আর্দ্রতা কম হোক বা বেশি- দুটোই ত্বকের ওপর প্রভাব ফেলে। বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। আবার আর্দ্রতা বেশি হলে ত্বকে তৈলাক্ততা, ব্রণ ও র্যাশ দেখা দেয়। জানা দরকার, ত্বকের জন্য কতটুকু হিউমিডিটি আদর্শ। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ কতটুকু হলে ত্বকের জন্য আদর্শ হবে, সেটা পুরোপুরি বলা যায় না। কারণ সবার জন্য এটি এক হবে না। বয়স, ত্বকের ধরন, আবহাওয়া, বংশধারা ইত্যাদি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বক ভালো রাখতে আদর্শ হিউমিডিটি লেভেল ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ।
অতিরিক্ত আর্দ্র আবহাওয়া
অতিরিক্ত আর্দ্র আবহাওয়ায় প্রচুর ঘাম হয়। আর গরম এবং ঘামের ফলে অনেক সময় ত্বক শুষ্ক ও পানিশূন্য হয়ে পড়ে।
ত্বকে ছোট ছোট লাল গোটা দেখা দেয়। যাকে হিট র্যাশ বলে। অতিরিক্ত হিউমিডিটি ও ঘামের ফলে ত্বকে এই হিট র্যাশ দেখ দেয়।
অতিরিক্ত ঘামের ফলে ত্বকের লোমকূপ বন্ধ হয়ে যায়। যার ফলে ত্বকে ব্রণ দেখা দেয়।
কম আর্দ্র আবহাওয়া
লো হিউমিডিটিতে বাতাসে ময়েশ্চার কম থাকে, যা ত্বকের ওপর প্রভাব ফেলে। ত্বকের জন্য দরকার ময়েশ্চারের । বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকলে ত্বকের স্বাভাবিক তেল উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে ত্বক অনেক বেশি শুষ্ক ও খসখসে হয়ে যায়। এমনকি ত্বক ফেটেও যায়। এ সমস্যা বেশি দেখা দেয় শীতকালে।
কম আর্দ্র আবহাওয়ায় ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। আবার ত্বক অ্যালার্জিপ্রবণ হলে ত্বক ফেটে রক্ত ঝরার আশঙ্কা থাকে।
ত্বকের যত্ন
ত্বকের ধরন বুঝে যত্ন নিতে হবে। ত্বকের ধরন যেমনই হোক ত্বক পরিষ্কার রাখা জরুরি। ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত বা মিশ্র হলে ত্বক আরও তৈলাক্ত হয়ে একনে এবং র্যাশ বেড়ে যায়। তাই সব সময় ত্বক পরিষ্কার রাখতে হবে। যাতে ত্বকের লোমকূপ বন্ধ না হয়। লোমকূপ খোলা রাখবে নন-কমডোজেনিক ক্লিনজার। আর আপনার ত্বক ব্রণপ্রবণ হলে স্যালিসিলিক অ্যাসিড এবং বেনজয়াইল পার-অক্সাইডযুক্ত ক্লিনজার ব্যবহার করতে হবে। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলে হালকা মানের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা ভালো। যেটা ত্বক নরম রাখার পাশাপাশি সতেজতা ধরে রাখবে। আর বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকলে ত্বকের শুষ্কতা ও ইচিং কমাতে ভারী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে সানস্ক্রিন। রোদে যাওয়ার আগে ভালো মানের সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে ত্বক ভালো থাকবে। সপ্তাহে এক দিন অবশ্যই ঘরে বসেই ফেসিয়াল করতে হবে। ফেসিয়াল ত্বকের মরা চামড়া দূর করে, ব্ল্যাক ও হোয়াইট হেইডস সরায়, ত্বকের লোমকূপ খুলে দেয়, সানবার্ন দূর করে। এ ছাড়া রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া ঠিক রাখে।
ভালো ত্বকের মূল চাবিকাঠি নিজেকে হাইড্রেটেড রাখা। ত্বক হাইড্রেটেড রাখতে ফেসিয়াল সিরাম খুবই ভালো কাজ করে। ময়েশ্চারাইজার লাগানোর আগে সিরাম ব্যবহার করতে পারেন। এ ছাড়া শরীর সতেজ রাখতে প্রচুর পরিমাণে পানি, শাকসবজি, ফল ও ব্যালান্সড ডায়েট গ্রহণ করতে হবে।