অবৈধ ড্রেজারে বালু ভরাটের সময় অতিরিক্ত পানি প্রবেশের কারণে ডিএনডি (ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা) এলাকায় জলাবদ্ধতা বেড়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল পাম্পহাউজ দিয়ে ডিএনডি এলাকার পানিনিষ্কাশন করা হলেও বেশ কয়েকটি ড্রেজারের মাধ্যমে ব্যাপক পরিমাণে পানি এলাকায় প্রবেশ করছে। অর্থাৎ পাম্পের মাধ্যমে নিষ্কাশন করে এক দিক দিয়ে পানি বের করা হচ্ছে, অন্য দিক দিয়ে অসংখ্য ড্রেজারের মাধ্যমে বালুর সঙ্গে পানি প্রবেশ করানো হচ্ছে। এভাবে বৃষ্টি আর ড্রেজারের পানি এক হয়ে এলাকায় বেড়েছে জলাবদ্ধতা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীতে অন্তত ১৮টি অবৈধ ড্রেজার বসানো হয়েছে। এর মধ্যে গোদনাইল চৌধুরী বাড়ি এলাকায় একটি, চিত্তরঞ্জন এলাকায় দুটি, আদমজীতে একটি, সাইলোতে দুটি, আটিগ্রাম এলাকায় তিনটি, শিমরাইলে চারটি, ডেমরার শুকরসী পাথরঘাটে দুটি, বালুর ঘাটে দুটি ও ডেমরা ঘাটে একটি ড্রেজার বসানো হয়েছে। অধিকাংশ ড্রেজারই বালু ভরাট করছে ডিএনডি এলাকার ভেতরে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ড্রেজার মালিক জানান, বালু ভরাট করার সময় ড্রেজারে শতকরা ৩০ শতাংশ বালু আর ৭০ শতাংশ পানি যায়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কমপক্ষে ১৫ ঘণ্টা চলে ড্রেজারগুলো। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ১৮টি ড্রেজার দিয়ে প্রতিদিন যে পরিমাণ পানি ডিএনডি এলাকায় প্রবেশ করছে, তা পাম্পহাউজের মেশিনে নিষ্কাশন হওয়া পানির প্রায় সমান। ফলে ড্রেজারে পানি প্রবেশের কারণে পাম্পহাউজে নিষ্কাশনের কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।
বিশেষ করে কদমতলী ও মিজমিজি এলাকায় জলাবদ্ধতা লেগেই থাকে। রাস্তাঘাট, ঘরবাড়িতেও পানি প্রবেশ করেছে। মিজমিজি এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পানির কারণে আমরা ঘর থেকে বের হতে পারছি না। রাস্তায় পানি, বাসায় পানি, আমরা অনেক কষ্টে দিনযাপন করছি। একে তো বৃষ্টি, তার ওপর আবার ড্রেজার দিয়ে বালুর সঙ্গে পানি আসছে। ড্রেজারে পানি অন্য কোথাও নিষ্কাশন হচ্ছে না।’ সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজি ইয়াসিন মিয়া বলেন, যেহেতু এখন বর্ষাকাল, মানুষের ঘরবাড়িতে পানি ঢুকছে, প্রকৃতির বৃষ্টি তো থামানো সম্ভব না; কিন্তু ড্রেজার বন্ধ রাখা সম্ভব। যত দিন বৃষ্টি থাকবে, তত দিন ড্রেজার বন্ধ রাখা দরকার, তা না হলে ডিএনডিবাসীর দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসব অবৈধ ড্রেজার যারা বসিয়েছে, তাদের মধ্যে অন্তত চারজন রয়েছেন জনপ্রতিনিধি। বাকিরা ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতা। কোনো ড্রেজারই নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেয়নি। এসব ড্রেজারের কারণে এলাকায় শুধু জলাবদ্ধতাই নয়, অনেক গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ওপর দিয়ে পাইপ বসানোর কারণে যানবাহন চলাচলেও বিঘœ ঘটছে। এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি নয় কোনো ড্রেজার ব্যবসায়ী।
ডিএনডির নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প কাজে দায়িত্বরত এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জানান, নিষ্কাশনের কাজে নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন নেতৃস্থানীয় লোকদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনায় বসেও আশানুরূপ সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না।
নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের যুগ্ম পরিচালক শেখ মাসুদ কামাল বলেন, নদীতে ড্রেজার বসানোর কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। সম্পূর্ণ অবৈধভাবে বসানো হয়েছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে নদী থেকে এসব ড্রেজার উচ্ছেদ করা হবে।