প্রায় দুই মাস পর দেশে পরীক্ষা অনুপাতে করোনা রোগী শনাক্তের হার আবার ১৯ শতাংশে উঠল। এর আগে সর্বশেষ গত ১৮ এপ্রিল শনাক্তের হার ছিল ১৯ শতাংশ। পরে সেখান থেকে কমতে কমতে ১৫ মে ৭ শতাংশে নামে। কিন্তু এরপর থেকেই শনাক্তের হার বাড়তে থাকে। গত এক সপ্তাহ ধরেই এই হার ১৪-১৭ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছিল। আগের দিন গত বৃহস্পতিবার শনাক্তের হার ছিল ১৫ শতাংশ। গতকাল তা এক লাফে ১৯ শতাংশে পৌঁছায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৮৮৩ জন। এ সময় মারা গেছেন ৫৪ জন। আগের দিন মৃত্যুর সংখ্যা ছিল গত দেড় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্তদের নিয়ে দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৮ লাখ ৪৪ হাজার ৯৭০ জন হয়েছে। আর করোনাভাইরাসে মৃতের মোট সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৩ হাজার ৩৯৯। আক্রান্তদের মধ্যে এক দিনে আরও ১ হাজার ৯৫৫ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তাদের নিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ৭৮ হাজার ৪২১ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা নগরীসহ জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী কমেছে। আগের দিনের ৯১৬ জন থেকে কমে ৪৭৩ জন শনাক্ত হয়েছে। তবে রাজশাহীতে নতুন রোগীর সংখ্যা ৩৩৪ জন থেকে বেড়ে ৩৫৯ জন, যশোরে ২০৩ জন থেকে বেড়ে ২৯১ জন, চট্টগ্রাম ১৬৯ জন থেকে বেড়ে ২২২ জন, খুলনায় ১৮১ জন থেকে বেড়ে ২২৬ জন হয়েছে। এছাড়া টাঙ্গাইলে ১৪৫ জন এবং কুষ্টিয়ায় ১৫৬ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে গত এক দিনে।
বিভাগওয়ারি হিসেবে খুলনায় ১০৩৩ জনের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে গত এক দিনে, যা সারা দেশে মোট শনাক্তের ২৭ শতাংশ। আগের দিন খুলনা বিভাগে শনাক্ত হয়েছিল মোট ৮১৮ জন। রাজশাহীতে দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৮১৩ জন থেকে বেড়ে ৮১৮ জন হয়েছে। ঢাকা বিভাগে ১৩২৮ জন থেকে কমে হয়েছে ৯৪৫ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৫২৮টি ল্যাবে ২০ হাজার ৮৮২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৬২ লাখ ৮৮ হাজার ৫৩৯টি নমুনা। দেশে এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯২ দশমিক ১২ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫৯ শতাংশ।
ঢাকা বিভাগে পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার আগের দিনের ১২ দশমিক ৩২ শতাংশ থেকে কমে ১০ দশমিক ৫৭ শতাংশ হয়েছে। রাজশাহী বিভাগে ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমে ১৫ শতাংশ এবং খুলনা বিভাগে ৪০ শতাংশ থেকে কমে ৩৭ শতাংশ হয়েছে। কিন্তু চট্টগ্রামে এই হার আগের মতোই ১৫ শতাংশের ঘরে রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন, তাদের ১৫ জনই ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের বাসিন্দা। ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগে মারা গেছেন ১২ জন করে। এছাড়া ৮ জন খুলনা বিভাগের, ৫ জন বরিশাল বিভাগের, ২ জন সিলেট বিভাগের এবং ১ জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন। তাদের ৩৫ জন পুরুষ আর ১৯ জন নারী। তাদের ৫১ জন সরকারি হাসপাতালে, ১ জন বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান। বাসায় মারা যান ২ জন। মৃতদের মধ্যে ২৬ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি, ১৫ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৭ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ৫ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে এবং ১ জনের ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ছিল। এ পর্যন্ত মৃত ১৩ হাজার ৩৯৯ জনের মধ্যে ৯ হাজার ৬২৩ জন পুরুষ এবং ৩ হাজার ৭৭৬ জন নারী।