সংগীতাঙ্গনে সেতার মায়েস্ত্রো হিসেবে পরিচিত পণ্ডিত রবিশঙ্কর। মেয়ে আনুষ্কা শঙ্করকে ভারতীয় সংগীতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। বিভিন্ন দেশের শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেও নিজের শেকড় ভুলে যাওয়া যাবে না বাবার এ শিক্ষা মনে রেখেছেন আনুষ্কা। লিখেছেন মুমিতুল মিম্মা
আত্মপ্রকাশ
১৯৯৬ সালের কথা। ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান ডিয়েগোতো অ্যাকাডেমির শরৎকালীন সেমিস্টার চলছে। আনুষ্কা শঙ্কর তখন দশম শ্রেণির ছাত্রী। হুট করে ক্লাস মিস দিতে হলো তাকে। ক্লাস মিস করার পেছনের কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা গেল ভারতের বাইরে বাবা পণ্ডিত রবিশঙ্করের সঙ্গে একই কনসার্টের একই মঞ্চে সেতার শিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ হবে তার। একজন আন্তর্জাতিক সেতার শিল্পী হয়ে ওঠার যাত্রায় এই দিনটি নিঃসন্দেহে মাইলফলক। বাবা ভারতীয় সুরকার ও সেতার মাস্টার। ভারতীয় সংগীতাঙ্গনের সবচেয়ে প্রভাবশালী শিল্পীর মেয়ে হিসেবে বাবার সঙ্গে কার্নেগি হল কনসার্টের মঞ্চে উঠলেন তিনি।
১৯৯৮ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো তার অ্যালবাম প্রকাশিত হয়। বাবা রবিশঙ্করই অ্যালবামের সমস্ত গান লিখেছিলেন। এমনকি অ্যালবামটি প্রযোজনাও করেছিলেন তিনি। একই বছর আনুষ্কা উচ্চ মাধ্যমিকে সেরা ফলাফল নিয়ে পাস করে বের হন। চারটি ভাষায় সাবলীল মানুষ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন। কিন্তু কী মনে হতেই এক বছরের জন্য সেই আবেদন স্থগিত করলেন। তিনি ভেবে দেখলেন তার সমবয়সী বন্ধুরা আবেদন করছেন, ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন কিন্তু তিনি তার বাবার সঙ্গে দেশে-বিদেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সংগীত নিয়ে তার যে যাত্রা শুরু হয়েছিল সেটির পূর্ণরূপ দিতেও বাবা রবিশঙ্কর তার মেয়েকে নিয়ে ছুটে চলেছেন। সে এক বছর যেন নিমেষেই কেটে গেল। তিনি দেখতে পেলেন তার জীবনের লক্ষ্য ইতিমধ্যেই নির্ধারিত হয়ে গেছে। এখনো পর্যন্ত আনুষ্কার মনে হয় না যে, তিনি তখন ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ১৭ বছর বয়সের আর দশটা কিশোরীর মতো তিনি আকাশকুসুম কল্পনা করছিলেন। তিনি জানান, ‘আমি আমার সংগীত যাত্রার জন্য তৈরি ছিলাম। শব্দের চেয়েও শৃঙ্খলিত পথে চলতে হয়েছে আমাকে। ধ্রুপদী শিল্প শেখার পথে জড়িয়ে ছিলাম আমি। কিন্তু সঙ্গে এও সত্যি যে আমি কোনো দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা নিয়ে সে পথে এগোইনি।’
বাবার ছায়া
