ক্রুইফ দর্শনে ডেনিশদের আরেক ফাইনালের স্বপ্ন

শিষ্যদের স্বাধীন ও ভয়ডরহীন ফুটবল খেলতে উদ্বুদ্ধ করছেন ক্যাসপার হুলমান্দ। ডেনমার্ক কোচ এই দর্শনটা নিয়েছেন নেদারল্যান্ডস কিংবদন্তি ইয়োহান ক্রুইফের কাছ থেকে, যেই ফুটবল দর্শন দিয়ে ডাচদের বদলে দিয়েছিলেন ক্রুইফ। বদলেছেন বার্সেলোনাকেও। ক্রুইফের অধীনে বার্সার হয়ে প্রথম ইউরোপিয়ান কাপ জেতা পেপ গার্দিওলা এখনো মেনে চলেন গুরুর দেখানো পথ। হুলমান্দ ক্রুইফের অধীনে খেলেননি। কিন্তু তার সেরা পছন্দ ডাচ কিংবদন্তি। তাই ক্রুইফের পথে হেঁটেই ১৯৯২ সালের পর ইউরোয় আরেকটি ডেনিশ রূপকথা রচনার স্বপ্ন দেখছেন।

এই আসরে বীভৎস শুরু করে ডেনিশরা। সেরা তারকা ক্রিশ্চিয়ান এরিকসনকে প্রথম ম্যাচেই হারিয়েছে দলটি। ফিনল্যান্ডের সঙ্গে ওই ম্যাচ হারের পর বেলজিয়ামের কাছে ১-২ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে প্রায় ছিটকে পড়ে ডেনমার্ক। সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে দলকে জাগিয়ে তোলার কাজ করেন হুলমান্দ। ক্রুইফের দর্শন সামনে রেখে এগিয়ে যেতে বলেন। এরপর রূপকথার মতো রাশিয়াকে ৪-১, ওয়েলসকে ৪-০ এবং সবশেষ শনিবার চেক রিপাবলিককে কোয়ার্টার ফাইনালে ২-১ গোলে হারিয়েছে ডেনিশরা। এতে ২০০৪ সালের পর প্রথম ইউরো কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখে ডেনমার্ক। ১৭ বছর আগের সেই কোয়ার্টারে চেকদের কাছেই হেরেছিল ডেনিশরা। শনিবারের প্রতিশোধ ১৯৯২ সালের পর প্রথম ফাইনালের হাতছানি দিচ্ছে তাদের।

ক্রুইফের দর্শন সামনে রেখে এগিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে হুলমান্দ বলেন, ‘ভয়ডরহীন খেলাটা আমাদের ম্যাচ পরিকল্পনার অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমার আইডল ইয়োহান ক্রুইফকে বলতে শুনেছি- ভয় নিয়ে তুমি ফুটবল খেলতে পারবে না। তার মানে এই না যে শুধু ফরোয়ার্ডে যাও পেছনের ব্যাপারে কোনো চিন্তা না করে। আসলে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন হারের ভয় নিয়ে সেরাটা দেওয়া যায় না। আমি শিষ্যদের এটাই বুঝিয়েছি। এরিকসনের ব্যাপারে আমরা খুব ভীত ছিলাম। ভাগ্য ভালো যে ওই অবস্থা থেকে ছেলেরা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আর গ্রেট ডেনিশ সমর্থন আমরা পাচ্ছি যা আমাদের বাড়তি সাহস জোগাচ্ছে।’

চেকদের বিপক্ষে মাত্র ৫ মিনিটে থমাস ডেলানির গোলে এগিয়ে যায় ডেনমার্ক। এরপর ৪২ মিনিটে কাসপার ডলবার্গের দারুণ স্কোরে ডাবল লিড নেয় তারা। কিন্তু বিরতির পরপরই পিটার শিকের গোলে ম্যাচে ফেরার হুমকি দেয় চেকরা। যদিও তাদের আটকাতে পেরেছে ডেনমার্ক। ডেনিস গোলরক্ষক কাসপার স্মাইকেলকেও আক্রমণ ফেরাতে হয়েছে কয়েকবার। যা তার কাছে ছিল খুব কঠিন, ‘ওরা দ্বিতীয়ার্ধে যেভাবে শুরু করল তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। দ্বিতীয়ার্ধে ওদের সঙ্গে আমাদের শুধু লড়াই করে যাওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। সুযোগ দিচ্ছিল না একদমই। আমরা সফল যে লিডটা ধরে রাখতে পেরেছি। সত্যি বলছি শেষ বাঁশি বাজার পর যেন হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছি।’