২০২০-২১ অর্থবছর

৭৯৩ কোটি ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

সরবরাহ বেশি থাকায় বাজার স্থিতিশীল রাখতে রেকর্ড পরিমাণ ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিদায়ী ২০২০-২১ অর্থবছরে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে সব মিলিয়ে ৭৯৩ কোটি ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এর আগে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৫১৫ কোটি ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এটিই ছিল এর আগের সর্বোচ্চ ডলার কেনার রেকর্ড।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, বাজার স্থিতিশীল রাখতে অর্থাৎ ডলারের মূল্য পড়ে যাওয়া ঠেকাতে এ ডলার কেনে বাংলাদেশ ব্যাংক। আবার ব্যাংকগুলোর প্রয়োজন হলে তাদের কাছে ডলার বিক্রিও করে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

বিদায়ী অর্থবছরের ধারাবাহিকতায় নতুন ২০২১-২২ অর্থবছরের শুরুতেও ডলার কেনা অব্যাহত রেখেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত ৭ জুলাই পর্যন্ত ৩ কোটি ডলারের মতো কেনা হয়েছে।

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, মহামারীর মধ্যে ব্যবসায় মন্দাজনিত কারণে আমদানি ব্যয় কম। পাশাপাশি প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের উচ্চ প্রবৃদ্ধি এবং রপ্তানি আয় বাড়ার কারণে দেশের ব্যাংক খাতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ডলার জমা হচ্ছে।

বর্তমানে ডলারপ্রতি আন্তঃব্যাংক বিনিময় হার ৮৪ দশমিক ৮০ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে। গত বছরের ২ জুন এ হার ছিল ৮৪ দশমিক ৯৫ টাকা।

মহামারীর মধ্যেও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের উল্লম্ফন অব্যাহত রয়েছে। বিদায়ী অর্থবছরে ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অঙ্ক আগের অর্থবছরের রেমিট্যান্সের চেয়ে ৩৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।

আর পণ্য রপ্তানি থেকে ৩৮ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ, যা ২০১৯-২০ অর্থবছরের চেয়ে ১৫ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।

অর্থবছরের শেষ দিকে এসে আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে। পুরো অর্থবছরের তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। ১১ মাসের তথ্যে (জুলাই-মে) দেখা যায়, আমদানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ।

রেমিট্যান্সে ভর করে বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ রেকর্ডের পর রেকর্ড হয়েছে। মহামারীর মধ্যে গত ২৯ জুন রিজার্ভ ৪৬ বিলিয়ন (৪ হাজার ৬০০ কোটি) ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে।

তবে গত বৃহস্পতিবার এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) মে-জুন মেয়াদের আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪৫ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। সোমবার দিনশেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৪৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার।

কিন্তু ডলারের বিপরীতে বড় অঙ্কের টাকা বাজারে সরবরাহ করতে হচ্ছে। এর জের ধরে বাজারে এখন অতিরিক্ত তারল্য সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, ব্যবসা মন্দার কারণে এখন ঋণের চাহিদা কমে গেছে। ফলে ব্যাংকে জমা হচ্ছে অলস টাকা। বর্তমানে ব্যাংকগুলোর কাছে ২ লাখ কোটি টাকার বেশি উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে।