বাজেট ঘাটতি অর্থায়ন

সরকারের ব্যাংকঋণ ১৮ হাজার কোটি টাকা

বিদায়ী অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকার ঋণ নেওয়ার তুলনায় পরিশোধ বেশি করলেও গত মে মাস থেকে সরকারের নিট ঋণ বাড়তে থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য বিদায়ী ২০২০-২১ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকারের নিট ঋণ দাঁড়ায় ১৭ হাজার ৭৮৬ কোটি টাকা।

তবে ব্যাংক থেকে নেওয়া এ ঋণও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক কম। সদ্য বিদায়ী ২০২০-২১ অর্থবছরের মূল বাজেটে ঘাটতি অর্থায়নের জন্য ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকারের ৮৪ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা নিট ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ছিল। তবে সঞ্চয়পত্র থেকে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ঋণ আসায় সংশোধিত বাজেটে ব্যাংকঋণের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৭৯ হাজার ৭৪৯ কোটি টাকা করা হয়। সেই হিসাবে অর্থবছর শেষ হওয়ার তিন দিন আগে পর্যন্ত ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকারের নেওয়া ঋণের অঙ্ক এ খাতের লক্ষ্যমাত্রার ২২.৩০ শতাংশ।

প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২৭ জুন এক দিনে সরকারের ব্যাংকঋণ বেড়েছে ৫ হাজার ২২৫ কোটি টাকা। আলোচিত সময়ে সরকার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ট্রেজারি বিল ও বন্ড ছেড়ে ৪৪ হাজার ২৩০ কোটি টাকা ঋণ নেয়। একই সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পুরনো ঋণ শোধ ২৬ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা। নিট ঋণ দাঁড়ায় ১৭ হাজার ৭৮৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। এ নিয়ে সরকারের পুঞ্জীভূত নিট ব্যাংক ঋণ দাঁড়াল ১ লাখ ৯৫ হাজার ৬০৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। গত বছরের ১ জুলাই সরকারের ব্যাংকঋণের স্থিতি ছিল ১ লাখ ৭৭ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণ বাড়ায় ব্যাংকঋণের তেমন দরকার হচ্ছিল না। অর্থবছরের শেষদিকে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে গতি বাড়ায় সরকারের ব্যাংকঋণ বাড়ছে।’

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে বিদায়ী অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ৫৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়। গত এপ্রিল পর্যন্ত এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৪৯ শতাংশ এবং গত মার্চে এই হার ছিল ৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ গত মে মাসে এডিপি বাস্তবায়নে তুলনামূলক গতি আসে।

এদিকে উন্নয়ন ব্যয়ের গতি কম থাকায় সরকারের ব্যাংকঋণের তেমন প্রয়োজন না পড়লেও সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ বাড়তে থাকে। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ৩৪ হাজার ৭২৮ কোটি টাকার বেশি নিট ঋণ করে সরকার। বিদায়ী অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের নিট ঋণের লক্ষ্য ২০ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার ৩০২ কোটি টাকা করা হয়। তবে অর্থবছরের এপ্রিলেই এ লক্ষ্যমাত্রার ১৪ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি ঋণ আসে সঞ্চয়পত্র থেকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সঞ্চয়পত্রের পেছনে সরকারকে বড় অঙ্কের সুদ ব্যয় করতে হয়। এ ক্ষেত্রে সঞ্চয়পত্রের তুলনায় ব্যাংকঋণ তুলনামূলক কম সুদে পেতে পারে সরকার। তবে সামাজিক সুরক্ষার কথা বিবেচনায় নিলে সঞ্চয়পত্রকে উৎসাহিত করতে হয়।’

করোনাকালে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি চাঙ্গা রাখতে বিদায়ী অর্থবছরে (২০২০-২১) বিশাল ব্যয়ের বাজেট ঘোষণা করে সরকার। এ ব্যয় মেটাতে এনবিআরের মাধ্যমে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়।

এদিকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ চলছে দেশে। রাজস্ব আদায়ে মন্থরগতি দেখা দিয়েছে। বিশাল ঘাটতির কারণে মূল লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৩ লাখ কোটি টাকা। গত এপ্রিল পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৫৭ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, অর্থবছরের শেষ তিন দিনে আরও কিছু ঋণ বাড়তে পারে সরকারের। তবে সেই তথ্য এখনো চূড়ান্ত হয়নি। অর্থবছর শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যাবে।