ফৌজদারি মামলায় এফআইআর কিংবা অভিযোগপত্রে আসামিদের বয়স উল্লেখের ক্ষেত্রে অযাচাইকৃত জন্মসনদ ব্যবহার না করার নির্দেশনা দিয়েছে হাইকোর্ট।
খুলনার হরিণটানা থানার হত্যা মামলায় এক আসামির জামিন শুনানিতে বয়স নিয়ে অসঙ্গতির বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি খিজির হায়াতের ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ নির্দেশনা দেয়।
আদালত বলেছে, তদন্তকারী কর্মকর্তারা ইচ্ছেমতো মামলার নথিপত্রে যেমন আসামির বয়স লিখতে পারবেন না, তেমনি শুধুমাত্র জন্মসনদের ওপর ভিত্তি করে মামলার নথিও প্রস্তুত করা যাবে না।
এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ আদেশে হাইকোর্ট বিস্তারিত মতামত ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরবে বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মনিরুল ইসলাম।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, খুলনার হরিণটানা থানার জয়খালী গ্রামে একটি হাঁসের খামারে ২০১৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর প্রদীপ দে (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পরদিন নিহতের ছেলে লিটন কুমার দে (২৬) অজ্ঞাতদের নামে মামলা করেন। কয়েক দিন পর সাকিব হাওলাদার ও শামীম মোড়ল নামে দুজনকে এ মামলায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আরও পাঁচজনকে এ মামলার আসামি করা হয়।
ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর খুলনার সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাকিব ও শামীম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। গ্রেপ্তারের নথি ও জবানবন্দির সময় সাকিবের বয়স ২০ বছর উল্লেখ করা হয়। এরপর তদন্ত শেষে গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা হরিণটানা থানার এসআই রাসেল হোসেন। এতে সাকিবের বয়স ১৬ বছর দেখানো হয়।
বিচারিক আদালত সাকিবের জামিন নামঞ্জুর করলে পরে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। এখানে শুনানিকালে সাকিবের বয়সের এ অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এরপর গত ১০ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করে হাইকোর্ট। গতকাল হাজির হয়ে তিনি আদালতকে জানান, সাকিবের জন্মসনদ অনুযায়ী তিনি বয়স ১৬ বছর উল্লেখ করেছেন। মাদারীপুরের রাজৈরের স্থানীয় একটি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দেওয়া সনদে তার জন্ম ২০০৪ সালের ২ মার্চ। আদালতে সাকিবের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. মনিরুজ্জামান সিরাজ।