করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে রাজধানীর উপকণ্ঠ মুন্সীগঞ্জে কঠোর লকডাউন চলছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে জেলার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর সাথে সড়ক ও নৌপথের সকল ধরনের যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এক প্রকার রাজধানী ঢাকার সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে জেলার ৬টি উপজেলা।
একই সঙ্গে বন্ধ রয়েছে জেলার শপিংমল ও দোকানপাটও। এতে করে শহরে মানুষের আনাগোনা কম লক্ষ্য করা গেছে।
এদিকে, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ ১০টি পয়েন্টে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। চেকপোস্ট দিয়ে জেলার ভেতরে বহিরাগতদের প্রবেশ রোধ ও জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে বাইরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।
মঙ্গলবার ভোর থেকে জেলার লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে লকডাউনের আওতামুক্ত গাড়ি পারাপারে এ নৌরুটে ফেরি চলাচল করছে। ফেরিতে পণ্যবাহী ও জরুরি গাড়ি ছাড়া কোনো ধরনে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে না।
বিআইডাব্লিউটিসি শিমুলিয়া ঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) প্রফুল্ল চৌহান জানান, শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে বর্তমানে ১৪টি ফেরি সচল রয়েছে। এসব ফেরি দিয়ে দিয়ে শুধুমাত্র কাঁচামাল, পণ্যবাহী গাড়ি ও জরুরি রোগীবাহী গাড়ি পার করা হচ্ছে। সাধারণ যাত্রী পারাপার বন্ধ রয়েছে। ঘাটে গাড়ির চাপ নেই।
সদর থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক জানান, শহরের উপকণ্ঠ মুক্তারপুর এলাকার ষষ্ঠ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর টোল প্লাজার সামনে একটি চেকপোস্ট করা হয়েছে এবং সকাল থেকে মুন্সীগঞ্জ থেকে নারায়ণগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সীগঞ্জ যাত্রীদের বাধা প্রদান করা হচ্ছে। মুন্সীগঞ্জের নৌপথে লঞ্চ ঘাট থেকে কোনো লঞ্চ ছেড়ে যায়নি।
সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, গেল ২৪ ঘণ্টায় এ জেলায় নতুন করে ৪ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ৩৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় এ শনাক্ত হয়। তাদের মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত জেলায় ৫ হাজার ৮৮৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, জেলায় কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।