যশোরে দিন দিন ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করছে মরণব্যাধি করোনাভাইরাস। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। শহর থেকে শুরু করে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে চলছে করোনার থাবা।
হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন করোনা রোগীর চাপ বাড়ায় রোগীর চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। যশোর জেনারেল হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ডে আর রোগীর জায়গা হচ্ছে না। ওয়ার্ডের বাইরে ভ্যানের উপর রেখে ও গাছের নিচে বিছানা পেতে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে রোগীদের।
সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. রেহনেওয়াজ জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের। ১ হাজার ২০ জনের নমুনা পরীক্ষায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩৭৩ জন।
এদিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) আরিফ আহমেদ জানিয়েছেন, করোনা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে আরও আটজনের।
তিনি আরও জানান, যশোর জেনারেল হাসপাতালের রেড জোনে বুধবার মোট ভর্তি ছিলেন ১৫৫ জন এবং ইয়েলো জোনে ৮৮ জন।
চিকিৎসাধীন রোগীর স্বজনরা জানান, অনুমোদিত শয্যার চেয়ে রোগী বেশি হওয়ায় চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অনেক সময় ডাক্তার-নার্স পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের মতে রোগীদের সঠিক চিকিৎসায় আরও বেশি চিকিৎসক-নার্স ওই ওয়ার্ডে দিলে রোগীরা সত্যিকারে উপকৃত হবে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন বলেন, প্রতিদিনই রোগীর চাপ বাড়ছে। গ্রামাঞ্চলে সংক্রমণের সংখ্যা অনেকটা বেশি। এ জন্য গ্রামের মানুষ যাতে সংক্রমণের বিষয়ে গুরুত্ব দেয় সে বিষয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
যশোর সদরের আরবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহারুল ইসলাম বলেন, বর্ষা মৌসুমে ইনফ্লুয়েঞ্জা জ্বরের প্রকোপ থাকে। কিন্তু এর সাথে মহামারী করোনা যোগ হয়ে জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। জ্বর না করোনাভাইরাসে আক্রান্ত তা বুঝে উঠতে উঠতে সময় ক্ষেপণ হয়ে যাচ্ছে।
তিনি জানান, তার ইউনিয়নের ঘরে ঘরে এখন জ্বর ও সর্দি কাশির প্রকোপ দেখা যাচ্ছে।
সদর উপজেলার উপশহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এহসানুর রহমান লিটুও একই কথা বলেন।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আখতারুজ্জামান বলেন, গ্রামাঞ্চলের করোনা রোগীর সংখ্যা এখন বেশি। আর তারা এমন অবস্থায় হাসপাতালে আসছেন যে, সাথে সাথে অক্সিজেন দিতে হচ্ছে। রোগীর সংখ্যা এমন বৃদ্ধি পেতে থাকলে অক্সিজেন সংকট তৈরি হবে।
যশোর জেলায় করোনা আক্রান্ত সবচেয়ে বেশি সদর উপজেলায়। বুধবার মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩৭৩ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলাতেই ২০৩ জন।