পোশাকশ্রমিকদের জন্য টিকা চায় বিজিএমইএ

চলমান ‘কঠোর বিধিনিষেধেও’ খোলা রাখা হয়েছে তৈরি পোশাক কারখানা। করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির এ সময়ে ঝুঁকি নিয়েই কাজ করছেন শ্রমিকরা। এ অবস্থায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের টিকা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তৈরি পোশাক মালিক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে এ দাবি জানানো হয়।

গতকাল মঙ্গলবার বিজিএমইএ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। এতে বলা হয়েছে, পোশাকশিল্প শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জরুরি ভিত্তিতে করোনার টিকা দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানানো হয়েছে। আবেদনে সব শ্রমিক (কর্মকর্তা-কর্মচারী) ও বিদেশিদের জরুরি ভিত্তিতে করোনার টিকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

গত সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, করোনা মহামারীর প্রাদুর্ভাবে দেশের সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী তৈরি পোশাক খাত এখন কঠিন সময় অতিক্রম করছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি লাখ লাখ শ্রমিক করোনা মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকে এখনো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কারখানায় কাজ করছেন। এ শ্রমিকদের পাশাপাশি দেশে বিভিন্ন কারখানায় ও আন্তর্জাতিকমানের অনেক ক্রেতা-বিদেশিরা কাজ করছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। দেশের অর্থনীতির স্বার্থে এ খাতে কর্মরত শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

এদিকে শ্রমিক সংগঠনগুলো বলছে, চলমান বিধিনিষেধে প্রায় সব শ্রম খাত বন্ধ থাকলেও গার্মেন্টস সেক্টর চালু রেখেছে সরকার। মালিকদের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা ও কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ খাত চালু রাখার কথা বলা হলেও তা মানা হচ্ছে না। কারখানার আশপাশে থাকা শ্রমিকরা আগের মতো হেঁটে কারখানায় এলেও, যারা দূরে অবস্থান করেন তারা পড়েছেন বিপাকে। সম্প্রতি করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট (ডেল্টা) বিস্তৃতির ফলে সবচেয়ে হুমকির মুখে পড়েছেন গার্মেন্টস শ্রমিকরা। জরুরি ভিত্তিতে তাদের করোনা টিকা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।