অপরাধ আড়ালের জন্যই মামলা করেন নুসরাত!

গুলশানের বহুল আলোচিত মোসারাত জাহান মুনিয়ার আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলার তদন্তে বাদী নুসরাতের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ ঘনীভূত হচ্ছে তদন্তকারীদের। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নুসরাত বোনের জন্য ভালোবাসা বা বোনের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের জন্য এই মামলা করেননি; বরং তিনি মামলা করেছেন নিজের অপরাধ ঢাকার জন্য। মুনিয়ার মৃত্যুর পর নিজে ফেঁসে যেতে পারেন, এই আশঙ্কা থেকে তিনি মামলা করেছেন; যাতে মুনিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি অন্য খাতে প্রবাহিত হয়।

নুসরাত নিজের এবং তার স্বামী মিজানুর রহমান সামীর জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে নিজে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গুলশানের ওই ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন। বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী যিনি ভাড়া নেবেন সেই বাড়িতে ঘটনা বা দুর্ঘটনার দায়দায়িত্ব তার।

বড় বোন ও অভিভাবক হিসেবে একটি কলেজপড়ুয়া মেয়েকে কীভাবে তিনি একা বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে রাখলেন, সে নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যে প্রশ্নের সদুত্তর নুসরাত কোনো পর্যায়ে দিতে পারেননি। মুনিয়ার লাখ টাকার ফ্ল্যাটের ভাড়া কোথা থেকে মেটাতেন, তার বিলাসবহুল জীবনের উৎস কী ছিল, এই প্রশ্নের উত্তরও নুসরাত দিতে পারেননি। আর এখান থেকেই বিভিন্ন রকম তথ্য বেরিয়ে এসেছে; যেখানে দেখা যাচ্ছে যে নুসরাত আসলে মুনিয়াকে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করতেন এবং মুনিয়া ছিল নুসরাতের টাকা বানানোর মেশিন। মুনিয়াকে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করেই নুসরাত চলতেন।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, নুসরাতের পারিবারিক জীবনেও ছিল টানাপড়েন। তার বাবার মৃত্যুর পর তাদের সম্পত্তি ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে নানা রকম বিরোধ ছিল। আর এই সব বিরোধের কারণে নুসরাত তার ভাই ও চাচার কাছে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন। মুনিয়ার মৃত্যুতে আলোচিত হয়ে পৈতৃক সম্পত্তি দখলের মামলায় এগিয়ে যেতে পারবেন ধারণা করে থাকতে পারেন নুসরাত। এ রকম একটি ধারণা থেকে নুসরাত তড়িঘড়ি করে মামলা করে থাকতে পারেন।

গত ২৬ এপ্রিল রাজধানীর গুলশানের একটি ভাড়া বাসা থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়া নামে এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় তার বড় বোন নুসরাত জাহান তানিয়া একজন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে মামলা করেন। এর কয়েক দিন পর মুনিয়ার বড় ভাই আশিকুর রহমান সবুজ আদালতে আরও একটি হত্যা মামলা করেন।