হাইতির প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মইসিকে হত্যার ঘটনায় গঠিত তদন্তে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্র ও আরও কয়েকটি দেশের কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন। গত বুধবার বিশ্ববাসীকে জোভেনেল মইসির হত্যাকাণ্ডের ঘটনা হতবাক করে দেয়। বলা হচ্ছে, মইসিকে হত্যায় অংশ নিয়েছিল ২৮ জনের একটি প্রশিক্ষিত দল, যাদের মধ্যে ২৬ জন কলম্বিয়ান ও দুই জন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। এই ২৮ জনের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করতেও সক্ষম হয়েছে হাইতি পুলিশ।
পুলিশ ঘটনার সঙ্গে যুক্তদের ধরতে সক্ষম হলেও, এখনো জানা যায়নি মইসিকে হত্যার নির্দেশদাতার নাম। মইসিকে দেশের ভেতর থেকেই হত্যা করা হয়েছে নাকি বিদেশি কোনো শক্তির নির্দেশে কাজটি করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য এখনো প্রকাশ হয়নি। হাইতির কর্র্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে যে, নিকট ভবিষ্যতে দেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত সমস্যা বাড়তে পারে। বিশেষ করে মইসির হত্যার পর এখন আর কেউই নিরাপদ বোধ করছে না দেশটির। এমন অবস্থায় হাইতি প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের কাছে সেনা সহায়তা চেয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র ওই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে, আর জাতিসংঘ কোনো উত্তরই দেয়নি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় হাইতির রাজনীতিতে প্রবেশ করবে কি না তা এখনো বলা যাচ্ছে না। কিন্তু হাইতিকে কেন্দ্র করে ওই অঞ্চলের যুদ্ধ-সহিংসতা-সংঘাতের নয়া অধ্যায় শুরু হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
হাইতির পরিস্থিতি বর্তমানে এমন যে, প্রশাসনের মধ্যে অবিশ্বাস আর সন্দেহের সূত্রপাত হয়েছে। প্রভাবশালী সাবেক আইনপ্রণেতা ও বিরোধীদলীয় নেতা স্টিফেন বেনোইত গত শনিবার সিএনএনকে জানান, মইসিকে হত্যা নিয়ে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ক্লদ জোসেফের দেওয়া কোনো তথ্যই তিনি বিশ্বাস করেন না। বেনোইতই প্রথম জানান যে, কলম্বিয়ানরা মইসিকে হত্যা করলেও এর নির্দেশদাতা দেশের ভেতরকারই কেউ। এমন বক্তব্য দিয়ে বেনোইত স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর কাড়েন। সিএনএনকে তিনি আরও জানান যে, তার কাছে এমন কোনো প্রমাণ নেই যে মইসিকে হত্যার নির্দেশদাতা সরকারের মধ্যকারই কেউ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মইসির হত্যার ঘটনা এখন বিদেশিরা তদন্ত করে দেখছে, এমনটাই চাইছে দেশটির জনগণ। হাইতির জনগণের নিজেদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর যে ভরসা নেই তা জনগণের মধ্য থেকে বেশ কয়েকজন স্পষ্ট করেছে সিএনএনকে। বেনোইতকেই বলতে শোনা যায়, ‘ভালো সংবাদ হলো এফবিআই এখানে আসছে। কলম্বিয়ার এফবিআইও এসেছে। তারা তাদের কাজে পেশাদার। আমি আশা করি সোমবার সকালের আগেই সত্যিটা আমরা জানতে পারব।’ সোমবার তদন্ত শেষে তদন্তকারী দলের বিচারপতির কাছে যাওয়ার কথা রয়েছে। গত শনিবার কলম্বিয়া পুলিশের একটি দল হাইতিতে পৌঁছেছে তদন্তে সহায়তার জন্য। এই দলের মধ্যে আছে কলম্বিয়ার ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি ও ইন্টেলিজেন্স ডিভিশনের প্রধানরা। হাইতি সরকার বলছে, চলতি মাসের শুরুতে কলম্বিয়ার সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ১৩ জন সদস্য হাইতিতে প্রবেশ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তারাও মইসি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
এদিকে, মইসির স্ত্রী মার্টিন মইসি এখন মিয়ামিতে চিকিৎসারত আছেন। সেখান থেকে এক অডিওবার্তায় তিনি বলেন, ‘হামলাকারীরা মুহূর্তের মধ্যেই বাড়িতে ঢুকে পড়ে। আমার স্বামীকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে হত্যা করে। একজন প্রেসিডেন্টকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে ঘাতকরা। তাকে কোনো কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি।’ হামলাকারীরা প্রেসিডেন্টের স্বপ্নকে হত্যা করতে চায় বলেও জানান তিনি। মার্টিন মইসি আরও বলেন, ‘আমি কান্নাকাটি করছি এটা সত্য। তবে আমরা তার পথ ভুলে যেতে পারি না। আমার স্বামী, আমাদের প্রেসিডেন্টকে আমরা অনেক বেশি ভালোবাসি। তার রক্ত বৃথা যেতে দিতে পারি না।’