সামনে কোরবানির ঈদকে ঘিরে বিক্রির আসায় প্রস্তুত করা হয়েছে হাজার হাজার গরু। বিনিয়োগ করা হয়েছে লাখ লাখ টাকা। ভালো লাভের আশায় দিন রাত পরিশ্রম করছে গবাদি পশুর খামারের শ্রমিকেরা।
কিন্তু করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় দেয়া হয়েছে কঠোর লকডাউন। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারি বিধিনিষেধ অনুযায়ী গত বছরের মতো এবারও বন্ধ রয়েছে পশুর হাট। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছে গরুর খামারিরা।
তবে অনলাইনে গরু বিক্রির অনুমতি থাকলেও হতাশ গরু খামারিরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলায় অন্য সময়ে বেশি গরু থাকলেও করোনাকালীন কোরবানির যোগ্য গরু রয়েছে ৮৩টি, জেলায় ছোট বড় মিলিয়ে কোরবানির জন্য হৃষ্টপুষ্টকরণ খামারের সংখ্যা রয়েছে ২ হাজার ৯৮টি। আর ডেইরিসহ মোট খামারের সংখ্যা ১৬ হাজার।
মাদারীপুর জেলায় কোরবানির যোগ্য গরুর চাহিদা রয়েছে ৩৪ হাজার ১২৫টি। উৎপাদন আছে ৩৬ হাজার ২২৩টি। অনেকেই বিভিন্ন ব্যাংক, এনজিও, ধারদেনা করে গরুর খামার করেছেন।
প্রতিটি খামারে কমপক্ষে কর্মরত ৮ জন শ্রমিকসহ মাসিক খরচ ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। সেখান থেকে গেল বছর করোনার কারনে গরু হাটে নিতে না পারায় অনলাইনের মাধ্যমে কয়েকটা গরু বিক্রি করে ক্ষতির মুখে পড়ে খামার মালিকসহ শ্রমিকেরা।
এর রকম শত শত খামারীরা এহেন পরিস্থিতিতে রয়েছে। এই বছর আবার করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার বাড়তে থাকায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারি বিধিনিষেধ অনুযায়ী গত বছরের মতো এবারও বন্ধ রয়েছে পশুর হাট।
এতে হাজার হাজার বিক্রয়যোগ্য গরু নিয়ে বিপাকে পড়েছে খামারের মালিকরা। এদিকে গরু বিক্রি না হলে গত বছরের মতো এই বছরও বেতন নিয়ে ঝামেলায় পড়ার হতাশায় ভুগছেন শ্রমিকেরা।
খামার শ্রমিক রাসেল, রমিজ সোহেল জানান, গতবার করোনায় আমাদের বেতন নিয়ে ঝামেলা হইছিল, এবারও যদি গরু বিক্রি না হয়, আর খামার থেকে মালিককে লাভবান দেখাতে না পারি তাহলে আমাদের বেতন পাই কিনা জানি না।
ফরিদ ও আনোয়ার, সরাফাতসহ কয়েকজন খামারের মালিক জানান, গত বছর বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি, এবার কি হবে আল্লাহ জানেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাট চালু করলে বিক্রি করতে সুবিধা হতো, পেছনের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া যেত মনে হয়।
নাজমুল মোড়ল নামে একজন বলেন, হাটগুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালু করলে সকল খামারির জন্য ভালো হয়, আমাদের কিনতেও সুবিধা, যাচাই-বাছাই করে কিনতে পারবো।
মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন জানান, এই করোনা মহামারিতে মাদারীপুরের পরিস্থিতি অনেকটাই ঝুঁকিপূর্ণ। এ সময় কোরবানি হাট চালু করা ঠিক হবে না, তাই আমার অনালাইনে গরু কেনার কথা বলবো। অনলাইনে কেনার জন্য আমরা প্রশসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’