করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে কঠোর বিধিনিষেধের ষষ্ঠ দিনে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর রাস্তায় যানবাহন ও মানুষের আধিক্য ছিল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন সড়ক মোড়ে যানজট দেখা দেয়। ব্যক্তিগত গাড়ি, রিকশা, পণ্য ও জরুরি সেবার যানবাহনে এ যানজট হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের চেকপোস্টগুলোর কোথাও কঠোর আবার কোথাও শিথিল অবস্থান দেখা যায়।
পুলিশের পাশাপাশি র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনী সড়কে টহল দিয়েছে। তবে রাস্তায় বের হওয়া বেশিরভাগ মানুষ ব্যাংক ও হাসপাতালে যাওয়ার কথা বলেন। মূল সড়কের পাশাপাশি বিভিন্ন অলিগলিতে ও দোকানপাটে অন্যান্য দিনের তুলনায় গতকাল মানুষের উপস্থিতি বেশি ছিল। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ‘বিনা কারণে’ রাস্তায় বের হওয়ায় ৪৬৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। লকডাউনের পঞ্চম দিন গত সোমবার এ গ্রেপ্তার ছিল ৫০৯ জন। এ নিয়ে কঠোর বিধিনিষেধের ছয় দিনে মোট ৩০ হাজার ৮৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এছাড়া গতকাল ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৩০৫ জনকে ২ লাখ ২৭ হাজার ৪৮০ টাকা জরিমানা করা হয়। ট্রাফিক বিভাগ ১ হাজার ৮৭টি গাড়িকে ২৫ লাখ ২৯ হাজার ২৫ টাকা জরিমানা করে।
সরেজমিনে গতকাল সকাল থেকে রাজধানীর খামারবাড়ি, আসাদগেট, ইন্দিরা রোড, বিজয় সরণি, রাসেল স্কয়ার, কল্যাণপুর, গাবতলীসহ বিভিন্ন এলাকায় যানজট দেখা গেছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়কে বাড়তে থাকে মানুষের উপস্থিতি। বিকেলের দিকে রাস্তায় বিপুলসংখ্যক যানবাহন দেখা যায়। এসব এলাকার চেকপোস্টও গাড়ির চাপে অনেকটাই শিথিল ছিল। চেকপোস্টে জিজ্ঞাসাবাদে কোনো না কোনো জরুরি কাজের কথা বলে মানুষ পার পাওয়ার চেষ্টা করেন।
গণভবন চেকপোস্টে ছোট-বড় প্রতিটি গাড়ির চালক ও যাত্রীদের জেরা করতে দেখা যায়। যৌক্তিক কারণ দেখাতে না পারলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ তল্লাশির কারণে এ সড়কে এক পর্যায়ে গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। শুধু গণভবন চেকপোস্ট নয়, রাজধানীর রাসেল স্কয়ার, কল্যাণপুর ও গাবতলী চেকপোস্টেও একই অবস্থা দেখা যায়।
গতকালও অলিগলিতে মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে। তাদের কেউ বের হয়েছেন বাজার করতে, কেউ কর্মস্থলের উদ্দেশে, কেউ হোটেলে সকালের নাস্তা সারতে। গলির কিছু কিছু দোকানে শাটার অর্ধেক খোলা রেখে বেচাবিক্রি চলেছে। ছোট ছোট হোটেলে বসে অনেককে খাবার খেতেও দেখা যায়।
চার বাহিনীর চেকপোস্টে ফাঁকা শাহবাগ : রাজধানীর শাহবাগ মোড়ের দুদিকে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালায় সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশ। সেনাবাহিনীর টহল শেষে আসে বিজিবি। বাটা সিগন্যাল, কাঁটাবন হয়ে যেসব গাড়ি আসছিল, সেগুলো ফুটওভার ব্রিজের নিচে থামিয়ে তল্লাশি করেন সেনা সদস্যরা। এ চেকপোস্ট পেরিয়ে যেসব গাড়ি মৎস্য ভবনের দিকে যাচ্ছিল, সেগুলো পড়ে র্যাবের তল্লাশিতে। এতে একদিকে যেমন দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়, তেমনি দুর্ভোগে পড়ে চলাচলকারীরা।
শাহবাগে সেনাবাহিনীর দলের নেতৃত্বে থাকা মেজর হাসান চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, তারা প্রত্যেক গাড়ি থামিয়ে বাইরে বের হওয়ার কারণ জানতে চেয়েছেন। সন্তোষজনক উত্তর দিতে না পারলে তাদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ট্রাফিক পুলিশের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মাস্ক ছাড়া বা থুঁতনিতে মাস্ক রাখলে তাদের সচেতন করা হয় বলেও জানান তিনি।
বারডেমের সামনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু। তিনি বলেন, ‘সামনে সেনাবাহিনী তল্লাশি করছে। আর আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছি। প্রতিটি সড়কেই বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চেকপোস্ট রয়েছে। আমরা তল্লাশির পাশাপাশি জরিমানা ও মাস্ক বিতরণ করেছি।’
সেনাবাহিনীর দলটি দুপুর দেড়টার দিকে চলে যায়। এরপর আসে বিজিবির একটি টহলদল। তারা শাহবাগ মোড় ক্রস করে কাঁটাবন যাওয়ার পথে জাতীয় জাদুঘরের পাশে অবস্থান নেয়। তারাও প্রাইভেট কার চালক ও পথচারীদের জেরা করে। আর ফুলের মার্কেটের সামনে রয়েছে শাহবাগ থানার চেকপোস্ট। পুলিশ সদস্যরা মৎস্য ভবন থেকে শাহবাগের দিকে আসা গাড়িগুলো থামিয়ে তল্লাশি করেন।
প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে চার বাহিনীর চেকপোস্টের কারণে মানুষের চলাচল ছিল খুবই কম। তবে চেকপোস্ট উঠে যাওয়ার পর আবারও যানবাহনের চলাচল বেড়ে যায়। এ আড়াই ঘণ্টায় র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতে ১৩ জনকে ৭ হাজার ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়।