ক্রেতা ধরে রাখতে কারখানা খোলা রাখতে চায় বিজিএমইএ

ক্রেতা ধরে রাখতে ‘কঠোর লকডাউনের’ মধ্যেও কারখানা খোলা রাখার পক্ষে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ।

সংগঠনের সহ-সভাপতি শহিদুল্লাহ আজিম শনিবার বিকেলে দেশ রূপান্তরকে সংগঠনের এ অবস্থানের কথা জানান।

তিনি বলেন, ক্রেতা ধরে রাখাসহ কোন কোন কারণে কারাখানা খোলা রাখা উচিত আমরা সে বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি।

শহিদুল্লাহ আজিম বলেন, এ নিয়ে সন্ধ্যায় জুম মিটিং হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে কারখানা খোলা রাখার বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে পারবো বলে আশা করছি।

বিজিএমইএ নেতাদের মত, কারখানা খোলা থাকলে শ্রমিকরা ডিসিপ্লিন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকবে। কারখানা যদি বন্ধ থাকে, শ্রমিকরা ছোটাছুটি করবে, দেশের বাড়িতে চলে যাওয়ার চেষ্টা করবে। ফলে সংকট আরও ঘনীভূত হবে।

এছাড়া সামনে ঈদ। এতে শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস দিতে হবে। কারখানা বন্ধ থাকলে সে চাপ নেওয়া সম্ভব হবে না। এজন্য আগের মতো লকডাউনের মধ্যেই কারখানা খোলা রাখার পক্ষে তাদের অবস্থান।

শহিদুল্লাহ আজিম বলেন, লকডাউনে কারখানা বন্ধ রাখলে শ্রমিকেরা গ্রামের বাড়ির দিকে রওনা দেবেন। তাতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। আমাদের শ্রমিকরা প্রায় সবাই কারখানার আশপাশে থাকেন। তাই কারখানা খোলা থাকলেও তাদের গণপরিবহনের প্রয়োজন পড়বে না।

বিকেএমইএ সহসভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, কারখানা বন্ধ করে দিলে শ্রমিকদের বড় একটি অংশ গ্রামে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে করোনা আরও ছড়িয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে কারখানা খোলা রাখলে তারা একটা শৃঙ্খলার মধ্যে থাকবে। কাজ শেষে ক্লান্ত শ্রমিক বাসায় অবস্থান করবে।

তিনি বলেন, জীবন ও অর্থনীতির স্বার্থে কারখানা খোলা রাখা উচিত। তাছাড়া কারখানা বন্ধ করে দিলে সময়মতো পণ্য রপ্তানি করতে পারবো না, ক্রেতাদের থেকে নতুন ক্রয়াদেশ পাবো না। তখন ক্রেতারা অন্য দেশে চলে যেতে পারে। তাই কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারখানা খোলা রাখা উচিত।

প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাস মহামারী পরিস্থিতি প্রকট আকার ধারণ করায় সোমবার থেকে কঠোর লকডাউন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। এতে জরুরি সেবা ও পণ্য পরিবহন ছাড়া সব ধরনের সরকারি-বেসরকারি অফিস ও সেবা এবং পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকবে।