প্রিন্সের ‘সিম্পল’ কাজ হেরাথের ‘জয়ের মানসিকতা’

হারারেতে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে মিলিত হওয়ার পর হাতে এক মাসেরও কম সময় পাবেন অ্যাশওয়েল প্রিন্স। তামিম ইকবাল-মুশফিকদের নিয়ে এই স্বল্প সময়ে সন্তুষ্টিমূলক কাজ দেখাতে হবে প্রিন্সকে। ভালো হলেই চুক্তির মেয়াদ বাড়বে। এত অল্প সময়ে ভোজবাজির মতো কিছু করে দেখানোর সুযোগ যে নেই তা ভালো করেই জানেন প্রিন্স। তাই ব্যাটিংয়ের ‘সিম্পল’ দিকগুলো নিয়েই কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যান। এদিকে স্পিন কোচ রঙ্গনা হেরাথ বলছেন, তার চেষ্টা থাকবে দলের জয়ের মানসিকতা তৈরি করা। যে দিকটায় বিদেশের মাটিতে এবং বড় দলের সঙ্গে অনেকটাই পিছিয়ে বাংলাদেশ। 

দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের হেড কোচ ছিলেন প্রিন্স। সর্বশেষ রাজ্য দল ওয়েস্টার্ন প্রোভিন্সের হেড কোচ ছিলেন। এছাড়া ফ্র্যাঞ্চাইজি দল কেপ কোবরার কোচও তিনি। তবুও বাংলাদেশের ডাকে একবাক্যে সাড়া দিলেন কেন? প্রিন্স জানান, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করার আগ্রহ তাকে এ পর্যন্ত এনেছে, ‘আসলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজের সুযোগ সবসময় আসে না। তাই আমি এই অভিজ্ঞতা হারাতে চাইনি। তাছাড়া সুযোগটা দারুণ সময়ে এসেছে। কারণ দক্ষিণ আফ্রিকায় এখন ক্রিকেটের মৌসুম না। বসে না থেকে এমন সিরিজে কোচিং করানো দারুণ হবে।’

প্রিন্সের কাজের সুবিধা আছে, স্বদেশি রাসেল ডমিঙ্গো বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচ। তাই তামিমদের খোঁজখবর নিজে থেকে নিতে হচ্ছে না তাকে। ডমিঙ্গোই সব বুঝিয়ে দেবেন। বাকি কাজ শুধু ভুলগুলো ঠিক করে দেওয়ার চেষ্টা করা। জিম্বাবুয়ে সিরিজে তাই কারও আমূল পরিবর্তনের দিকে হাঁটবেন না। যতটুকু পারেন চেষ্টা করবেন ‘সিম্পল’ কাজটাই করার, ‘অবশ্যই এটা খুবই ছোট চুক্তি, মাত্র এক মাসের। এখানে সময় খুবই অল্প। স্বাভাবিকভাবে এই সময়টাতে কোনো কোচ কারও কিছুই বদলে ফেলতে পারবেন না। জাতীয় দলের একজন ব্যাটসম্যানই কিন্তু সব জানেন। বিষয়টা হলো কোচের সঙ্গে তার দেখাটা, বলাটা বা চিন্তাটা মেলে কি না। এই সিম্পল কাজটা যদি মিলে যায় সেটাই ভালো।’

প্রিন্স জানেন বিদেশির মাটিতে বাংলাদেশের টেস্ট রেকর্ড কতটা খারাপ। ব্যাটসম্যানদের রেকর্ডও বিদেশের মাটিতে খারাপ। জিম্বাবুয়েতে প্রায় ৮ বছর পর পা রাখায় ওই কন্ডিশনও এই দলটির অনেকের কাছে নতুন। প্রিন্স নতুন-পুরাতন সবার জন্যই এই সফরকে তাই নিজেদের প্রমাণের অন্যরকম সুযোগ হিসেবে দেখছেন। সাবেক প্রোটিয়া ব্যাটসমানের বিশ্বাস বাংলাদেশি অভিজ্ঞ থেকে শুরু করে তরুণ ব্যাটসম্যানদের মধ্যেও আর সব দেশের মতো অবিশ্বাস্য স্কিল রয়েছে। সেগুলো কাজে লাগানোর সেরা সুযোগ এই সিরিজ, ‘যে কোনো আন্তর্জাতিক দলের ক্রিকেটাররা অসাধারণ স্কিলের হয়েই জাতীয় দলে সুযোগ পান, সে যে দলেরই হোন না কেন। কেউ সেই স্কিল সব জায়গায় দেখাতে পারেন আবার কারও সমস্যা থাকে। এই রকম ক্রিকেটাররা যদি নিজেদের সেরা প্রমাণ করতে চান তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বিদেশে ভালো করা। ভিন্ন কন্ডিশনে আপনি কেমন খেলেন, আপনার চেষ্টা, পরিশ্রম কতটা সফলতা এনে দেয় তার ওপর আপনার ক্রিকেটীয় মস্তিষ্ক বা স্কিল বা প্রতিভা কেমন তা নির্ভর করে। এটা সবার ক্ষেত্রেই। তাই প্রতিটি অ্যাওয়ে সিরিজ একজন ক্রিকেটারের জন্য সেরা সিরিজের চেয়ে কম না। আমি বলব এটা বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের জন্য আরেকটি সেরা সিরিজ হতে পারে।’

উইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে হারের পর থেকেই বাংলাদেশ ক্রিকেটে একটি চাওয়া– জয়ের মানসিকতা তৈরি করা। বাংলাদেশ দলের নবনিযুক্ত স্পিন কোচ রঙ্গনা হেরাথও একই সুরে বললেন। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত দায়িত্ব পাওয়া এই সাবেক বাঁহাতি স্পিন কিংবদন্তি বলেন, ওই আসরে ভালো করতে হলে বাংলাদেশকে জয়ের মানসিকতা গড়তে হবে। ‘আমি টি-২০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দায়িত্বে আছি। এই সময়ে আমরা জিম্বাবুয়ে, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ডের মতো দলগুলোর সঙ্গে সিরিজ খেলব। এটা কিন্তু দারুণ সুযোগ। সাধারণত কোনো টুর্নামেন্টের আগে চ্যাম্পিয়ন দল বা সেরা দলগুলোর সঙ্গে খেলার সুযোগ মেলে না। আমি ভাবছি সাকিব, মিরাজ, তাইজুলরা সেই সুযোগ পাচ্ছে। এটা একজন স্পিনারের জন্য দারুণ ব্যাপার’ বলছিলেন হেরাথ। ২০১৪ বিশ্বকাপ জয়ের পথে সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল তার ৩ রানে ৫ উইকেট শিকার, যা গত দশকের সেরা বোলিং স্বীকৃত।

হেরাথ চাইছেন জিম্বাবুয়ে সিরিজ থেকেই জয়ের মানসিকতাটা তৈরি করে আনতে, ‘জিম্বাবুয়ে সিরিজেই যদি আমরা জয়ের মানসিকতাটা তৈরি করতে পারি তাহলে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ডের সঙ্গে আমাদের কাজটা সহজ হবে। আমরা জিততেও পারি। এরপর ওই ধারাবাহিকতা নিয়ে বিশ্বকাপেও ভালো কিছু করা সম্ভব।’