করোনাভাইরাসের টিকার বুস্টার ডোজ দেওয়ার ব্যাপারে এখনই পরিকল্পনা নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের চিকিৎসকরা এবং জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা এনএইচএস ট্রাস্ট। তবে এই বুস্টার ডোজ বা টিকার কার্যকারিতা নিয়েও বেশ কিছু প্রশ্ন তুলেছেন চিকিৎসকরা।
তাদের মতে, করোনাভাইরাসের টিকা নেওয়ার পর এর প্রতিরোধব্যবস্থা শরীরে কত দিন কার্যকর থাকে, এই প্রশ্নের উত্তর জানা দরকার। শিশুদের এই টিকা দিতে হবে কি না, সেটাও জানা দরকার।
শিশুদের টিকা দেওয়া প্রসঙ্গে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ‘শিশুদের যে টিকা দেওয়া হচ্ছে, সেটি জরুরি ভিত্তিতে। কিন্তু আমরা এভাবে চলতে পারি না।’ যুক্তরাজ্য সরকারও টিকার বুস্টার ডোজ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। তবে এই বছরের শেষের দিকে এই ডোজ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সরকার। আর এটা নির্ভর করবে টিকার ডোজের ট্রায়ালের পরিসংখ্যানের ওপর। যুক্তরাজ্য ছাড়া অন্য কোনো দেশ এখনো টিকার বুস্টার ডোজ দেওয়ার ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তবে কয়েকটি দেশ টিকার দুই ডোজের জায়গায় তৃতীয় ডোজের কথা বলছে। যদিও তৃতীয় ডোজ কতটা কার্যকরী বা শরীরে এর প্রতিক্রিয়া কেমন হতে পারে, এসংক্রান্ত কোনো গবেষণা এখনো হয়নি।
করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে যে দেশগুলো এগিয়ে রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম যুক্তরাজ্য।
দেশটির শতকরা ৬০ ভাগ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে ইতিমধ্যে টিকা দেওয়া হয়েছে। এই ৬০ শতাংশ টিকার দুই ডোজই পেয়েছেন। এ ছাড়া প্রতি পাঁচজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির মধ্যে চারজন এক ডোজ টিকা পেয়েছেন। করোনাভাইরাসের ডেল্টা ধরন ছড়িয়ে পড়ার পর যুক্তরাজ্য সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো ১৮ বছরের বেশি যে কেউ করোনাভাইরাসের টিকা নিতে পারবেন। এরপর থেকে দেশটির টিকাদান কেন্দ্রগুলোয় গ্রহীতাদের ভিড় বেড়েছে। শুধু শুক্র ও শনিবারের জন্য ইংল্যান্ডে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য ১০ লাখ টিকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যে বিধিনিষেধ বহাল থাকার পরও সংক্রমণ বাড়ছে। গত রবিবার দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন করে ৯ হাজার ২৮৪ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। আর মারা গেছে ছয়জন। করোনার সার্বক্ষণিক তথ্য সরবরাহকারী ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারসের পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশটিতে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৪৬ লাখ ৩০ হাজারের বেশি। আর মারা গেছে ১ লাখ ২৭ হাজারের বেশি। সুস্থ হয়েছে ৪৩ লাখের বেশি রোগী।