নিম্নতম মজুরি হারের খসড়া সুপারিশ বাতিলের দাবি চা-শ্রমিক ইউনিয়নের

চা-বাগান শিল্পের জন্য গঠিত নিম্নতম মজুরি হারের খসড়া সুপারিশ বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়ন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে অবস্থিত সংগঠনের মনু-দলই ভ্যালি (কয়েকটি চা-বাগান নিয়ে একটি ভ্যালি গঠিত) কমিটির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে শ্রমিক নেতারা এ দাবি জানান।

গত ১৪ জুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড চা-শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণ, মালিক-শ্রমিক পক্ষের চুক্তির মেয়াদসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে তাদের সুপারিশ বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করে।

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ১৪ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো আপত্তি বা সুপারিশ থাকলে তা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিতভাবে জানানো যাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই সময়সীমার মধ্যে আপত্তি বা সুপারিশ বিবেচনার পর বোর্ড তা সরকারের কাছে পেশ করবে।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মনু-ধলই ভ্যালি কমিটির সম্পাদক নির্মল দাস পাইনকা লিখিত বক্তব্যে বলেন, মজুরি বোর্ডের সুপারিশে চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি তিন বছর পর পর চা-বাগানের মালিক পক্ষের সঙ্গে চা-শ্রমিক ইউনিয়নের চুক্তি সম্পাদনের কথা বলা হয়েছে। অথচ, দীর্ঘদিনের রীতি অনুযায়ী- প্রতি দুই বছর পর পর উভয় পক্ষের চুক্তি হয়ে থাকে।

সর্বশেষ ২০২০ সালের ১৩ অক্টোবর চা-বাগানের মালিকপক্ষের সংগঠন বাংলাদেশিয় চা-সংসদের (বিটিএ) সঙ্গে চা-শ্রমিক ইউনিয়নের চুক্তি সম্পাদন হয়েছিল। ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ওই চুক্তির মেয়াদ ছিল। ওই চুক্তিতে শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা নির্ধারণ হয়েছিল। চুক্তির মেয়াদ পাঁচ মাস অতিবাহিত হতে চলেছে। এখনো নতুন করে কোনো চুক্তি হয়নি। এরই মধ্যে নিম্নতম মজুরি বোর্ড মেয়াদোত্তীর্ণ চুক্তি অনুযায়ী, শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণ করে চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়ার সুপারিশ করেছে। এতে চা-শ্রমিকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

মজুরি বোর্ডের সুপারিশে মালিকপক্ষের স্বার্থ সংরক্ষিত হয়েছে। শ্রমিকেরা এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরেই তাদের মজুরি ৩০০ টাকা নির্ধারণের জন্য দাবি জানিয়ে আসছেন। মজুরি বোর্ডের সুপারিশের কারণে তারা চরম হতাশায় পড়েছেন।

বক্তব্যে বলা হয়, চা-শ্রমিকেরা জন্ম থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভক্ত। অথচ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যে নিম্নতম মজুরি হারের খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে তা দুঃখজনক। মজুরি বোর্ডের সুপারিশে প্রথম তিন মাস শিক্ষানবিশ হিসেবে শ্রমিকদের নিয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সময়ে একজন শ্রমিক ১১০ টাকা করে দৈনিক মজুরি পাবেন। চা-শ্রমিকের পরিবারের সদস্যরা বংশ পরম্পরায় একই পেশায় নিযুক্ত হন। এ অবস্থায় তাদের শিক্ষানবিশ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া একেবারেই অযৌক্তিক। চা-বাগানের সব শ্রমিক সমান কাজে সমান মজুরি পাবেন। কিন্তু, মজুরি বোর্ড শ্রমিকদের এ, বি ও সি গ্রেডে বিভক্ত করে তাদের জন্য ভিন্ন মজুরি প্রদানের সুপারিশ করেছে। এতে শ্রমিকদের মধ্যে শ্রেণি বৈষম্য দেখা দেবে। এটা অমানবিকও। এ পরিস্থিতিতে অবিলম্বে মজুরি বোর্ডের খসড়া সুপারিশ বাতিলের দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে মনু-দলই ভ্যালি চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি গায়ত্রী রাজভর, কোষাধ্যক্ষ রাজিব কৈরী, চা-শ্রমিক নেতা সিতারাম বীন, চা-ছাত্র পরিষদের সভাপতি প্রদীপ পাল, মির্তৃঙ্গা চা-বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি মিন্টু অলমিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মজুরি বোর্ডের তিনিও সদস্য। বোর্ডের সভায় শ্রমিকদের স্বার্থ পরিপন্থী সুপারিশগুলো বাতিলের জন্য প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। কিন্তু, তা আমলে নেওয়া হয়নি। এমনকি সুপারিশের খসড়া সিদ্ধান্তে তিনি কোনো স্বাক্ষরও করেননি।

তিনি বলেন, ১২০ টাকা মজুরিতে শ্রমিকেরা কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। মজুরি বোর্ডের খসড়া সুপারিশে শ্রমিকদের কোনো প্রাপ্তি নেই। তাই, মানবিক বিবেচনায় নতুন করে সুপারিশ নির্ধারণ করে সরকারের কাছে তা পেশ করার দাবি জানাই।’