আর কত বয়স হলে ভাতা পাবেন রনজু খাতুন

স্বামী মারা গেছে অনেক আগে। দুই মেয়ের ছোট ছোট তিন সন্তানের ভারও তার ওপর। ৬৩ বছর বয়সে এসে মোছা. রনজু খাতুন অন্যের বাসাবাড়িতে কাজ করে তাদের মুখে দু’বেলা খাবার দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে করোনা পরিস্থিতিতে তেমন কাজ না থাকায় তিনি নাতি-নাতনিদের নিয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।

রনজু খাতুন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বানিয়াকান্দর গ্রামের মৃত আনোয়ার হোসেনের মেয়ে। বিধবা ও বয়স্কভাতা এবং ভিজিডি কার্ডের জন্য বিভিন্ন দপ্তর ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও তা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।

রনজু খাতুন বলেন, ‘পাগলাকানাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান-মেম্বারদের কাছে একটা কার্ডের জন্য অনেকবার গেছি। কাজ হয়নি। ভোটার আইডিতে ভুল রয়েছে বলে আমাকে বিধবা, বয়স্কভাতা ও ভিজিডি কার্ড দেওয়া হয় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘মেঝ মেয়ের দুই ও ছোট মেয়ের একটি বাচ্চা নিয়ে খুব কষ্টে আছি। সরকার নাকি গরিবদের ঘর দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আমাকে একটি ঘর দিলে নাতি-নাতনিদের নিয়ে বাকি জীবন পার করে দিতাম।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রনজু খাতুনের স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি মানুষের বাসাবাড়িতে কাজ করেন। নিজের কোনো জমিজমাও নেই। নাতি-নাতনিদের নিয়ে অন্যের জমিতে বসবাস করে আসছেন।

এ বিষয়ে পাগলাকানাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, ‘রনজু খাতুন আমার কাছে এসেছে। এনআইডিতে ভুলের কারণে ভাতা দেওয়া যাচ্ছে না। এরপরও চেষ্টা করছি। আশা করছি, দ্রুত তাকে সহযোগিতা করা সম্ভব হবে।’

ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এস শাহিন বলেন, ‘রনজু খাতুনের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। সত্যি সত্যি তিনি সরকারি সুবিধাভোগীর পর্যায়ে পড়লে স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ঘরসহ অন্যান্য ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।’