১৯৯২ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলীয় শহর এনসিনিটাসে চলে আসে রবিশঙ্করের পরিবার। এখানে আসার পরেই বাবা রবিশঙ্কর আনুষ্কাকে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত শেখানো নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। তখন আনুষ্কার বয়স মাত্র ১১ বছর। পৃথিবীজুড়ে সংগীতাঙ্গনের সব বিখ্যাত শিল্পীদের সঙ্গে পরিচিত রবি প্রতিটি দেশের শিল্প-সংস্কৃতির প্রতিই শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। কিন্তু নিজের সংস্কৃতিকে কী করে মেয়ের ভেতরে বুনে দেবেন তা নিয়ে বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েন তিনি। বাইরের কারও গুরু হওয়া যতটা সহজ ঠিক ততটাই কঠিন নিজের ঘরের কারও বিশেষত নিজের সন্তানের গুরু হওয়া। কিন্তু বাবা রবিশঙ্কর তার মেয়ের ভেতরে ভারতীয় সংস্কৃতির বীজ বপনে যে সামান্য ভুল করেননি তা তো দেখাই যাচ্ছে। পরিবারের যে কারও কাছে তিনি ছিলেন বন্য। যখন তাকে প্রশ্ন করা হয় এখনো ঠিক ততটাই বন্য আছেন কি না উত্তর পাওয়া যায়, ‘আমি অদ্ভুতভাবে নিজস্ব জগতের মধ্যে ছিলাম। সারা বিশ্বে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বন্ধু ছিল আমার। বন্ধুরা ছিল উচ্ছল। বন্ধুদের ভেতরে গেলে আমিও অন্যরকম হয়ে যেতাম। অস্থির হিসেবে পরিচিত ছিলাম সবার কাছে। কিন্তু আমার বাবা-মা আমাকে খুব ব্যক্তিত্ববাদী (ইন্ডিভিজ্যুয়ালিস্টিক) হিসেবে বড় করেছেন। কঠোর ও ঐতিহ্যবাহী হিসেবে তারা পরিচিত ছিলেন। সেখান থেকে চুপিসারে বেড়ে ওঠা কঠিন। ভিন্নরকম হওয়াও কঠিন। আমি অস্থির ছিলাম কিন্তু একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রিতও ছিলাম। একই বছর আমি হয়তো চুপিসারে কোনো পার্টিতে যাব বলে বেরিয়েছিলাম, হয়তো আমি কার্নেগি হলে খেলছিলাম। আবার সে বছরই হয়তো আমি দিনে চার ঘণ্টা পারফর্ম করছিলাম। পরিবারে অধ্যবসায়ী ও ভালো মেয়ে হিসেবে খ্যাতি ছিল আমার। আবার একই সঙ্গে সেই কিশোরী মেয়েটিই বন্য হয়ে যেতে চেয়েছিল। বন্ধুদের আড্ডায় হারিয়ে যেতে চেয়েছিল।’
কৈশোরের কঠোর দিনগুলো
কৈশোরে পৌঁছানোর আগেই আনুষ্কাকে সেতার শিখতে ও অনুশীলন করতে হয়। প্রতিদিন নিয়মিতভাবে দিনের বেশ কয়েক ঘণ্টা বরাদ্দ রাখতে হয় সেতার বাজানোর জন্য। সেই দিনগুলোর কথা মনে করতে গিয়ে আনুষ্কার মনে হয় সেতারের ১৯ তার যেন তার বাবারই প্রতিশব্দ। বাবাই ছিলেন তার একমাত্র শিক্ষক। কিন্তু পণ্ডিত রবিশঙ্করের কাছে আনুষ্কাএকই সঙ্গে কন্যা, একই সঙ্গে শিষ্য। শেখার বিষয়টি কি খুব চাপ হয়ে যেত কিশোরী আনুষ্কার কাছে? এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাবা তার কাছে ততটাই দাবি করতেন যতটা তার জন্য অতিরিক্ত না হয়ে যায়। তার অন্যান্য শিক্ষার্থীর কাছে তিনি হয়তো আরও বেশি কিছু দাবি করতেন। কারণ তারা বয়সে বড় ছিলেন এবং তাদের কাছে উন্নত প্রযুক্তি ছিল। কিন্তু কিশোরী আনুষ্কাকে প্রযুক্তির ধারেকাছে যেতে না দিয়ে দক্ষিণ ভারতীয় কার্নাটিক শৈলী ও উত্তর ভারতের হিন্দুস্তানি শৈলী দুটোই আয়ত্তে আনতে হয়েছে। এই দুই সংগীত শৈলীই অত্যন্ত জটিল। নিখুঁত মনোযোগ ও গভীর অনুভূতির সঙ্গে সেরা শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে এই শিল্পের চর্চা করে যেতে হয়। একজন সংগীতজ্ঞ হিসেবে তিনি তার শিষ্যের কাছ থেকে সেরাটুকু বের করে আনতে বদ্ধপরিকর ছিলেন। কিন্তু সেই দিনগুলোতে কঠোর পরিশ্রমের ভেতর দিয়ে আনুষ্কাকে প্রতিটি বিষয় মনে রাখতে হয়েছে। ১০ বছর থেকে বাবার হাতে তার তানপুরার পাঠ শুরু হয়। বাবার ইচ্ছেতেই কম বয়সেই তাকে সংগীতের সঙ্গে মঞ্চে খাপ খাইয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
