করোনায় মৃত্যু হয়েছে তাই শ্মশানে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় বাধা দিয়েছেন সেখানকার কর্মকর্তারা। সমাধান করতে শেষ পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করতে হলো দুই জনপ্রতিনিধিকে এবং দাহ করেছেন স্বেচ্ছাসেবক তাকওয়া ফাউন্ডেশনের সদস্যরা। ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার রাতে যশোরের মনিরামপুর উপজেলায়।
উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের সাতনল গ্রামের মৃত রতন সরকারের ছেলে প্রফুল্ল সরকারের বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় তার মৃত্যু হয়।
প্রফুল্ল সরকারের ছেলে শেখর সরকার জানান, মৃত্যুর পর তার বাবার মরদেহ সৎকারের জন্য আত্মীয়স্বজন অথবা এলাকার কোনো ব্যক্তি এগিয়ে আসেনি। তার মা ও অন্য দুই ভাই হাসপাতালের বারান্দায় লাশ নিয়ে যখন অসহায় অবস্থায় বসে ছিলেন, তখন খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে করোনায় মৃত সমাহিতের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা তাকওয়া ফাউন্ডেশনের কয়েকজন সদস্য গিয়ে মরদেহ নিয়ে যান মনিরামপুর পৌর এলাকার তাহেরপুর মহাশ্মশানে। এ সময় সৎকারে বাধা দেন শ্মশানের গোষাই (তত্ত্বাবধায়ক) সুশীল মন্ডল ও তার লোকজন। পরে উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা খানম এবং পৌর কাউন্সিলর বাবুলাল চৌধুরীর হস্তক্ষেপে সৎকার করা হয়। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন তাকওয়া ফাউন্ডেশনের সদস্যরা চিতা সাজিয়ে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ব্যবস্থা করেন।
তবে মৃতদেহ সৎকারে বাধা দেওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করে শ্মশান কমিটির সাধারণ সম্পাদক তুলসি বসু জানান, মূলত করোনা আতঙ্কে অনাকাক্সিক্ষত এ ঘটনা ঘটেছে।