রূপগঞ্জে কারখানায় আগুন

হতাহতের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের হাসেম ফুডস লিমিটেডের কারখানায় আগুনে হতাহতের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে উচ্চ আদালত বলেছে, এ ঘটনায় আমরাও মর্মাহত। এখন ঘটনার অনুসন্ধান স্বচ্ছতার সঙ্গে হচ্ছে কি না সেটি হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে থাকবে। আদালত আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে অ্যাটর্নি জেনারেলকে স্বাস্থ্য সচিব এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিবের সঙ্গে কথা বলতে বলেছে। একই সঙ্গে আহতদের তালিকা করে তা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

অগ্নিকান্ডের এ ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে এবং আহতদের ৩৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে বেসরকারি তিনটি সংগঠনের পক্ষে করা রিট আবেদনটি গতকাল রবিবার উপস্থাপন করা হলে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল একক হাইকোর্ট বেঞ্চ থেকে এমন অভিমত ও মৌখিক নির্দেশনা আসে।

গত ৮ জুলাই সন্ধ্যায় হাসেম ফুডসের কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করে। এ ঘটনায় ৫২ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে ৫০ জন। অগ্নিকান্ড ও মৃত্যুর ঘটনায় ইতিমধ্যে সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. আবুল হাসেমসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও আহতদের জন্য ক্ষতিপূরণ চেয়ে জরুরি বিবেচনায় আসক (আইন ও সালিশ কেন্দ্র), ব্লাস্ট (বাংলাদেশ লিগ্যাল অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট), বেলা (বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি) এবং এসআরএসের (সেফটি অ্যান্ড রাইটস সোসাইটি) পক্ষে গত শনিবার রাতে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে এ আবেদনটি করা হয়। আহতদের দ্রুত চিকিৎসা এবং ঘটনার তদন্ত করে দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিলের নির্দেশনা চাওয়া হয় আর্জিতে। আদালতে ভার্চুয়ালি আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না, সারা হোসেন, নীনা গোস্বামী, অনিক আর হক, মো. শাহীনুজ্জামান শাহীন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার ও সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস।

শুনানিকালে হাইকোর্ট বলে, ‘এ ঘটনায় আমরাও উদ্বিগ্ন ও মর্মাহত। ইতিমধ্যে মামলা হয়েছে। কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত হবে। এখন স্বচ্ছতার সঙ্গে ঘটনার অনুসন্ধান হচ্ছে কি না সেটি আমাদের পর্যবেক্ষণে থাকবে। তাই এ বিষয়ে আমরা এখনই হস্তক্ষেপ করতে চাই না।’ আদালত আরও বলে, ‘ক্ষতিগ্রস্তরা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার হকদার। এরই মধ্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সরকারিভাবে এ উদ্যোগ নিয়েছে। তবে সেটি পর্যাপ্ত কি না জানি না। এখনো ৫১টি লাশ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। লাশগুলো চিহ্নিত না হলে ক্ষতিপূরণ দেওয়াও সম্ভব নয়। তাই ডিএনএ পরীক্ষা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।’ হাইকোর্ট নিয়মিত আদালত খোলার পর ক্ষতিপূরণের প্রশ্নে রিট আবেদনটি উপস্থাপনে আইনজীবীদের পরামর্শ দেয়।