জয়া আহসানের ভক্ত আট থেকে আশি- সব বয়সী দর্শক। নানামাত্রিক অভিনেত্রী তিনি। শুধু অভিনয় নয়, জয়ার সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব মুগ্ধ করে দর্শককে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই আলোচিত হন এই তারকা। তিনি বাংলাদেশকে বিশে^র দরবারে গৌরবের সঙ্গে তুলে ধরেছেন। পেয়েছেন মাদ্রিদ ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার, একাধিকবার বাংলাদেশের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও ভারতের স্বনামধন্য ফিল্মফেয়ার পুরস্কার, জি সিনে অ্যাওয়ার্ড, সেরা বাঙালি পুরস্কার, ভারত-বাংলাদেশ ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড, আমেরিকায় বাংলা সিনেমা পুরস্কারসহ অনেক সম্মাননা।
শুধু সাধারণ মানুষ নয়, শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও তার ভক্ত। তার কাজ তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে। সম্প্রতি সরকারি অনুদানের সিনেমার তালিকায় প্রযোজক হিসেবে রয়েছে জয়া আহসানের নামও। তিনি ‘রইদ’ নামের একটি সিনেমার জন্য অনুদান পেয়েছেন। এটি নির্মাণ করবেন মেধাবী নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন। এর আগেও জয়া হুমায়ূন আহমেদের ‘দেবী’ উপন্যাস অবলম্বনে সিনেমা নির্মাণের জন্য সরকারি অনুদান পেয়েছিলেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সিনেমাটি নির্মাণ করে শুধু মুক্তিই দেননি। সে বছরের সফল সিনেমার একটি ছিল এটি। তাই জয়া প্রযোজিত দ্বিতীয় সিনেমাটি নিয়েও আশাবাদী সিনেমাপ্রেমীরা। কিন্তু এ বিষয়ে এখনই কিছু বলতে নারাজ তিনি। দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি আনন্দিত ও সম্মানিত যে দ্বিতীয়বারের মতো আমার পছন্দের চিত্রনাট্যকে সরকার অনুদানের জন্য যোগ্য মনে করেছে। এর ফলে আমার আরেকটি স্বপ্নপূরণ হবে। কারণ একটি ভালো সিনেমা বানানোর জন্য যে অর্থ দরকার তা আমার একার পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। আর যাদের সামর্থ্য আছে তারা সিনেমায় ইনভেস্ট করতে চায় না। দেবী প্রযোজনা করার জন্য অনেকের কাছে গিয়েছি। কিন্তু তারা আমাকে মুখের ওপর না করে দিয়েছেন। পরে সরকারি অনুদান ও নিজে মিলে কাজটি তুলে আনি। এবারও সেভাবে কাজ করব। এখন চিত্রনাট্য তৈরির কাজ চলছে। শুধু পরিচালক ছাড়া আর কোনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি। আমি সেখানে অভিনয় করব কি না সে বিষয়েও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সঠিক সময়ে সবাইকে জানিয়েই কাজটি করব। কারণ সবার সাপোর্ট দরকার আমার। বিশেষ করে সংবাদমাধ্যমের সাপোর্ট না থাকলে আমরা কাজগুলো মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারতাম না।’
করোনার জন্য টানা সিনেমার শ্যুটিং করতে পারছেন না জয়া আহসান। বিশেষ করে ভারতে করোনা পরিস্থিতি খুব খারাপ। তাই তার অনেকগুলো সিনেমার কাজ আটকে আছে। জয়া বলেন, ‘করোনার প্রথম ঢেউয়ের পর মাঝে সংক্রমণ কিছুটা কমে এসেছিল। তখন অনেকেরই কাজে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎই দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণ বহু গুণ বেড়ে যায়। লকডাউন ঘোষণা করে ভারত সরকার। বাতিল হয়ে যায় সব শিডিউল। পশ্চিমবঙ্গে মুক্তির অপেক্ষায় আছে আমার অভিনীত অনেকগুলো ছবি। একাধিক নতুন ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়ে আছি। লকডাউনের কারণে সেগুলোর শ্যুটিং হচ্ছে না। কবে শুরু হবে, তাও অনিশ্চিত। তবে শ্যুটিং-পূর্ববর্তী কাজগুলো এগিয়ে নিচ্ছি। আপাতত চরিত্রের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। প্রি-প্রোডাকশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এটা অনেকটা দালানের ভেতরের মতো। চিত্রনাট্য পড়া, ভিডিও কলে মিটিং করতে হচ্ছে।’
তবে ছোট শিডিউলের কাজগুলো করছেন তিনি। জয়া এ সপ্তাহেই একটি বিজ্ঞাপনের কাজ শেষ করেছেন। এটি নির্মাণ করেছেন আদনান আল রাজীব। জয়া বলেন, ‘এটিই আদনান আল রাজীবের পরিচালনায় প্রথম কাজ। তিনি আমাদের দেশের অন্যতম মেধাবী বিজ্ঞাপন নির্মাতা। তার কাজটি তিনি জেনে-বুঝেই করেন। আমার কাজের অভিজ্ঞতা অসাধারণ। তবে কী পণ্যের বিজ্ঞাপন সেটি এখন বলা নিষেধ আছে এজেন্সি থেকে।’
জয়া আহসান সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ সরব। দেশের বিভিন্ন আলোচিত ইস্যুতে তিনি সোচ্চার হন। সম্প্রতি পরীমণির ঘটনায়ও তিনি মুখ খুলেছিলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘#মিটু নারীদের জন্য একটা ইতিবাচক প্ল্যাটফর্ম বলেই মনে করি। এই আন্দোলনের ফলেই বিশে^র নানা দেশের নারী শিল্পীরা তাদের ওপর ঘটে যাওয়া যৌন নির্যাতনের কথা মানুষের সামনে বলতে পেরেছেন। দোষীদের পরিচয় সবার সামনে নিয়ে এসেছেন। আজকে পরীমণির ঘটনাটিও সেই ধারাবাহিকতায় এসেছে। তবে আমি বেশি সাধুবাদ তাদেরই জানাই যারা ঘটনা ঘটা মাত্রই প্রতিবাদ করেন। অনেক দিন পর প্রতিবাদ করলে তা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় মানুষের মনে। সবার মতো আমিও চাই পরীমণির ঘটনারও সুষ্ঠু তদন্ত হোক। কোনো নারীই যেন এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে না যায়। এজন্য পারিবারিক ও সামাজিক শিক্ষার বিকল্প নেই।’