সীমান্তবর্তী জেলা কুষ্টিয়ায় চলমান লকডাউনের মধ্যেও করোনার সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী।
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাব ও সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রমতে, সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৫৪৫টি নমুনা পরীক্ষায় ১৮০ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৩৩ শতাংশ।
এ সময়ের মধ্যে আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪ রোগীর মৃত্যুর মধ্যদিয়ে জেলায় মোট মৃত্যু সংখ্যা ২০৩ জন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিভিল সার্জন ডা. এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম।
কোভিড ডেডিকেটেড ঘোষিত ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা তাপস কুমার সরকার বলেন, ‘বর্তমান হাসপাতালে কভিড শনাক্ত ১৯৬ জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এসব রোগীর অক্সিজেন সাপোর্টে বর্তমানে ৫শ সিলিন্ডার হাতে আছে। ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা সেবায় অক্সিজেনসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি এখনও রয়েছে। অধিকসংখ্যক রোগীর চাপ সামলাতে বাড়তি অক্সিজেনের যোগান দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘ভারতীয় ধরনের এই ডেল্টা ভাইরাস ‘কমিউনিটি পর্যায়ে ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় হাসপাতালগামী রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।
তবে অন্যান্য রোগজনিত কারণে জরুরি বিভাগে সীমিত সংখ্যাক রোগী ব্যাতীত ‘হাসপাতালের অন্য রোগীদের কুষ্টিয়া ডায়াবেটিক হাসপাতাল ও আদ-দ্বীন হাসপাতালে সরিয়ে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।’ বলে দাবি করেন এই আবাসিক চিকিৎসক।
লকডাউন কার্যকর করার জন্য পুলিশ শহরের বিভিন্ন প্রবেশ মুখে চেকপোস্ট বসিয়েছে। এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করছেন।
কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন ডা. এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সীমিত সাধ্য ও সক্ষমতার সবটুকু দিয়ে পরিস্তিতি মোকাবিলা করছি। একই সাথে সবাইকে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দায়িত্বশীল হওয়ার অনুরোধ করছি।
উল্লেখ্য, করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সীমান্তবর্তী জেলা কুষ্টিয়ায় ২০ জুন মধ্যরাত থেকে ৩০ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত কঠোর লকডাউন ঘোষণা করে গণবিজ্ঞপ্তি দেয় জেলা প্রশাসন।
রবিবার রাত ১২টায় শেষ হওয়া লকডাউনের পরিধি আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত বৃদ্ধি করে আবারও গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েছে জেলা প্রশাসন।