প্রথম কনসার্ট
আনুষ্কার বয়স তখন মাত্র ১৩ বছর। ১৯৯৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি নয়াদিল্লির সিরি ফোর্টে বাবার সঙ্গে প্রথমবারের মতো কনসার্টে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। পণ্ডিত রবিশঙ্করের ৭৫তম জন্মদিন উদযাপনের অংশ হিসেবে আনুষ্কাকে প্রথম সেতার পরিবেশনা করতে হয়। জীবন্ত কিংবদন্তির মেয়ে ও শিক্ষক হিসেবে বাবাকে পেয়ে ভিন্নরকম শৈল্পিক স্তরের মানুষে পরিণত তিনি। কিন্তু বয়সের হিসেবে কিংবা রোজ স্কুলে উপস্থিত হয়ে পাশাপাশি দুটো ভিন্নরকম আবহ ধরে রাখা বেশ কঠিন বলে স্কুলে পড়াকালীন তিনি কনসার্ট করা ছেড়ে দেন। ১৯৯৫ সালে ইউনিয়ন ট্রিবিউনের এক সাক্ষাৎকারে রবিশঙ্কর তার ১৫ বছর বয়সী মেয়ে সম্পর্কে মন্তব্য করেন, ‘আনুষ্কা খুব প্রতিভাবান।’
একই সঙ্গে স্কুল ও সংগীতের মতো ভিন্ন দুটো বিষয় সামলাতে হচ্ছে বলে তিনি জানান, ‘সে পিয়ানো পাঠ শিখেছে এবং পশ্চিমা সংগীত করছে। ভারতীয় সংগীতের বাইরে এতেও সে খুব ভালো। কিন্তু এরপরেও তাকে তার সমস্ত পড়াশোনা করতে হবে এবং স্কুলে যেতে হবে। বেচারা! আমি তার জন্য খুব দুঃখিত। আমাকে এসব করতে হয়নি। আমি শুধু সংগীতে আমার পুরো মনোযোগ ও শক্তি দিয়েছি।’ বিপরীতে আনুষ্কা তার ছেলেবেলাকে স্মরণ করতে গিয়ে জানান, ‘আমার মনে হয়েছিল আমি প্রেশার কুকারের মধ্যে ক্ষতবিক্ষত হচ্ছিলাম।’ বাবার মতোন হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে ডিফল্ট সেটিং অর্জনের চেষ্টায় তার পুরো ছেলেবেলা কেটেছে। কঠোর পরিশ্রম ও ব্যস্ততার জন্য তার সমবয়সীদের কাছ থেকে খানিকটা আলাদা করে রেখেছিল। আবার সব ঠিকঠাক করে উঠতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। পুরো যাত্রাটিই ছিল অবিশ্বাস্য রকমের কঠিন। এখনকার হিসেবে হয়তো আনুষ্কার সে সব কিছু চাপের নয়। স্কুলে, মঞ্চে বা সমবয়সী ও পরিবারের সঙ্গে সবকিছু ঠিকঠাকভাবে চালিয়ে নেওয়ার জন্য, সবখানে সবকিছু সুন্দর করে করার খুব চাপ ছিল। মজার বিষয় হচ্ছে সেই ছেলেবেলার কোনোকিছুই অবশ্য বড় বেলায় এসে পরিবর্তন করতে চান না তিনি। ‘কোনো জাদুবলে যদি আমার কাছে অতীতে ফিরে যাওয়ার উপায় থাকত আমি ফিরে যেতাম না, আবার কোনোকিছু পরিবর্তনও করতাম না। আমি আমার কঠোর পরিশ্রমের ছেলেবেলাকে ভালোবাসি ও লালন করি।’
বাবার ছায়ার বাইরে
