ক্যারিয়ারের ব্যস্ততম শিডিউলে বুবলী

করোনা পরিস্থিতির জন্য আপাতত সিনেমার শ্যুটিং বন্ধ আছে। কিন্তু লকডাউনের আগে বেশকিছু সিনেমার কাজে সরব ছিল এফসিডিসহ অনেক লোকেশন। এফডিসিতে পর্যায়ক্রমে দুই সিনেমার শ্যুটিং করেছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা বুবলী। তপু খানের লিডার: আমিই বাংলাদেশ এবং মোহাম্মদ ইকবালের রিভেঞ্জ সিনেমা দুটির শ্যুটিং একসঙ্গে করেছেন বুবলী। তিনি বলেন, ‘কটা দিন দম ফেলার সময় পাইনি। কোনোদিন এফডিসিতে ‘লিডার’ সিনেমার শ্যুটিং হলে পরদিন ‘রিভেঞ্জ’-এর শ্যুটিং করেছি। আবার এমনও হয়েছে, সকালে এক সিনেমার শ্যুটিং করেছি, বিকেলে আরেকটির। গত পাঁচ বছরের ক্যারিয়ারে এমন ব্যস্ততার মুখোমুখি আগে হইনি। তবে কষ্ট হলেও ভালো লাগছে। যদিও আমি এমনভাবে আগে কাজ করিনি। একেকটা কাজের শেষে কিছুদিন বিরতি নিতাম। কিন্তু এবার টানা শ্যুটিং করেছি। ভালো ভালো সিনেমাগুলোতে কাজের সুযোগ মিস করতে চাইনি। পাসওয়ার্ড-এর জন্য দৈনিক ১২ ঘণ্টার বেশি শ্যুটিং করেছি। তবে দৈনিক দুই সিনেমার শ্যুটিংয়ের অভিজ্ঞতা এবারই প্রথম!’ বুবলী আরও বলেন, ‘দুটি সিনেমায় আমার চরিত্র একেবারে আলাদা আলাদা। ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তিত্ব প্রেজেন্ট করে। তাই গ্ল্যামার নিয়ে না ভেবে চরিত্রের দিকে মনোযোগ দিচ্ছি। দুটির শিডিউল একা মেইনটেইন করা সম্ভব হতো না যদি দুই সিনেমার পরিচালক এবং তাদের টিম সহযোগিতা করত। আমি তাদের কাছে ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ। শতভাগ চেষ্টা করছি আরও ভালো কাজ উপহার দেওয়ার।’

বুবলী জানালেন, শুরুতে পরিকল্পনা ছিল, একটির পর আরেকটি ছবির শ্যুটিং হবে। কিন্তু করোনা সব এলোমেলো করে দিয়েছে। তাই একসঙ্গেই দুটি ছবির কাজ করতে হয়েছে। শুনেছি আমাদের সিনিয়র চলচ্চিত্র শিল্পীরা এভাবে এক দিনে একাধিক শিফটে একাধিক সিনেমার কাজ করতেন। আমি এই প্রজন্মের নায়িকা হয়েও সেই স্বাদটি পেলাম। এটি আমার জন্য চিরস্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকল।’ তিনি আরও বলেন, ‘উত্তরার বাসা থেকে কোনো কোনো দিন একদম ভোরে বের হয়ে যেতাম। প্রায় দিনই ঘরে ফিরতে ফিরতে মাঝরাত। কখনো কখনো ভোরও হয়ে যায়। মাত্র দু-তিন ঘণ্টা ঘুমিয়েই আবার দে ছুট।’

২০১৬ সালে বসগিরি দিয়ে সংবাদ পাঠিকা শবনম বুবলীর ঢালিউড-যাত্রা শুরু। এই সিনেমায় তার নায়ক ছিলেন শাকিব খান। সেই শুরু, টানা ১১টি সিনেমায় জুটি বেঁধেছেন তারা। গত বছর কাজী হায়াতের বীর সিনেমার আগে খবর রটে, শাকিব খানকে আর বুবলীর সঙ্গে দেখা যাবে না। যদিও শেষ পর্যন্ত বীর ছবিতে বুবলীকেই দেখা যায়। কিন্তু ক্যাসিনো ছবিতে রটনা ঘটনাই হয়ে যায়। শাকিবের বাইরে অন্য নায়কের সঙ্গে জুটি বাঁধেন বুবলী। তার নায়ক হন নিরব। অন্যদিকে নবাব এলএলবিতে শাকিবের নায়িকা মাহিয়া মাহি। এরপর ৯ মাস বুবলীর কোনো খোঁজই পাওয়া যায়নি। এ সময় তাকে নিয়ে অনেক কথাই শোনা যায়। বছরের শুরুতে নতুন ছবির ঘোষণা দিয়ে আবার প্রকাশ্যে আসেন বুবলী। চোখ নামের সেই ছবির নায়ক রোশান ও নিরব। শাকিব-বুবলীর ভক্তরা যখন ভাবতে শুরু করেন, এই জুটি আর জোড়া লাগবে না, তখনই এলো ঘোষণা ‘লিডার : আমিই বাংলাদেশ’ নামের নতুন ছবির। আবারও একজোট শাকিব-বুবলী। বুবলী বলেন, ‘শাকিব খান তো আমাদের দেশের সুপারস্টার। শুরু থেকে তিনি অভিনয়ের ব্যাপারে নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন। এখনো অনেক খুঁটিনাটি বিষয় শিখিয়ে দেন।’

লিডার : আমিই বাংলাদেশ ছবির ফার্স্ট লুকে তিন রূপে পাওয়া গেছে বুবলীকে। সাধারণ সালোয়ার-কামিজ, পশ্চিমা পোশাক ও শাড়িতে। কোনজনকে বুবলীর ভালো লেগেছে বেশি, জানতে চাইলে বলেন, ‘শাড়ি পরা বুবলীই আমার বেশি পছন্দ। অন্য দুজন ভীষণ রাফ অ্যান্ড টাফ।’ অন্যদিকে রিভেঞ্জ সিনেমায় তিনি পুলিশ কর্মকর্তা। এমন চরিত্রে এবারই প্রথম অভিনয়। যদিও ছোটবেলা থেকে পুলিশ কর্মকর্তা দেখেই বড় হয়েছেন তিনি, তার বাবাও ছিলেন পুলিশ।