আফগানিস্তান তালেবানের নিয়ন্ত্রণে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সম্প্রতি এক ঘোষণায় বলেছেন, আফগানিস্তানে আগস্টের ৩১ তারিখের মধ্যেই তাদের সামরিক মিশন শেষ হবে। এর সঙ্গে সঙ্গে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সব সেনা বের হয়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সঙ্গে ন্যাটোর সেনারাও চলে যাবে। এমন এক সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো আফগানিস্তান ছাড়ছে যখন তালেবানরা আগের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী। গতকাল শুক্রবার তালেবানরা জানিয়েছে যে, আফগানিস্তানের ৮৫ শতাংশ এলাকার দখল নিয়েছে তারা। এর মধ্যে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ আফগান-তাজিক সীমান্ত। ওই সীমান্তের দুই-তৃতীয়াংশ ইতিমধ্যেই তালেবানরা নিয়ন্ত্রণ করছে।

ইরানের সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকাও দখল নিয়েছে তালেবান। ইরানের সীমান্তবর্তী ইসলাম কালা শহরের পূর্ণ দখল নিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। আফগানবিষয়ক পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো দখলের মধ্য দিয়ে তালেবানরা তাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পথে হাঁটছে। মস্কোতে তালেবানদের একটি প্রতিনিধিদলের দাবি, তারা আফগানিস্তানের ৩৯৮টি জেলার মধ্যে ২৫০টির দখল নিয়েছে। এমন দাবি কতটা সঠিক তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। কারণ, আফগান প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ এএফপিকে জানান, ইসলাম কালা সীমান্ত পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রণে। যদিও কাবুল প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, তারা তালেবানদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তারেক আরিয়ান সাংবাদিকদের বলেন, ‘কাবুলে এখন আফগানিস্তানের সব নিরাপত্তা রক্ষী ও সীমান্ত রক্ষীরা অবস্থান করছে এখন। এলাকা পুনর্দখলের প্রক্রিয়া চলছে।’

এদিকে বেশ কয়েকটি মিডিয়া বলছে, আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষ তালেবানদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অনেক অঞ্চলে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে তালেবানদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরছে, এমন কিছু ছবিও প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু ছবিগুলো কোন সময়ের তা নিশ্চিত করা যায়নি। মিডিয়ার এমন দাবির সঙ্গে দেশটির বাস্তবিক পরিস্থিতি মিলছে না। কারণ তালেবানরা দাবি করছে, তারা দেশটির অধিকাংশ এলাকাই দখল করেছে কোনো প্রকার রক্তপাত ছাড়াই। আফগান বাহিনী কোনো লড়াই বা প্রতিরোধ না গড়ে উল্টো পালিয়ে যাওয়ায় তালেবানদের পক্ষে অঞ্চলগুলো দখল করা সহজ হয়েছে।

তালেবানদের এখন অন্যতম টার্গেট কাবুল বিমানবন্দরের দখল নেওয়া। কারণ, এই বিমানবন্দরটি কৌশলগত দিক দিয়ে এশিয়ার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই বিমানবন্দর ব্যবহার করেই এতদিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো এশিয়ার বিভিন্ন স্থানে বিমান অভিযান পরিচালনা করেছে। তালেবানরা বিমানবন্দরটির দখল নিলে প্রতিবেশী বেশ কয়েকটি দেশের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে গোষ্ঠীটি। যদিও বাইডেন প্রশাসন চাইছে কাবুল বিমানবন্দরের দায়িত্ব যেন তুরস্ক নেয়। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান অবশ্য এমন প্রস্তাবে রাজি।

অন্যদিকে তালেবানরা এবার স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, তারা তাদের মাটিতে আর কোনো বিদেশি সেনাকে দেখতে চায় না। এমন অবস্থায় তুরস্ক যদি কাবুল বিমানবন্দরের দায়িত্ব নেয়, তাহলে দেশটিতে নতুন করে গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতির জন্ম নেবে। অবশ্য আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি বলছেন যে, পরিস্থিতি এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। কাবুলে এক সংবাদ সম্মেলনে ঘানি বলেন, ‘আমরা যে পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করছি তা স্পষ্টই একটি পরিবর্তন। আমরাই বৈধ সরকার। খোদা আমাদের সঙ্গে আছেন।’ তালেবানদের সঙ্গে আফগান সরকারের কোনো সমঝোতা বা আলোচনার সুযোগ আছে কিনা এমন প্রশ্ন এড়িয়ে যান ঘানি।