প্রবল বর্ষণে বাঁশখালীতে সবজির ব্যাপক ক্ষতি

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে প্রবল বর্ষণের ফলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনসহ অফিসপাড়া জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় সবজিচাষিদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। পাহাড়ি ঢল ও প্রবল বর্ষণের ফলে বাঁশখালীর পশ্চিমাংশের ইউনিয়নগুলোর নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা এখন পানিবন্দি।

স্থানীয়রা জানান, পানিতে তলিয়ে গেছে মাছের ঘের, পুকুর, বসতঘরসহ গ্রামীণ অধিকাংশ সড়ক। পৌরসভার নালা-নর্দমায় পানি চলাচলে বিঘœ ঘটায় অধিকাংশ এলাকায় বসতভিটায় পানি উঠে নানাভাবে ক্ষতি সাধন হয়েছে।

গত বুধবার রাতে এবং গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে প্রবল বর্ষণের ফলে উপকূলীয় এলাকা সরল, গন্ডামারা, ছনুয়া, পুইছড়ি, চাম্বল, কাথরিয়া, বাহারছড়া, পুকুরিয়া, খানখানাবাদ এবং শিলকূপ ইউনিয়ন ও বাঁশখালী পৌরসভার অধিকাংশ রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যায়। বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির কার্যালয়, উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন আবাসিক ভবন, বাঁশখালী প্রেস ক্লাবসহ অধিকাংশ এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে।

পৌরসভায় অবস্থিত অধিকাংশ অফিসপাড়ায় পানি প্রবেশ করায় পৌরসভার অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা। নালা-নর্দমাগুলো ভরাট হলেও সংস্কার না করা এবং দখলে নিয়ে দোকান ও বাড়িঘর নির্মাণ করায় এ অবস্থা হয়েছে বলে জানান পৌরবাসী।

ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বলেন, আমার নিজ অফিসেও পানি প্রবেশ করেছে। জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে, তারা নিজ নিজ এলাকার ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ এখনো দেননি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভিজিট করা হচ্ছে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক বলেন, প্রবল বর্ষণে সবজিচাষিদের কিছু ক্ষতি হয়েছে। তবে পানি জমে না থাকলে ক্ষতির পরিমাণ বেশি হবে না বলে তিনি দাবি করেন।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য বিভিন্ন ইউনিয়নে পরিদর্শন এবং চেয়ারম্যানদের সঙ্গে কথা বলে প্রকৃত তথ্য জানার চেষ্টা করছি। বেশ কিছু এলাকায় প্রবল বর্ষণে পানি উঠলেও তা ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে। আমার বাসায়ও পানি প্রবেশ করেছে।