এক গাছে ৩০০ প্রজাতির আম

লখনৌর এক নার্সারিতে শতবর্ষী এক আমগাছে ৩০০ প্রজাতির আম ধরে। নার্সারির উদ্যোক্তা কলিমুল্লাহ খান। এই কাজের জন্য তিনি পেয়েছেন পদ্মশ্রী পুরস্কার। ভারতের কয়েকজন বিখ্যাত ব্যক্তিসহ করোনা মহামারীতে অবদান রাখা চিকিৎসক ও পুলিশদের সম্মানার্থে আমের নাম রেখেছেন তিনি। লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা

ম্যাঙ্গো ম্যান কলিমুল্লাহ

এক গাছে এক জাতের আম হয়। বর্তমানে নানা রকম গবেষণার কারণে কলম করে এক গাছে ৪/৫ প্রজাতির আমও তৈরি করা হচ্ছে। তবে এক গাছে ৩০০ জাতের আম, এটা একদম ভিন্ন এক খবর। বিস্ময়কর এমন আমগাছ রয়েছে ভারতের উত্তর প্রদেশের রাজধানী লখনৌর একটি নার্সারিতে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, বিশালাকার এই আমগাছে একসঙ্গে ৩০০ আমের স্বাদ পাওয়া যায়। এই গাছের ছাউনি এত বড় যে, একসঙ্গে ১৫ জন মানুষ এর নিচে অনায়াসে বসে পিকনিকের আয়োজন করতে পারে। এর প্রতিটি শাখায় ঝুলে থাকে আম। অন্যান্য একক গাছের চেয়ে এই গাছের প্রতিটি শাখার পাতা ভিন্ন রকম। কোনো ডালের পাতা হয়তো হালকা সবুজ অথবা জলপাই রঙের, কোনোটার পাতা বেশ উজ্জ্বল, কোনো ডালের পাতা আবার অন্যগুলোর চেয়ে বেশি চকচকে। শুধু পাতা নয়, একেক শাখার আমও দেখতে একেক রকম। কিছু আম দেখতে গোল, ডিম্বাকৃতি বা কিডনি আকৃতির, কিছু আমের রং সবুজ বা হলুদ, এমনকি ডালে ডালে শোভা পায় কমলা, গোলাপি আর বেগুনি রঙের আমও।

এই আমগাছের মালিক ৮৫ বছর বয়সী কলিমুল্লাহ খান। সবার কাছে তিনি পরিচিত ‘ম্যাঙ্গো ম্যান’ হিসেবে। কেউ যদি বিস্ময়কর গাছটি দেখতে কলিমুল্লাহর নার্সারিতে যান, সেখানে গিয়েই দেখা মিলবে মুখে শুভ্র দাড়ি আর সাদা পাঞ্জাবি-পায়জামা পরিহিত কলিমুল্লাহর। গাছের ছাউনির নিচে গিয়ে তিনি বেশ আগ্রহ নিয়েই আমগুলো একে একে চিহ্নিত করে দেখান। ৩০০ জাতের আমের মধ্যে রয়েছে পার্শ্ববর্তী গ্রাম থেকে নিয়ে আসা দাশেরি আম, পশ্চিমবঙ্গের হিমসাগর ও বিহারের ল্যাংড়া। আরও আছে মিষ্টি, মাখনের মতো নরম, জাফরান রঙের জন্য দেশের ও আন্তর্জাতিক বাজারের অন্যতম দামি আম আলফনসো আম।

কলিমুল্লাহর পাঁচ একর জায়গা নিয়ে তৈরি আমের বাগান লখনৌর মালিহাবাদে অবস্থিত। উত্তর ভারতের মানুষের কাছে আম ভীষণ পছন্দের একটি ফল। এখানে প্রায় দশ হাজার হেক্টর এলাকা জুড়ে আমের বাগান আছে। ইন্দো-পার্সিয়ান কবি আমির খসরু ক্রান্তীয় ও গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়ায় ভালো আমের উৎপাদন হওয়ায় আমকে বলতেন ভারতের সবচেয়ে সুন্দর ফল। মুঘল শাসনামলের অধীনে শতাব্দী ধরে আমের চাষ হচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আম উৎপাদনকারী দেশ ভারত। এখানে এক হাজারেরও বেশি প্রজাতির আম পাওয়া যায়। বিশ্বে যত আমের চাষ হয় তার ৪০ শতাংশই হয় শুধু ভারতে।

