পাবনার সুজানগর উপজেলার দুলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম শাহজাহানের বিরুদ্ধে করোনাকালীন জিআর ও ভিজিএফ উপকারভোগীদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অর্থ আত্মসাতের তথ্য-প্রমাণ দিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগীরা জানান, ‘পবিত্র ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত অসহায় ও দুস্থ মানুষের জন্য জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে বরাদ্দ দেন। দুলাই ইউনিয়নে ১৫০ দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তি এ বরাদ্দ পায়। চেয়ারম্যান শাহজাহান উক্ত বরাদ্দ থেকে জনপ্রতি ৫০ টাকা কর্তন করে সুবিধাভোগীদের ৪৫০ টাকা করে দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে কেটে নেয়া ৭৫০০ টাকা চেয়ারম্যান আত্মসাৎ করেছেন’।
তাদের অভিযোগ, ‘ভিজিএফ কার্ডধারী বেশ কিছু দুস্থ ও অসহায়দের জন্য বরাদ্দকৃত জনপ্রতি ৪৫০ টাকা না দিয়ে, নিজস্ব লোক দিয়ে ভুয়া স্বাক্ষর ও টিপসই দিয়ে মাস্টাররোল পূরণ করেছেন’।
এসব বিষয় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি ভুক্তভোগীদের।
আন্ধারকোটা গ্রামের বাছেদ আলী, হুমায়ুন আহমেদ অভিযোগ করেন, ‘ঈদের আগে আমাদের ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত অর্থ দেওয়া হয়। এ সময় ৫০০ টাকার স্থলে ৪৫০ টকা দেওয়ায় আমরা কারণ জানতে চাইলে চেয়ারম্যান ‘যা দিয়েছি তাই নিয়ে ভাগ’ বলে বের করে দেন। তালিকাভুক্ত ১৫০ জনকেই ৫০ টাকা করে কম দেওয়া হয়েছে’।
তারা আরও বলেন, ভিজিএফ তালিকায় যাদের নাম আছে অনেককেই চেয়ারম্যান টাকা দেয়নি। নিজস্ব ক্যাডারদের দিয়ে জাল সই করে প্রায় ১৫০ জনের বরাদ্দের টাকা তুলে নিয়েছে। যার প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। আমরা এই দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যানের শাস্তি চাই।
এদিকে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি করেছে উপজেলা প্রশাসন।
তদন্ত কমিটির সদস্য ও সুজানগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাজমুল হুদা জানান, আমরা সরেজমিনে ঘটনা তদন্ত করেছি। ভুক্তভোগীদের বক্তব্য ও পরিষদের নথিপত্র যাচাই করা হয়েছে। শিগগিরই রিপোর্ট দেওয়া হবে। আমরা প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্তাধীন বিষয়ে এর বেশি বলা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওশন আলী বলেন, আমরা অভিযোগ খতিয়ে দেখছি। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পেলে বিষয়টি স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ ‘অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে দুলাই ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম শাহজাহান বলেন, ‘আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে স্থানীয় একটি চক্র ষড়যন্ত্রে নেমেছে। বানোয়াট অভিযোগ করে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা হচ্ছে’।
দুলাই ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম শাহজাহানের বিরুদ্ধে এর আগেও নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগে বলা হয়, ভুয়া বিজ্ঞাপনে দুলাই হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে নিয়োগ বাণিজ্যের চেষ্টা করে দোষী সাব্যস্ত হলে, শিক্ষকদের মারধর করেন তিনি। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে বিষয়টি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।