ব্যক্তিগত কারণে আত্মগোপনে ছিলেন ত্ব-হা: পরিবার

নিখোঁজের আট দিন পর ফিরে আসা ধর্মীয় বক্তা আবু ত্ব-হা আদনান ব্যক্তিগত কারণে আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে তার পরিবারও।  চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রট আদালতে জিজ্ঞাসাবাদের পর শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার পর আবু-ত্বহাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। 

এ সময় ত্ব-হা আদনানের মা, বোন ও মামা উপস্থিত ছিলেন।

শুক্রবার রাতে তার মামা সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। ত্ব-হা ব্যক্তিগত কারণেই আত্মগোপনে ছিলেন। আমরা তাকে বঝে পেয়েছি।

শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টায় রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয় থেকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রট আদালতে নেয়া হয়।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, আবু ত্ব-হা স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে চাওয়ায় দুই সঙ্গীসহ তাকে আদালতে নেওয়া হয়েছে। ত্ব–হার পরিবারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সেখানে আবু-ত্বহাসহ তার সঙ্গীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের আদালত সন্তুষ্ট হয়ে তাদের পরিবারের হাতে তুলে দেয়। 

এর আগে রংপুর থেকে টেলিফোনে ত্ব-হা আদনানের মামা সিরাজুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে বলেন, তার ভাগ্নে উদ্ধার হওয়ার পর তাকে দেখে বেশ অসুস্থ মনে হয়েছে তার।

সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমরা জানতে পারলাম যে উনাকে (ত্ব-হা) পাওয়া গেছে। এর পরেই শুনতে পেলাম তিনি তার শ্বশুরবাড়িতে আছেন। তখন আমরা ওই বাড়িতে গিয়ে তাকে দেখি। তার শরীর একটু খারাপ ছিল।

তিনি আরো বলেন, সে অসুস্থ ছিল। তখন তার সঙ্গে কথা বলব চিন্তা করেছিলাম। কিন্তু অসুস্থাতার কারণে কথা বলা হয়নি। পাশে বসেছিলাম। এরই মাঝে পুলিশ গিয়ে তাকে নিয়ে যায়।

আট দিন নিখোঁজ থাকার পর শুক্রবার দুপুরে রংপুরের বাড়ি ফিরে আসেন আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনান। এরপর তাকে রংপুর ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে রংপুর মেট্রোপলিট্রন ডিবি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপপুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন জানান, প্রথমিকভাবে আদনান স্বীকার করেছে যে পারিবারিক ঝামেলার কারণেই তিনি নিজে নিজেই আত্বগোপনে ছিলেন। তার নিখোঁজ হওয়া সম্পর্কে কোনো গোষ্ঠী বা কেউ জড়িত ছিলেন না বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে। 

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, বগুড়ায় এক বন্ধুর বাড়িতে ব্যক্তিগত কারণে আত্মগোপনে ছিলেন ত্ব-হা আদনান। তিনি তার দুই সঙ্গীকে নিয়ে আত্মগোপনে যান। তারা হলেন চালক আমির উদ্দিন ও মুহিত। অপর সঙ্গী মুজাহিদকে (ফিরোজ) তারা বগুড়াতেই নামিয়ে দেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ত্ব-হাসহ সঙ্গীদের জিজ্ঞাসাবাদে দেশ বা রাষ্ট্রবিরোধী কিংবা ষড়যন্ত্রমূলক কোনো উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। ত্ব-হা ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে আত্মগোপনে ছিলেন। তিনি এ বিষয়ে তার সঙ্গীদের বুঝিয়ে আত্মগোপনে যান।

পুলিশ জানায়, ত্ব-হা আদনান রংপুর শহরে তার প্রথম পক্ষের শ্বশুরবাড়িতে ফেরেন। দুপুর দুটার দিকে পুলিশ এমন খবর পেয়ে ওই বাসায় গিয়ে তাকে সেখানে পায়।

গত শুক্রবার ত্ব-হা আদনান নিখোঁজ হওয়ার পর তার মা এবং দ্বিতীয় স্ত্রী রংপুর থানায় আলাদা দুটি জিডি করেছিলেন। পরিবারের এই জিডিগুলোতে তার নিখোঁজ হওয়ার কারণ সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি।

তার দ্বিতীয় স্ত্রী সাবেকুন নাহার ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী এবং পুলিশ ও র‍্যাবের প্রধানদের বরাবরে চিঠি লিখেছিলেন ত্ব-হা আদনানের সন্ধান চেয়ে।

তবে তা খোঁজ পাওয়ার পর সাবেকুন নাহারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি বলে বিবিসি বাংলা জানায়।