আম চাষের শুরু

১৯০০ সালের শুরুর দিকে প্রথম বাগান স্থাপন করেন কলিমুল্লাহর দাদা। হাইস্কুল থেকে যখন তিনি লেখাপড়া ছেড়ে দিলেন, তখন থেকেই বাগানের কাজ শুরু করলেন। কিছুদিনের মধ্যেই আশপাশের আমবাগান থেকে বেশ কয়েক ধরনের স্থানীয় আমের সন্ধান পেলেন তিনি। আমের বীজ সংগ্রহ তার নেশার মতো হয়ে গেল। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই নানা জাতের আমগাছের কলম করা শুরু করলেন।

এক গাছে অনেক আমের ধারণা কলিমুল্লাহ পেয়েছিলেন একজন বন্ধুর বাগান থেকে। কিশোর বয়সে যখন তার আমগাছ লাগানোর অভ্যাস এক রকম শৌখিনতায় পৌঁছে গেছে, তখন এক দিন খেয়াল করলেন বন্ধুর বাগানে এক গোলাপগাছে কয়েক রঙের ফুল ফুটে আছে। প্রথম প্রথম দৃশ্যটি দেখে খুবই বিস্মিত হয়েছিলেন তিনি। বন্ধুর কাছে জানলেন এর প্রক্রিয়া সম্পর্কে। ভাবলেন, যদি ফুলগাছে এমন করা যায়, তবে ফলগাছেও কোনো না কোনোভাবে এটি করা সম্ভব। ‘আমি আসলে সেই গোলাপগাছে যেমন দেখেছিলাম ঠিক তেমনটাই করতে চেয়েছিলাম আমার আমবাগানে।’

ক্রসব্রিড নিয়ে কয়েক দিন নানা তথ্য জানার চেষ্টা করলেন কলিমুল্লাহ। এরপর কাজে নেমে পড়লেন। ১৭ বছর বয়সে একটি আমগাছে সাত প্রজাতির আমের ক্রসব্রিড করার চেষ্টা করলেন। গাছ লাগিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু বন্যার পানিতে গাছটি মারা যায়। মানসিকভাবে ভীষণ ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। তবে হাল ছাড়লেন না। সিদ্ধান্ত নিলেন কলম নিয়ে আরও বিশদভাবে জানবেন। পারিবারিক বাগান থেকে কলমবিষয়ক আরও তথ্য জানার চেষ্টা করলেন। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় কৃষক ও বাগানিরা সাধারণত গাছের একটি শিকড় ও নিচের অংশের সঙ্গে অন্য গাছের ওপরের অংশ মিলিয়ে কলম করে। দুটি গাছকে একত্র করে আবার উৎপাদনের জন্য এই পদ্ধতিটি খুব সহজ দ্রুততম পদ্ধতির একটি। বিভিন্ন জায়গা থেকে তথ্য নিয়ে নিজের মতো করে কলমের কাজ শুরু করলেন।

বছরের পর বছর ধরে, কলিমুল্লাহ একটি গাছের শাখাকে কোনাকুনি করে কেটে সেটিকে আরেকটি গাছের সঙ্গে যুক্ত করে নতুন হাইব্রিড গাছ তৈরি করেছেন। ১৯৮৭ সালে, ১০০ বছর বয়সী আমগাছে বিভিন্ন প্রজাতির আমগাছের কলম যুক্ত করা শুরু করেন। নানা জাতের কলম সংগ্রহের জন্য তিনি দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়িয়েছেন। চেষ্টা করেছেন বিরল গাছ সংগ্রহ করতে। এই এক গাছেই তিনি লাগিয়েছেন প্রায় ৩০০ প্রজাতির আম। তিনি এই গাছের নাম দিয়েছেন ‘আল মুকারার’ (দৃঢ় সংকল্প)। কলিমুল্লাহ বলেন, ‘বিস্ময়কর এই গাছটি শুধু একটি গাছ নয়। এটি একাই একটি পুরো বাগান, একটি পৃথিবী।’