সাবেক স্বামী চলচ্চিত্র নির্মাতা জো রাইট ও আনুষ্কা শঙ্করের দুই ছেলে রয়েছে ১০ বছর বয়সী জুবিন ও ৫ বছর বয়সী মোহন। আনুষ্কাও কি তার বাবার মতো করে সন্তান লালন পালনের পথে হাঁটবেন? সে প্রসঙ্গে তিনি জানালেন, ‘আমি যখন আমার বাবার সঙ্গে পড়াশোনা শুরু করি তখন আমি বেশ ছোট। কিন্তু আমার বাচ্চারা তার চেয়েও ছোট। আমি সত্যিই আমার বাচ্চাদের এভাবে শেখানোর পক্ষপাতী নই। শিল্পে তাদের উৎসাহ থাকলে তাদের সে রাস্তায় উৎসাহ দেব আমি। কিন্তু একই সঙ্গে এটি মানসিক ভারসাম্য রাখার একটি বিষয়ও। আমি মনে করি বাচ্চারা সৃজনশীল। এই বয়সেই আমি বলতে পারি না যে, আমার বাচ্চারা প্রতিভাবান। কিন্তু তারা মুহূর্তের ভেতরে সংগীতে সাড়া দেয়। দুর্দান্ত ছন্দজ্ঞান পেয়েছে তারা।’
সংগীতভাবনায় বাবা
নিজের সংগীতভাবনা নিয়ে জানান, ‘কিছু কারণে সংগীতের সঙ্গে আমার সম্পর্ক শিথিল হয়েছে। যখন ছোট ছিলাম সংগীতের কিছু জায়গায় আমার নিজের শক্ত দখল ছিল। বাবার জন্যই মূলত সেই শক্ত জায়গাটুকু ধরে রাখতে পেরেছিলাম তখন। দেশ-বিদেশে কনসার্ট করার বিষয়টি আগে আমার প্রথম অগ্রাধিকার ছিল। কিন্তু এখন আর সেটা নেই। কিন্তু বিপরীতভাবে এও সত্য যে, এটি আমার সংগীতকে অনেক সহজ করে তুলেছে।’
আনুষ্কা তার সৎবোন নোরা জোন্স, বেহালাবাদক জোশুয়া বেল, স্টিং র্যাপার এমআইএ, অভিনেত্রী ভেনেসা রেডগ্রেভ ও মেক্সিকান গিটার জুটি রড্রিগো ওয়াই গ্যাব্রিয়েলার মতো বৈচিত্র্যময় শিল্পীদের সঙ্গে সংগীত আয়োজনের কাজ করেছেন। সংগীতের অবদানের জন্য ছয়টি গ্র্যামি পুরস্কারে মনোনয়ন পেয়েছেন। বিশ্বের বেশ কয়েকটি মর্যাদাপূর্ণ কনসার্টে শিল্পী হিসেবে কাজ করেছেন। জাতিসংঘ ও পিইটিএ (People for the Ethical Treatment of Animals)-এর সঙ্গে কাজ করেছেন সঙ্গে পেয়েছেন আন্তর্জাতিক সম্মাননা। বিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিন তাকে ‘এশিয়ান হিরো’ হিসেবে মনোনীত করেছে। ২০১৯ সালের আনুষ্কার ১২শ অ্যালবাম ও নিজের প্রথম সংকলন ‘রিফ্লেকশন’ প্রকাশিত হয়। সেই অ্যালবামে বাবা ও বোন নোরা জোন্সের সঙ্গে করা গান স্থান পেয়েছে। এই অ্যালবামের ১৫টি গান হাতেকলমে দেখিয়েছিল আনুষ্কা ভারতীয় সংগীতশিল্পে কতটা পারদর্শী।
তিনি বলেন, ‘আমি কিশোর বয়সে সংগীত ও যন্ত্রকে যতটা অনুভব করতাম, এখন তারচেয়েও বেশি করে অনুভব করি। যা ভালোবাসি তা জীবিকা হিসেবে নেওয়ার বিষয়ে আমার একটি নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে এখন আমার।’ ‘লাভ লেটারস’ অ্যালবামের জন্য সপ্তমবারের মতো ২০২১ সালের গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন তিনি।
রবিশঙ্করের শেষ বয়সে তিনি অনেক সাক্ষাৎকারেই আবেগাপ্লুত হয়ে জানিয়েছিলেন, ‘আমি আনুষ্কার বাবা হিসেবে পরিচিত হতে চাই’। ২০১০ সালে এনডিটিভির সরাসরি এক সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেছিলেন, ‘আমার মেয়ে হিসেবে নয়, আনুষ্কাকে শিক্ষার্থী হিসেবেই বলছি আমি তাকে নিয়ে গর্ববোধ করি। আনুষ্কা আমার সেরা ছাত্রী ও শিষ্য।’ ২০১২ সালে রবিশঙ্কর মারা যাওয়ার আগে জেনে যেতে পারেননি যে, আনুষ্কা ও তার বাবা দুজনেই পৃথক অ্যালবামের জন্য ২০১৩ সালে ‘সেরা বিশ্ব সংগীত’ ঘরানায় গ্র্যামি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন।