যশোরে করোনাভাইরাসে মৃত্যু ও শনাক্তের হারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি। ১৫ দিনের ব্যবধানে জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে।
সোমবার সকাল থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় যশোরে ৫২৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৫৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. শাহনেওয়াজ। শনাক্তের হার ৪৮ শতাংশ।
এ ছাড়া যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আখতারুজ্জামান জানান, করোনা আক্রান্ত হয়ে ৬ জন এবং উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ জন মারা গেছেন হাসপাতালে।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের করোনা ডেডিকেটেড ইউনিটে ভর্তি আছেন ৮৯ জন এবং আইসোলেশন ওয়ার্ডে আছেন ৬৫ জন।
এদিকে যশোরে করোনা আক্রান্তের সংখ্যার বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জেলা প্রশাসন। করোনা প্রতিরোধে গঠিত যশোর জেলা কমিটির মিডিয়া সেল থেকে মঙ্গলবার জেলার সার্বিক পরিস্থিতি উল্লেখ করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গত ১৫ দিনের জেলার করোনা পরিস্থিতির সার্বিক তথ্য তুলে ধরা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. সায়েমুজ্জামান উল্লেখ করেন, গত ১৫ দিনে যশোরে মোট ২২৭৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে।
এ সময়ে শেষ ১৫ দিনে গড়ে আক্রান্তের হার প্রায় ৪৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অথচ গত ৫ জুনের আগের ১৫ দিনে শনাক্তের হার ২২ শতাংশ ছিল। গত ১৫দিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২২৭ জন। গত পনেরো দিনে মারা গেছে ২৯ জন।
এছাড়াও ভারত ফেরত যাত্রীদের মধ্যে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন শেষে পরীক্ষা করে এ পর্যন্ত ৬৬ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের বাধ্যতামূলক হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, যশোরের ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে কোভিড রোগীদের ৮০ শয্যার রেড জোনে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। রেড জোনে ৮০ শয্যার বিপরীতে বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন ৯২ জন। কভিড উপসর্গ থাকা রোগীদের জন্য হাসপাতালের ইয়েলো জোনে ২২ শয্যা রয়েছে।
এ জোনে ২২ শয্যার বিপরীতে ভর্তি রয়েছেন ৪৫ জন। রেড জোন ও ইয়েলো জোন মিলিয়ে ১০২ টি শয্যার বিপরীতে ১৩৭ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্তমানে করোনা রোগীদের চিকিৎসায় ৯ জন ডিউটি ডাক্তার ও ৪ জন কনসালটেন্ট রয়েছেন।
২০ জন নার্স রয়েছেন। এ হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। দুই এক দিনের মধ্যে গ্যাস রিফিল করে চালু করা হবে।
হাসপাতালে এ মুহূর্তে প্রতিটি সিলিন্ডারে ৬ হাজার ৮০০ লিটার অক্সিজেন ধারণ ক্ষমতার ৪৮টি সিলিন্ডার মজুত আছে। হাসপাতালে তিনটি ভেন্টিলেটর চালু রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।
আরও জানানো হয়, করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় জেলা ও স্বাস্থ্য প্রশাসন নিবিড় চিকিৎসা সহায়তা দেয়ার জন্য বেসরকারি সংস্থা সাজেদা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে চুক্তি করেছে।
ফাউন্ডেশনের ১০ জন চিকিৎসক, ১২ জন স্টাফ নার্সসহ আরও ২৭ জন স্টাফ হাসপাতালে যোগ দিয়েছেন।
এ ছাড়া ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ফিমেল পেয়িং ওয়ার্ড ও এইচডিইউ ইউনিটকে রেড জোনের আওতাভুক্ত করে ৫০টি শয্যা বাড়ানো হচ্ছে। স্থানীয় উদ্যোগে আইসিইউ ইউনিটের আরও ৫টি ভেন্টিলেটর শিগগিরই চালু করা প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এ ছাড়া ভারত ফেরত যাত্রীদের মধ্যে কোয়ারেন্টাইন শেষে শনাক্তকৃত উপসর্গবিহীন করোনা রোগীদের আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় বেসরকারি জনতা হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়েছে। এ হাসপাতালে ৩০ জনকে রেখে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করা হয়।