গাছের দেখাশোনা

এত বড় গাছে অনেক কলম লাগানোর জন্য আলাদাভাবে কিছুটা সুরক্ষারও প্রয়োজন। গাছে পাখি ও নানা পোকামাকড়ের আক্রমণ হওয়া খুব সাধারণ ব্যাপার। তবে এগুলো তাড়াতে গিয়ে কখনোই গাছ বা প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর হননি তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি কখনোই ওদের ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দিই না। প্রকৃতি ভোগ করার অধিকার সবার জন্য সমান।’ ফল সংগ্রহের মৌসুমে কলিমুল্লাহ ও তার ছেলে একসঙ্গে কাজ করেন। বিক্রি ও রপ্তানির জন্য দুজনে মিলে ফল সংগ্রহ করেন। তবে কেউ যদি বিস্ময়কর এই গাছ দেখতে যান তবে দর্শনার্থীদের তারা বিনামূল্যে আম উপহার হিসেবে দেন।  কলিমুল্লাহ বলেন, ‘ভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি নিয়ে একই বাবা-মায়ের দুই সন্তানের মতো একই বীজ থেকে জন্ম নেওয়া আমগাছের বৈশিষ্ট্যও ভিন্ন রকম হতে পারে। আমার কাছে যত ধরনের আম আছে সবগুলোই আমি আলাদাভাবে যতœ নিই, ঠিক নিজের সন্তানের মতো।’

আমের নামকরণ

কলমের ক্ষেত্রে প্রতিবার কলিমুল্লাহ আমের নতুন ধরন, স্বাদ, গঠন নিয়ে নানাভাবে গবেষণা করেন। এমনকি নতুন নাম রাখা নিয়েও তার আগ্রহের শেষ নেই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নামে আমের নাম রেখেছেন ‘নমো আম’। নামের তালিকায় আরও আছে বলিউড অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রায়, অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন, উত্তর প্রদেশের প্রধানমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট সোনিয়া গান্ধী, ইউনিয়ন মিনিস্টার অমিত শাহের (শাহ আম), সাবেক প্রেসিডেন্ট এপিজে আবদুল কালাম, সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ির নামও।

ইউনিয়ন মিনিস্টার অমিত শাহের নামে নামকরণ করা হয়েছে শাহ আমের। তার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মিল রেখে এই আমের স্বাদও কিছুটা টক-মিষ্টি। ‘অমিত শাহের জীবনের নানা ঘটনা ও পরিশ্রম অনুপ্রেরণা জাগায়। তার ব্যক্তিত্বে ইতিবাচক দিকটি প্রবল। একটি প্ল্যাটফর্মে অনেক মানুষকে একসঙ্গে করার ক্ষমতা রয়েছে তার। প্রয়োজনে তিনি কঠোরও হন। তার আচরণের সঙ্গে মিল রেখে আমের স্বাদেও এই বৈচিত্র্য ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। শাহ আমের ক্রসব্রিড করা হয়েছে কলকাতার ‘হুসন-ই-আরা’ ও লখনৌর ‘দাশেরি’ থেকে। যোগী আদিত্যনাথের নামে যে আমের নামকরণ হয়েছে সেটি দেখতে কিছুটা সরু ও বেশ সুন্দর। বিখ্যাত ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকারের নামে আমি একটি আমের নামকরণ করেছিলাম। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি নিজে আমাকে ফোন করে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি খুব খুশি হয়েছিলেন।’

কলিমুল্লাহ স্বপ্ন দেখেন এই পৃথিবী এক দিন খুব সুন্দর একটি জায়গা হবে। তিনি তার নিজ কাজ দিয়ে শুধু সেখানে কিছু ছাপ রেখে যেতে চান। নিজের ভালো কাজ দিয়ে যারা পৃথিবীতে আলাদা করে জায়গা করে নিয়েছেন তাদের প্রতি কলিমুল্লাহর শ্রদ্ধা জানানোর চেষ্টাতেই এমন নামকরণ। এ ছাড়া আরও একটি তত্ত্ব রয়েছে তার। বিভিন্ন ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিল রেখে নামকরণ করার চেষ্টা করেন তিনি। তিনি চান তার এই নামকরণের মধ্য দিয়ে কিংবদন্তিরা অমর হয়ে থাকুক।

