প্যারিসের ফাইনাল পুনর্মঞ্চায়নে চাপে পর্তুগাল

প্রথম রাউন্ড শেষে জার্মানিকেই মনে হচ্ছিল এফ গ্রুপে সবচেয়ে দোদুল্যমান দল। আর সবচেয়ে নিরাপদ পর্তুগাল। দ্বিতীয় রাউন্ড শেষে সেই অবস্থান বিপরীত। নকআউট থেকে মাত্র একটি ড্র দূরে জার্মানি। হাঙ্গেরির বিপক্ষে যে চ্যালেঞ্জ আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া জার্মানদের জন্য কঠিন কিছু না। কিন্তু এই হাঙ্গেরিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে শুরু করা পর্তুগাল প্রথম রাউন্ড থেকেই বাদ পড়ার শঙ্কায়। বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের নকআউট নিশ্চিত করতে হলে আজ ফ্রান্সের বিপক্ষে প্যারিসে ২০১৬ ইউরো’র ফাইনালের পুনরাবৃত্তির লড়াইয়ে যে করেই হোক হার এড়াতে হবে। এই পরিস্থিতি নিয়েই গ্রুপ পর্বের শেষ রাউন্ডে পা রাখছে গ্রুপ এফ। প্রথম পর্বের শেষ দিনে ই গ্রুপের নিষ্পত্তিও হবে আজ স্লোভাকিয়া-স্পেন, সুইডেন-পোল্যান্ড দুই ম্যাচে।

নিজেদের পারফরম্যান্সে ম্যাচ না জিতেও সবচেয়ে ভালো অবস্থানে ফ্রান্স। বিশ্বজয়ীরা জার্মানির বিপক্ষে জিতেছে উপহারের গোলে (হামেলসের আত্মঘাতী)। দ্বিতীয় ম্যাচে হাঙ্গেরিকে হারাতে পারেনি। দলটির বিশ্বসেরা ফরোয়ার্ড লাইন পুরোপুরি জ্বলে ওঠেনি এখনো। তবুও ৪ পয়েন্ট নিয়ে এই গ্রুপ থেকে পরের পর্ব নিশ্চিতের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে। কোচ দিদিয়ের দেশমের তাই জয়ের চেয়েও বড় চিন্তা বিশ্বসেরা ফরোয়ার্ড লাইনের গোলে ফেরা। দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ফেরা স্ট্রাইকার করিম বেনজেমাকে লা লিগার মতো উজ্জ্ব¡ল দেখা যাচ্ছে না। তবুও বেনজেমা জড়তা কাটিয়ে উঠবেন বলেই আশা করছেন হাঙ্গেরির বিপক্ষে সমতাসূচক গোল পাওয়া গ্রিজমান ‘বেনজেমা গোল করতে চায়, যেমনটা কিলিয়ান (এমবাপে) ও আমি চাই। কিন্তু খেলোয়াড় হিসেবে এটাও চাই সবসময় চাপমুক্ত ও স্বাধীন থাকতে। বেনজেমা কিন্তু আমাদের বিল্ড আপ আক্রমণের শেষ অংশ। আমি নিশ্চিত সে একটি গোল পেলেই জড়তা কাটিয়ে তার ধারাবাহিকতা রাখবে।’

