধ্যমে স্বাভাবিক সার্কিট ব্রেকার প্রথা আরোপ করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। এর মাধ্যমে প্রায় ১৫ মাস পর আনুষ্ঠানিকভাবে পুঁজিবাজার থেকে ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়া হলো।

পুঁজিবাজারে ভয়াবহ দরপতন ও দেশে করোনা সংক্রমণের কারণে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়ায় গত বছরের ১৯ মার্চ শেয়ারের সর্বনিম্ন সীমা বেঁধে দিয়ে দেশে প্রথমবারের মতো ফ্লোর প্রাইস আরোপ করে ড. খায়রুল হোসেনের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন কমিশন। এই পদ্ধতির মাধ্যমে পুঁজিবাজারের পতন ঠেকিয়ে রাখা হয়েছিল। এর আগে টানা পতনের কারণে ২০২০ সালের ১৮ মার্চ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ৩৬০৩ পয়েন্টে নেমে আসে। পরদিন ফ্লোর প্রাইস আরোপের কারণে কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দর বাড়ায় সূচকটি ৩৭১ পয়েন্ট বাড়ানো হয়। এতে সূচকটি ৩৯৭৪ পয়েন্টে উন্নীত করা হয়। 

দেশে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে গত বছরের ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটির মধ্যে পুঁজিবাজারের লেনদেনও বন্ধ হয়ে যায়। লেনদেন বন্ধের মধ্যেই কমিশনে নেতৃত্বের পরিবর্তন হয়। অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের নেতৃত্বের কমিশন দায়িত্ব নিয়েই লেনদেন চালুর উদ্যোগ নেয়। টানা ৬৬ দিন বন্ধ থাকার পর গত বছরের ৩১ মে পুঁজিবাজারে লেনদেন চালু হয়। আর জুলাইয়ের শেষার্ধ থেকেই পুঁজিবাজারে চাঙ্গাভাব দেখা দেয়। যার ধারাবাহিকতায় গত এক বছরে ডিএসইর প্রধান সূচকটি ৪০০০ পয়েন্ট থেকে ৬০০০ পয়েন্ট ছাড়িয়ে যায়।  পুঁজিবাজারের চাঙ্গাভাবে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ সিকিউরিটিজের দর ফ্লোর প্রাইস অতিক্রম করে। ফ্লোর প্রাইসে পড়ে থাকে শুধুমাত্র ৯৬টি সিকিউরিটিজ। ফ্লোর প্রাইসের কারণে ক্রেতা-সংকট তৈরি হওয়ায় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাদের বৈশ্বিক সংগঠন আইওএসকো থেকে ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের চাপ দেওয়া হয়। ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার না হলে বাংলাদেশ এসইসিকে নিচের ক্যাটাগরিতে নামিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়।

এমন পরিস্থিতিতে চলতি বছরের ৭ এপ্রিল ৯৬টি কোম্পানির মধ্যে ৬৬টির ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করে নেয় কমিশন। তবে ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের পর বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়লে সংশ্লিষ্ট সিকিউরিটিজগুলোতে নতুন করে সুরক্ষা দেওয়া হয়। এসব সিকিউরিটিজের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ হ্রাসের সুযোগ থাকলে তা কমিয়ে দিনে সর্বনিম্ন ২ শতাংশ দর কমতে পারবে বলে নতুন নির্দেশনা জারি করে এসইসি। পরবর্তীকালে একই ধরনের সুরক্ষা বজায় রেখে গত ৩ জুন অবশিষ্ট ৩০ কোম্পানির ফ্লোর প্রাইসও প্রত্যাহার করে নেয় কমিশন। গতকাল ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার হওয়া ৯৬ কোম্পানির সর্বনিম্ন ২ শতাংশ পর্যন্ত দর কমার সুরক্ষা তুলে নিয়ে স্বাভাবিক সার্কিট ব্রেকার পদ্ধতি আরোপ করা হয়।

গতকাল এসইসি তাদের এ-সংক্রান্ত আদেশে বলেছে, ফ্লোর প্রাইস উঠে গেলেও শেয়ারের দামের প্রতিদিনের ওঠানামার ওপর আগের মতোই মূল্যস্তর বা সার্কিট ব্রেকার থাকবে। যেসব কোম্পানির শেয়ারের বাজারমূল্য ২০০ টাকা পর্যন্ত, সেসব কোম্পানির দাম এক দিনে ১০ শতাংশের বেশি বাড়তে বা কমতে পারবে না। যেসব শেয়ারের দর ২০০ থেকে ৫০০ টাকা, সেগুলোর দাম দিনে ৮ দশমিক ৭৫ শতাংশের বেশি বাড়তে বা কমতে পারবে না। ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা দামের শেয়ারের ক্ষেত্রে এ মূল্যস্তর সাড়ে ৭ শতাংশ। ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকার বাজারমূল্যের শেয়ারে এ সীমা ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা দামের শেয়ার দরের ওঠানামার সীমা ৫ শতাংশ। আর ৫ হাজার টাকার বেশি দামের শেয়ার এক দিনে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ বাড়তে বা কমতে পারবে।