নারায়ণগঞ্জের একমাত্র করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে প্লান্ট আছে, অক্সিজেন নেই। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এই হাসপাতালটি করোনা রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসলেও এখন পর্যন্ত চালু হয়নি সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্ট। ফলে সীমিত পরিমাণ সিলিন্ডারের অক্সিজেনের ওপর নির্ভর করেই আইসিউ এবং আইসোলেশন সেন্টারে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল বাসার জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অক্সিজেন সরবরাহের কথা জানানো হলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও আমাদের সচিবকে জানানো হয়েছে। যারা সরবরাহ করবে স্পেকটা কোম্পানি তাদের কাছ থেকে সদুত্তর পাইনি যে, কবে পাব।
তিনি আরও বলেন, অক্সিজেন প্লান্টের জন্য অক্সিজেন মজুতের ট্যাংক স্থাপনের কাজ শেষ হলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তরল অক্সিজেন সরবরাহ না করায় এ সেবা কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।
জানা গেছে, গত বছরের ৮ মার্চ দেশের প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় নারায়ণগঞ্জ শহরেই। জেলাকে করোনার রেড জোন ও হটস্পট হিসেবেও ঘোষণা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এই ভয়াবহ অবস্থায় বছরের ৮ এপ্রিল জেলার একমাত্র বিশেষায়িত ৩০০ শয্যার হাসপাতালটিকে সরকার কভিড ডেডিকেটেড ঘোষণা করে।
চলতি বছরের মে মাসে হাসপাতাল চত্বরে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্ট রুম নির্মাণসহ তরল অক্সিজেন মজুদের ট্যাংক স্থাপন ও সংযোগের কাজ সম্পন্ন হয়। এরপর এখন পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়মিত তরল অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারেনি।
বর্তমানে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় প্রতিদিন তিন থেকে চারবার ঢাকা ও আশপাশের এলাকা থেকে অক্সিজেন সংগ্রহ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ছোট ছোট সিলিন্ডার ওয়ার্ডের রোগীদের দিয়ে কুলানো যায় না। অক্সিজেন প্লান্টটি চালু হলে রোগীদের জীবন বাঁচবে। বর্তমানে যেভাবে করোনা বাড়ছে এই প্লান্ট চালু না হলে অক্সিজেন সংকটে পড়তে পারে নারায়ণগঞ্জ।
সিটি করপোরেশনের ১২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্ট চালুর দাবি জানিয়ে বলেন, এখানে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্ট চালু না করার ফলে রোগীদের বাধ্য হয়ে ঢাকা পাঠাতে হচ্ছে। সিলিন্ডারের মাধ্যমে সেই সাপোর্টটা দিতে পারছি না।
হাসপাতালে দুটি আইসোলেশন ওয়ার্ডে বর্তমানে ৬০ জন এবং ১০ শয্যার আইসিউ'র সব বেডেই করোনা আক্রান্ত রোগী ভর্তি আছেন। তাদের মধ্যে ৮০ শতাংশই ভারতীয় ডেল্টা ভেরিয়েন্টে আক্রান্ত বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ধারণা।
নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় নারায়ণগঞ্জে করোনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৫৪৬ জনের। এর মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে ২০৩ জনের শরীরে। প্রতিদিনই বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা।
স্বাস্থ্য বিভাগ আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে জনসচেতনতা। মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক এবং অকারণে বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে জেলাবাসীকে।