করোনা রোগীদের চিকিৎসায় ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কনভেনশন হলে ১০০০ শয্যার ফিল্ড হাসপাতাল হচ্ছে। এতে ৪০০ আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র), ৪০০ এইচডিইউ (হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট) ও সাধারণ শয্যা থাকবে। রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের অপর পাশে বর্তমানে এই কনভেনশন সেন্টারে বিএসএমএমইউর করোনার টিকাদান কার্যক্রম চলছে।
গতকাল শনিবার দুপুরে বিএসএমএমইউর বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কনভেনশন হল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পাঁচ তারকা মানের এই হাসপাতাল দেশের সবচেয়ে বড় করোনা হাসপাতাল হবে। এখানে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা রয়েছে। এখানে শুধু অক্সিজেনের ব্যবস্থা করতে হবে। এখানে এসি, ইলেকট্রিসিটি, পানি এবং সুন্দর স্থাপনা আছে। আমাদের চেষ্টা থাকবে যত দ্রুত এই হাসপাতালটিকে চালু করা।
এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১০ দিনে কমপক্ষে ৯০ হাজার করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। সম্প্রতি রোগী বেড়েছে ৮ গুণ। বর্তমানে হাসপাতালের ৮০ শতাংশ শয্যায় রোগী ভর্তি। দিন দিন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এ অবস্থায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের সংশ্লিষ্ট সব হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধির নির্দেশ দিয়েছেন।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কনভেনশন হলে সুন্দর অবকাঠামো রয়েছে। বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা হবে। আইসিইউ, এইচডিইউ শয্যার ব্যবস্থা করা হবে এবং জনবলের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। আশা করছি, এখানে ১০০০ থেকে ১২০০ শয্যার হাসপাতাল চালু করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া বাকি বেডেও অক্সিজেনের ব্যবস্থা থাকবে। এটা একটা বিরাট সাপোর্ট হবে। এখানে অনেক রোগী থাকতে পারবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, অন্যান্য জেলা থেকে অনেক রোগী ঢাকায় চলে আসছে। যেমন খুলনা, যশোর, রাজশাহী, রংপুরসহ প্রায় সব বিভাগ এবং জেলাগুলোতে নতুন করে আরও কিছু হাসপাতাল নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন যাতে আমরা বেডের সংখ্যা বাড়াতে পারি। শুধু বেড বাড়ালে চলবে না , আমাদের জনবলও লাগবে। বেড বাড়ানোরও একটা সীমাবদ্ধতা আছে। আমরা তো পুরো দেশকে হাসপাতাল বানাতে পারব না। আমাদের সেটা বুঝতে হবে। বেড বাড়ালেও আবার জনবল কোথা থেকে পাব। সেই চিন্তা করেও আমরা গত কয়েক দিনে চার হাজার নতুন চিকিৎসক ও চার হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। এই করোনাকালীন সময়ে সব মিলিয়ে ৫০ হাজার নতুন লোক কাজ করছে করোনার সেবাতেই।
করোনা নিয়ন্ত্রণে পরামর্শ দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালগুলো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী তৈরি করে না। যেখান থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে যেমন অলিগলি, চায়ের দোকান, বাজার, ঘাটÑ সেখানেই নজর দিতে হবে। মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে বাধ্য করতে হবে। এই ভাইরাস থেকে মুক্তির উপায় হলো একে নিয়ন্ত্রণ করা।
এ সময় বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ জানান, করোনা রোগীদের চিকিৎসাসেবার জন্য ফিল্ড হাসপাতাল তৈরির যাবতীয় প্রস্তুতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের রয়েছে। সরকারের প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই হাসপাতাল চালু করা হবে।