করোনা আক্রান্ত সাংবাদিককে জোর করে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র!

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সৈয়দ সূফী মো. তাহেরুল ইসলাম ওরফে সূফী মোহাম্মদ (৪৬) নামে এক রোগীকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল থেকে জোর করে ছাড়পত্র দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই রোগী জানান, শ্বাসকষ্ট ও কাশি থাকা অবস্থায় কোনো পরীক্ষা ছাড়া তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

জানা যায়, লালমনিরহাট শহরের আদর্শপাড়া এলাকার মৃত কদর উদ্দিনের ছেলে সূফী মোহাম্মদ ২১ জুন করোনা উপসর্গ নিয়ে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে তার করোনা পজিটিভ আসে।

করোনা মুক্ত হওয়ার আগে তাকে ছাড়পত্র দেওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

সূফী মোহাম্মদ দৈনিক বর্তমান ও দি ইনকাপ নামের অনলাইন পত্রিকার লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি ও একজন সমাজকর্মী। করোনা রোগীদের চিকিৎসার অব্যবস্থপনা ও ভোগান্তির বিস্তারিত তুলে ধরে বুধবার (৭ জুলাই) স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসকের নিকট ই-মেইলে অভিযোগ করেন।

অভিযোগ থেকে জানা যায়, জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট থাকার পরও ভর্তির ১০ দিনের মাথায় গত ১ জুলাই সূফী মোহাম্মদকে জোরপূর্বক ছাড়পত্র দেওয়া হয়। তড়িঘড়ি করে কেন এভাবে ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর্তব্যরত নার্স তাকে জানান, এটা ডাক্তারের সিদ্বান্ত। কোনো চিকিৎসা ও পথ্য না পেয়ে একপ্রকার বাধ্য হয়েই ২ জুলাই অসুস্থ শরীর নিয়ে বাসায় ফিরতে হয় সুফী মোহাম্মদকে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ছাড়পত্রে ডোর (ডিসচার্জ অব রিকোয়েস্ট) শব্দ লেখা রয়েছে। তিনি বা তার পরিবারের কেউ ছাড়পত্র চায়নি। বরং সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত ছাড়পত্র না দেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি ও তার পরিবার। বর্তমানে সূফী মোহাম্মদ কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে বাসায় অবস্থান করছেন। কেন তার প্রতি এমন আচরণ করা হয়েছে তা তিনি বুঝে উঠতে পারছেন না।

অভিযোগে তিনি হাসপাতালের নানা অব্যবস্থাপনার কথা উল্লেখ করে বলেন, আইসোলেশন ওয়ার্ডে কর্তব্যরতদের পিপিই পড়ার কথা থাকলেও তারা তা পরছেন না। হাসপাতালের কেবিন পরিচ্ছন্ন করার জন্য রোগীকে পরিচ্ছন্নকর্মীদের টাকা দিতে হয়। হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় ওষুধ-পথ্য বাইরে থেকেও কিনতে হয়।

লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, অভিযোগের প্রেক্ষিতে সদর হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. আব্দুল বাসেতকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত  কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ওই কমিটি তাদের রিপোর্ট জমা দেবে।

সূত্রটি আরো জানায়, বর্তমানে করোনা ইউনিটে ২৭ রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সিরাজুল ইসলাম জানান, সরকারের দেওয়া করোনা গাইড লাইন অনুযায়ী তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

করোনা রোগীদের খাবারের মান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রোগীদের মানসম্মত খাবার দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারণ রোগীদের জন্য বরাদ্দ খাবারের ছবি দিয়ে অসত্য তথ্য দিয়েছেন সূফী মোহাম্মদ।

তিনি সূফী মোহাম্মদের সব অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করেন।

সূফী মোহাম্মদ ২ জুলাই এ হাসপাতালে রোগীর খাবার হিসেবে একটি বনরুটি, একটি কলা ও ডিমের ছবি ফেইসবুকে দেন। যা নিয়ে পরে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়।