দেশ রূপান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর বাসাইল উপজেলা চেয়ারম্যানের ড্রেজার বন্ধ

দেশ রূপান্তর পত্রিকার অনলাইন ও প্রিন্ট ভার্সনে সংবাদ প্রকাশের পর টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা চেয়ারম্যানের সেই ড্রেজার বন্ধ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। সোমবার বিকেলে ড্রেজারের সব সরজ্ঞমাদি সরিয়ে নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা চেয়ারম্যান বাসাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুর খনন কাজে বাংলা ড্রেজার ব্যবহার করে আসছিলেন। এ নিয়ে দেশ রূপান্তরের অনলাইন ও পিন্ট ভার্সনে সংবাদ প্রচার হয়। সংবাদটি টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনির নজরে আসলে ড্রেজারটি বন্ধের নিদের্শ দেন। এসময় তিনি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সৈয়দ মাহমুদ হাসনকে সরেজমিনে তদন্তে পাঠান।

এ বিষয়ে বাসাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কাশেম মিঞা বলেন, হঠাৎ করে সোমবার বিকেলে ড্রেজার মেশিনটি সরিয়ে নেয়া হয়। এ সময় পূর্বপাশের দিকে ভাঙ্গন দেখা দিলে পুকুরটিতে পানি দিয়ে ভরে দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিন তদন্ত শেষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সৈয়দ মাহমুদ হাসান বলেন, ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটার বিষয়টির প্রাথমিকভাবে সত্যতা মিলেছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পটির অর্ধেক কাজ হয়েছে। তাই তাদের বরাদ্দের অর্ধেক টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে। যেহেতু পুকুরটিতে প্রকল্প চলমান রয়েছে, তাই অর্ধেক কাজের অংশ হিসাবে পুকুরটির পাড় ভরাট করলে বাকি টাকা পরিশোধ করা হবে। বাসাইল উপজেলা খেলার মাঠের প্রকল্পের সব বিল তুলে নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ের টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি বলেন, দেশ রূপান্তর পত্রিকার নিউজটি আমার দৃষ্টিতে এসেছে। সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০২০-২১ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচীর ৪র্থ পর্যায়ে বাসাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুরের পাড় মেরামত ও পুকুর খনন কাজের জন্য তিন লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। পুকুর খনন করে সেই মাটি দিয়ে পাড় সংস্কার করার কথা থাকলেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম পুকুরটিতে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটতে শুরু করেন। এতে করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কার্যালয় ও ঐ বিদ্যালয় বিভিন্ন স্থাপনা হুমকিতে পড়ে। একই অর্থ বছরে বাসাইল উপজেলা খেলার মাঠ ভরাট প্রকল্প দেখিয়ে দুই লাখ টাকাসহ বিভিন্ন সময়ে অন্তত সাত লাখ টাকার বেশি উত্তোলন করা হয়। পূর্বে বরাদ্দকৃত অর্থের ১০ ভাগ কাজও হয়নি। পূর্বের বরাদ্দকৃত অর্থ বৈধ করতেই পুকুর খনন প্রকল্পের মাটি অবৈধ ড্রেজার দিয়ে কেটে নিয়ম বর্হিভূতভাবে মাঠ ভরাট শুরু করেছিলেন।