করোনা মহামারীতে প্রথম সারির যোদ্ধা হিসেবে চিকিৎসক ও পুলিশদের অবদানের প্রতি স্বীকৃতি জানাতে ‘ডক্টর আম’ ও ‘পুলিশ আম’ নামে দুই ধরনের আমের নামকরণ করেছেন কলিমুল্লাহ। ‘যখন থেকে এই রোগ বিস্তার ছড়িয়েছে তখন থেকেই সামনের সারির যোদ্ধা হয়ে চিকিৎসকরা আক্রান্তদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। পরিস্থিতি সামলে রাখতে পুলিশ সব সময় মাঠে রয়েছে। নিজেদের পরিবারকে পেছনে রেখে অন্যের পরিবারের সুরক্ষার জন্য তাদের অবদানের কথা বলে শেষ করা যাবে না। তাদের সম্মান জানাতে আমার বাগানে দুই জাতের দাশেরি (dussehri) আম তৈরি করেছি। গত বছর থেকেই এই আম বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।’

সম্মাননা

কলিমুল্লাহর বাগানের বিস্ময়কর আমগাছ দেখার জন্য অনেক দর্শনার্থী রোজ যান। বেশ কয়েকজন তারকা সরাসরি তার বাগানে গিয়েছেন। এই কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বেশ কয়েকটি সম্মাননাও পেয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ২০০৮ সালে পাওয়া ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার পদ্মশ্রী। লিমকা বুক অব রেকর্ডসেও উঠেছে তার নাম। কলিমুল্লাহ বিশ্বাস করেন গাছের কলম করাও এক ধরনের শিল্প। এই শিল্প শেখার জন্য তিনি দুবাই ও ইরানেও গিয়েছিলেন। ১৯৯৯ সালে, ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনের মুঘল গার্ডেনে ৫৪ প্রজাতির আম জন্মায় এমন একটি গাছ লাগিয়ে দিয়েছিলেন।

সমালোচনা

কলিমুল্লাহর দারুণ এই কাজের অবশ্য সমালোচকও আছেন। তাদের

মতে এটা উল্লেখ করার মতো বড় কোনো ঘটনা নয়।Mango Grower Association of India-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ডি কে শর্মা বলেন, ‘এটা শুধুই একটা শিল্প। এর বাণিজ্যিক কোনো মূল্য নেই।’ তার মতে, এসব আম শুধু দেখতেই সুন্দর লাগে। কৃষকদের এসবে কোনো লাভ হয় না। তার এই সমালোচনায় একমত নন কলিমুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘যখন থেকে কৃষকরা বীজ থেকে কলম করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে জেনেছেন, তখন থেকেই বিভিন্ন ফল ও বাদামের কলম করার কাজ বাণিজ্যিকভাবে শুরু করা হয়েছে।’ কলিমুল্লাহ বিশ্বাস করেন এই শিল্পের ব্যবহারিক মূল্য রয়েছে। সবার বরং এই শিল্প নিয়ে আরও উদ্যমী হয়ে ভাবা উচিত। ‘আমি আমার হাত দিয়ে জন্মানো প্রতিটি আমের মধ্যে আমৃত্যু বেঁচে থাকতে চাই। আমি আশা করি আমার পরিশ্রমের ফল এক দিন সবাই খেতে পারবে। এমন প্রজাতির আমগুলো প্রকৃতির সৌন্দর্য। একে আরও প্রসারিত হতে দেওয়া উচিত।’

ওয়েবসাইট

সবুজ নিয়ে কাজ করতে ভালোবাসেন কলিমুল্লাহ খান। ১৫ বছর বয়স থেকে যে মানুষটি প্রথম গাছ নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন আজ ৮৫ বছর বয়সেও সেই কাজ থেমে নেই। বরং আগের চেয়ে এখন কাজ করেন অনেক গুছিয়ে। নিজের তৈরি করা নার্সারি থেকে মানুষকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। সেবা আরও বিস্তৃত করতে তৈরি করেছেন http://www.kaleemullahkhan.com  নামে একটি ওয়েবসাইট। এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গাছ লাগানো, নার্সারির নকশা, আগাছা পরিষ্কার, বাগানে পানি দেওয়া, ফুলগাছ লাগানোর মতো সব ধরনের সেবা দেওয়া হয়। তার নার্সারিতে চোষা, আম্রপলি, মালকা, রামকেলাসহ নানা জাতের আম ছাড়াও পাওয়া যায় পেয়ারা (এলাহাবাদী সফেদা, বরফখানা, ললিত, চীনা), কামরাঙা, পেঁপে, লেবু (বারোমাসি), ডালিম, মোসাম্বি, নাশপাতি, আমলকী (দাশেরি, নারায়ণ ৭, নারায়ণ ৬, চাইকাইয়া) ইত্যাদি ফল।