চলতি বছরের এই সময় ভারতের মন্ত্রিসভায় ব্যাপক রদবদল হবে, এমনটা আগে থেকেই জানা ছিল। বিজেপি জোটের শরিকদের মন্ত্রিসভায় জায়গা করে দিতে সভার বহর বাড়ানো হবে, এ পর্যন্ত সংবাদটি গতানুগতিক। কিন্তু এই মন্ত্রিসভা বড় করার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ যে ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে এটাই হলো সংবাদ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় কে থাকছে আর কে বাদ পড়ছে তা আজ বৃহস্পতিবার স্পষ্ট হবে। প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার আট রাজ্যের রাজ্যপাল রদবদল হয়েছে।
যেসব রাজ্যের রাজ্যপাল বদলানো হয়েছে সেগুলো হলো কর্নাটক, মিজোরাম, গোয়া, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ ও ত্রিপুরা। এর মধ্যে থেবরচাঁদ গেহলটকে ভারতের কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে কর্নাটকের রাজ্যপাল করা হয়েছে। মোদির মন্ত্রিসভায় এই মুহূর্তে সদস্য রয়েছেন ৫২ জন। অনেক মন্ত্রীর কাছে রয়েছে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। তাদের এ ভার লঘু করতে আরও ৩১ জনকে মন্ত্রী করা হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। আর এই দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের একাধিক নেতা।
হিন্দুস্তান টাইমসের খবর অনুসারে, এলজেপি নেতা পশুপতি কুমার পরস এবং জেডিইউ নেতা আরসিপি সিংয়ের নাম নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। জেডিইউ দলের চারজনকে মন্ত্রী করার দাবি জানালেও তাদের দুজনকে মন্ত্রী করা হতে পারে। শোনা যাচ্ছে, মন্ত্রী হতে পারেন নিশিথ প্রামানিক। বেশ কয়েক দিন ধরেই তিনি দিল্লিতে রয়েছেন। এর আগে দিল্লিতে তার সঙ্গে কথা বলেছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নড্ডা। রাজবংশী ভোট ধরে রাখার ক্ষেত্রে নিশিথ বড় ভূমিকা পালন করেছেন উত্তরবঙ্গে। শান্তনু ঠাকুরও মোদির মন্ত্রিসভার সদস্য হতে পারেন। তিনি সপরিবারে দিল্লি গিয়েছেন বলে জানা গেছে। মতুয়া ভোট ধরে রাখতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। নিশিথ-শান্তনু ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের আরও বেশ কয়েকজনের নাম নিয়ে জল্পনা চলছে। লকেট চ্যাটার্জি, জগন্নাথ সরকারদের নিয়ে গুঞ্জন বাড়ছে রাজনৈতিক মহলে।
এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে মন্ত্রিত্বের আশায় বসে থাকা মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস-ত্যাগী নেতা জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, আসামের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল, বিহারের বিজেপি নেতা ও সাবেক উপমুখ্যমন্ত্রী সুশীল মোদি, উত্তর প্রদেশের রীতা বহুগুনা যোশি, বরুণ গান্ধী ও আপনা দলের প্রধান অনুপ্রিয়া প্যাটেলের নামও উঠে আসছে আলোচনায়।