বাংলাদেশ ক্রিকেটের ‘পঞ্চপা-বের’ একজন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। অবশ্য মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা যুগের অবসান তো হয়েছেই। এখন আছেন চারজন। এদের মাঝে ‘আনসাং হিরো’ যাকে বলে তিনি কিন্তু মাহমুদউল্লাহ। আইসিসির টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের একমাত্র সেঞ্চুরিয়ান ছিলেন ২০১৫ সাল থেকে দুই বছর। ২০১৫ বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টানা দুটি সেঞ্চুরি করেছিলেন। আইসিসির আসরে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ তিনটি সেঞ্চুরিও তার অধিকারে। ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে করেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় সেঞ্চুরি। এত কিছু সত্ত্বেও বাংলাদেশ ক্রিকেট মানেই সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল এবং মুশফিকুর রহিম। ঠিক তেমনি টেস্টেও মাহমুদউল্লাহর যে সেঞ্চুরিগুলো, তার গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু বরাবরের মতো লাইমলাইটের আড়ালেই থেকে গেছেন।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে গতকাল ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি করেছেন মাহমুদউল্লাহ। ১৫০ রানে অপরাজিত থেকে টেস্ট ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংসও উপহার দিলেন। এই জিম্বাবুয়ের সঙ্গে আগে মিরপুরে একটি সেঞ্চুরি ছিল তার। এ ছাড়া নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে তাদের মাটিতেই দুটি এবং উইন্ডিজের সঙ্গে দেশের মাটিতে অপর সেঞ্চুরি করেছেন। সবগুলো সেঞ্চুরিই বাংলাদেশকে বিপদ থেকে নিরাপদে নিয়েছে। বোলারদের নিয়ে লড়াই করে দলকে লড়াকু অবস্থানে বা জয়ের প্রান্তে নিয়ে গেছেন মাহমুদউল্লাহ। পঞ্চমটিতেও যেমন বাংলাদেশ খাদের কিনারা থেকে উঠে এখন জয়ের স্বপ্ন দেখছে।
মাহমুদউল্লাহর প্রথম সেঞ্চুরি ২০১০ সালে নিউজিল্যান্ডের হ্যামিলটনে। স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংসে করা ৭ উইকেটে ৫৫৩ রানে ইনিংস ঘোষণার জবাবে ১৯৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে বাংলাদেশ। সপ্তম উইকেটে সাকিবের সঙ্গে যোগ দেন মাহমুদউল্লাহ। ১৪৫ রানে জুটি গড়ে বাংলাদেশকে লড়াইয়ে ফেরান। শেষ পর্যন্ত বোলারদের নিয়ে আরও কিছু সময় লড়ে ব্যক্তিগত ১১৫ রানে থামেন। দলের স্কোর দাঁড়ায় ৪০২। তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২০১৮ সালে। ২১৮ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে নেমে ২৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বসেছে বাংলাদেশ। ওই সময় মোহাম্মদ মিঠুনকে নিয়ে ১১৮ রানের জুটি মাহমুদউল্লাহর। শেষ পর্যন্ত ১০১ রানে অপরাজিত থেকে জিম্বাবুয়েকে ৪৪৩ রানের অসম্ভব লক্ষ্য দেওয়া নিশ্চিত করেন। সে বছরই উইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশেও ভূমিকা রাখে মাহমুদউল্লাহর সেঞ্চুরি। প্রথম ইনিংসে দলের ৫০৮ রানে একমাত্র সেঞ্চুরি মাহমুদউল্লাহর। ১৩৬ রানের ইনিংসে লিটন দাশ ও বোলারদের নিয়ে দলকে ৩০১ থেকে ৫০৮-এ পৌঁছে দেন। তাতে ইনিংস জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরিটি দলকে জেতাতে পারেনি বটে, কিন্তু লড়াইয়ে রাখে বাংলাদেশকে। প্রথম ইনিংসে ৪৮১ রানে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ১২৬ রানে ৪ উইকেট হারায়। দল তখনো ৩৫৫ রান পিছিয়ে। সেখান থেকে সৌম্য সরকারকে নিয়ে ২৩৫ রানের জুটি গড়েন মাহমুদউল্লাহ। সৌম্য ১৪৯ করে ফিরলেও ১৪৬ রান করে দলীয় ৪২৯ রানে আউট হন তিনি।
মাহমুদউল্লাহর আগের চার সেঞ্চুরির দুটি এসেছে ছয় নম্বরে নেমে, একটি সাতে এবং একটি আটে। এর মধ্যে ৬ ও ৭-এ করা দুই সেঞ্চুরিতেই জিতেছে দল। তার মানে ওপরের দিকে সুযোগ পেলে ব্যাটসম্যান হিসেবে আরও ভালো করতে পারতেন মাহমুদউল্লাহ। সুযোগ না পাওয়াটাই আক্ষেপ হতে পারে তার। তবুও পারেন না যে তা নয়। পঞ্চম সেঞ্চুরিটি তো পেলেন আটে নেমেই। সঙ্গে ১০-এ নামা তাসকিনকে নিয়ে ১৯১ রানের জুটিতে। আর এবারও দলের জয় অনেকটাই সুগম।