অন্যদিকে রোনালদোর জন্য আবার গোল করার চ্যালেঞ্জ। জার্মানির জালে কখনো বল পাঠাতে না পারার আক্ষেপ পুষিয়েছেন গত ম্যাচে। এবার ফ্রান্সের বিপক্ষে গত ছয় ম্যাচের গোল খরা কাটাতে পারবেন? তাছাড়া আন্তর্জাতিকে সর্বোচ্চ গোলস্কোরারের রেকর্ডও হাতছানি দিচ্ছে রোনালদোকে। আর দুটি গোল করলেই ছোঁবেন ১০৯ গোলের মালিক ইরানের আলি দাই-কে। হ্যাটট্রিক করলে ১২ গোল নিয়ে ইউরো ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলের মালিক বসবেন বিশ্ব সিংহাসনে। তবে পর্তুগাল কোচ ফার্নান্দো সান্তোসের জন্য তার সেরা শিষ্যের গোল নয়, জার্মানির বিপক্ষে ভুল শোধরানো একমাত্র লক্ষ্য। অভিজ্ঞ এই কোচ বলেন, ‘ফ্রান্সের বিপক্ষে আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ সামনে। জার্মানির বিপক্ষে ওই ম্যাচের পর আমাদের কাছে পরিষ্কার যে কী করতে হবে। দলের সবাই জানে সেটা।’ এদিকে মিডফিল্ডার হুয়াও মুতিনহো বিশ্বাস করেন জার্মানির বিপক্ষে হেরে যাওয়া দল তারা না, ‘জার্মানির সঙ্গে হার আমাদের সামনের কাজ কঠিন করে দিয়েছে। কিন্তু আমরা ওই পারফরম্যান্সের দল না। ফ্রান্সের বিপক্ষে নিজেদের ইমেজ ফেরাতে হবে।’ ২০১৬ আসরেও গ্রুপের সেরা তৃতীয় দলগুলোর একটি হয়ে নকআউটে উঠেছিল পর্তুগাল। এরপর শিরোপা জিতেই থামে। ফ্রান্সের সঙ্গে আজ জিতলে সরাসরি ওঠার নিশ্চয়তা। ড্র করলে তৃতীয় সেরা ৪ দলের একটি হয়ে খেলবেন নকআউটে।

জার্মানির দুঃস্বপ্ন হতে চায় হাঙ্গেরি

২০১৮ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে মেক্সিকোর কাছে ১-০ গোলে হারের হতাশা ভুলে দ্বিতীয় ম্যাচে সুইডেনকে ২-১ গোলে হারায় জার্মানি। কিন্তু শেষ ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ০-২ গোলে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় তারা। ঘরের মাঠ মিউনিখে জার্মানদের সেই দুঃস্বপ্ন ফেরাতে চায় হাঙ্গেরি। এফ গ্রুপের আন্ডারডগরা গত ম্যাচে বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনায় ফ্রান্সকে আটকে দিয়েছে ১-১ এ। সেই আত্মবিশ্বাস থেকে জার্মানদেরও হতাশ করতে চায় তারা। স্বাগতিকরা শক্তিতে দুর্বল থাকবে তিন অভিজ্ঞ ম্যাটস হুমেলস, টমাস মুলার ও ইকায়ে গুনডোআন ইনজুরির কারণে না থাকায়।

স্পেনের বাঁচামরার লড়াই

আসরে আনকোরা দল নিয়ে এসে বিপদে পড়েছে সাবেক চ্যাম্পিয়ন স্পেন। মাত্র ২ পয়েন্ট পাওয়া লুইস এনরিকের দল এখন আসর থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কায়। সেøাভাকিয়ার সঙ্গে শেষ ম্যাচটি না জিতলে বিপদ। তাই জয়হীন কোনো পথ নেই স্প্যানিশদের সামনে। না জিতলে অভিজ্ঞদের না নেওয়ার প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে এনরিকেকে। সঙ্গে চাকরি হারানোর ভয়ও থাকছে। যদিও ডিফেন্ডার সেজার আজপিলিকুয়েতা বলছেন এই ম্যাচে তারা জিতবেন, ‘স্পেন বিশ্বকাপ জিতেছে, ইউরোও জিতেছে। কিন্তু এই দলটা তরুণ। এটা হতে পারে। আমি বলব এই দলে বেশ কয়েকজন নেতা আছেন যারা ক্লাব পর্যায়ে নিজ নিজ দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাই আমরা জানি এমন চাপের অবস্থায় কীভাবে ফিরতে হয়।’ আজপিলিকুয়েতারা জিতলে ভালো, নয়তো ৩ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে থাকা স্লোভাকরা কোনোমতে ড্র করলেই নকআউট নিশ্চিত করে ফেলবে। গ্রুপের অন্য ম্যাচে শীর্ষে থাকা সুইডেনের জন্য ড্র-ই যথেষ্ট। তবে পোল্যান্ডকে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করতে হলে জিততে হবে।