চট্টগ্রামে স্বামী-স্ত্রীসহ মোট চার সদস্যের একটি ছিনতাইকারী চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে ডবলমুরিং থানা পুলিশ। যাদের একজন ২০ সেকেন্ডের মধ্যে চলন্ত সিএনজির পেছনে উঠে ত্রিপল কেটে যাত্রীর মোবাইল, ব্যাগ ছিনতাইয়ে সক্ষম। তিন বছরে দুশতাধিক ছিনতাই করেছেন বলে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন তারা।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ডবলমুরিং থানার বাদমতলী এলাকা থেকে মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ছিনতাইয়ের অভিযোগে প্রথমে মো. আকাশকে (২৪) এবং পরে তার তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশের কথিত সোর্স আনোয়ার হোসেন মঞ্জু (৪৫), তাজুল ইসলাম (৪০) ও আকাশের স্ত্রী তানিয়া বেগমকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়।
এদের মধ্যে আনোয়ার কথিত পুলিশের সোর্স। আকাশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১১টি মোবাইল, হীরার টুকরো, বিভিন্ন ধরনের ব্যাগ উদ্ধার করে পুলিশ।
ডবলমুরিং থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘গত রমজানে একটি সিএনজি থেকে এক তরুণীর ব্যাগ ছিনিয়ে পালিয়ে যায় আকাশ। সেই ঘটনার তদন্তের নেমে আকাশের সন্ধান পায় পুলিশ। তখন থেকেই তাকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা করছে পুলিশ। অবশেষে বৃহস্পতিবার রাতে তাকে এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়।’
তিনি বলেন, ‘ছিনতাইকারী আকশের প্রধান টার্গেট সিএনজি। চলন্ত সিএনজিতেই অভিনব পন্থায় সে পেছনে উঠে পড়তো। সিএনজির ত্রিপল কেটে ভেতরে থাকা যাত্রীর ব্যাগ, মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যেত। পুরো ঘটনা ঘটাতে সবমিলিয়ে তার সময় লাগেতো মাত্র ২০ সেকেন্ড! এমনকি গাড়ির জানালার পাশে বসা যাত্রীদের মোবাইল ছিনিয়ে নিতে সে পারদর্শী। বিশেষ করে গাড়ির জানালার পাশে বসা কোন যাত্রী ফোনে কথা বললে চোখের পলকেই সে মোবাইল নিয়ে সটকে পড়তো।’
পুলিশ জানায়, তিন বছরে ২ শতাধিক ছিনতাই করেছে বলে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে আকাশ। সে পেশাদার ছিনতাইকারী। ১০ বছর যাবত এই অপরাধে যুক্ত।
আকাশ আগে নারী ছিনতাইকারী ফারজানার গ্রুপে কাজ করতো উল্লেখ করে ওসি মহসীন বলেন, ‘ফারজানার গ্রুপ থেকে বের হয়ে আকাশ এখন নিজেই ছিনতাই করে। গত ৩ বছরেই ২ শতাধিক ছিনতাই করেছে। মূলত সে ডবলমুরিং থানার দেওয়ানহাট থেকে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকা পর্যন্ত ছিনতাই করে। এক সময় বন্দরের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতো সে, তখন বন্দরের গাড়ির চালকদের মোবাইল ছিনিয়ে নিত বিভিন্ন কৌশলে।’
পুলিশ আরো জানায়, বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার হওয়া তানিয়া ছিনতাইকারী আকাশের স্ত্রী। জেনেশুনেই আকাশকে বিয়ে করেন তানিয়া।
এ বিষয়ে ডবলমুরিং থানার ওসি মহসীন বলেন, ‘আকাশের সব অপরাধে সহযোগিতাও করছে তানিয়া। ছিনতাইকৃত সব জিনিস থাকতো তার কাছে। আবার স্বামী গ্রেপ্তার হলে আদালত পাড়ায় ছুটতো সে। এ নিয়ে আকাশ তিনবার গ্রেপ্তার হয়। প্রত্যেকবার জামিন করান তার স্ত্রী। সর্বশেষ এপ্রিলেও গ্রেপ্তার হয়ে জেল খাটে। এরপর জামিন করান তানিয়া, ফের একই কাজে নেমে এবারও গ্রেপ্তার হয়। ’
পুলিশ জানিয়েছে, আকাশ ছিনতাই শেষেই অধিকাংশ মালামাল ‘চোরাই’ মার্কেটে বিক্রি করে। এরমধ্যে কিছু কিছু মালামাল আবার ফেরি করেও বিক্রি করে। কিছুদিন আগে ছিনতাই করা একটি ব্যাগ থেকে হীরা পায় সে। কিন্তু সেগুলো পাথর মনে করে রাস্তায় ফেলে দেয়। পরে তাজুল ও আনোয়ারের হীরা জানালে আবার কুড়িয়ে নেয় সে।
ডবলমুরিং থানা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আনোয়ার হোসেন মঞ্জু নিজেকে পুলিশের সোর্স বলে পরিচয় দেয়। আর তাজুল সম্পর্কে আকাশের মামা। এই পরিচয়ের সুবাদেই ছিনতাইকৃত মালামালের চার ভাগের তিন ভাগই তাদের দিতে হয় জানিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহেই কথিত এই দুই সোর্স তাজুল ও আনোয়ারকে ছিনতাইয়ের চারভাগের তিনভাগ মালামাল দিত আকাশ। উদ্ধার হওয়া ৮ হীরার মধ্যে দুইটি পাওয়া গেছে আকাশের স্ত্রী তানিয়ার কাছে। বাকি ৬টি হীরা উদ্ধার করা হয়েছে আনোয়ার ও তাজুলের কাছ থেকে।’
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আকাশ আনোয়ার থানাধীন বরুমচড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে। বর্তমানে স্ত্রী তানিয়াকে নিয়ে কাটগড় এলাকার বড় মসজিদ এলাকায় থাকে। গ্রেপ্তার আনোয়ার হোসেন দক্ষিণ মধ্যম হালিশহরের খাদু সেরাং বাড়ীর বাসিন্দা ও তাজুল নগরীর সল্টগোলা ক্রসিং এলাকার বাসিন্দা।