সিলেটে বিভিন্ন ছুতায় অনেকে ঘরের বাইরে

কঠোর লকডাউনের ফাঁক গলিয়ে সিলেটে বিভিন্ন ছুতায় অনেকে ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিংবা ওষুধ কেনার কথা বলে ঘুরে বেড়াচ্ছেন নগরীতে। অলিগলিতে জমিয়ে আড্ডা দিচ্ছেন বৃদ্ধ থেকে শুরু করে তরুণ-কিশোররা। নির্ধারিত সময়ের পরেও খোলা থাকছে অনেক দোকানপাট। কেউ কেউ দোকানের এক শাটার খোলা রেখে অনেক রাত পর্যন্ত বেচাকেনা করছেন। নগরীতে রিকশার পাশাপাশি অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল বেড়েছে।

কঠোর লকডাউনের সপ্তম দিন গতকাল বুধবার নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সড়কে লোকজন ও যানবাহনের উপস্থিতি অনেক বেশি। নিত্যপণ্যের দোকান, ফার্মেসি, কাঁচা বাজারে অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। গা ঘেঁষে চলাফেরা করছেন। অনেকের মুখে নেই মাস্ক।

নগরীর বন্দরবাজারে জাকির হোসেন মাস্ক থুঁতনিতে ঝুলিয়ে কেনাকাটায় ব্যস্ত। মাস্ক কেন ঠিকমতো পরেননি জানতে চাইলে বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, ‘মাস্ক পরতে ভালো লাগে না। এরপরও র‌্যাব-পুলিশের ভয়ে ঝুলিয়ে রেখেছি। পুলিশ এলেই মাস্ক ঠিকমতো পরে নেব’। জাকিরের মতো অনেকেই গা ঘেঁষে, ঠিকমতো মাস্ক না পরে যার যার কাজে ব্যস্ত।

স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে উদাসীনতার কারণে সিলেট বিভাগে করোনায় মৃত্যু ও সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সিলেট বিভাগে এখন পর্যন্ত একদিনে এটাই করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। এ নিয়ে সিলেট বিভাগে এখন পর্যন্ত করোনায় মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ৫০২ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে আরও ৩৬২ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা. সুলতানা রাজিয়া জানান, সিলেট বিভাগের চার জেলা সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। সেইসঙ্গে বাড়ছে করোনা ও করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা। তিনি সংক্রমণ প্রতিরোধে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।   

সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ১ সপ্তাহ ধরে রোগীর চাপ বেড়েছে অত্যধিক। চাহিদামতো অনেককেই দেওয়া যাচ্ছে না আইসিইউ শয্যা। গতকাল বিকেল পর্যন্ত সিলেটের করোনা আইসোলেশন সেন্টার শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১০১ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। আর সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দুটি ওয়ার্ডে করোনার উপসর্গ নিয়ে ১৭৪ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। বর্তমানে বেশিরভাগ রোগীই ভর্তি হওয়ার দু-একদিনের মধ্যেই অবস্থা খারাপ হয়ে পড়ছে। এখন  বেশিরভাগ রোগীরই প্রয়োজন হচ্ছে আইসিইউ সেবা, যা সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সরকারি হাসপাতালগুলোকে।

শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সৈয়দ নাফি মাহাদী জানান, হাসপাতালে করোনার উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীর চাপ বেড়েছে। গত ১৫ দিন আগেও রোগীর এত চাপ ছিল না।

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনা সংক্রমণ যেভাবে বাড়ছে, তাতে স্বাস্থ্যবিধি ঠিকমতো মেনে না চললে সামনে বিপদ আরও বাড়বে। তাই এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।