গণিতজ্ঞ, ভাষাবিদ, শিক্ষাব্রতী ও রাজনীতিবিদ দেবপ্রসাদ ঘোষ ১৯৮৫ সালের এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ১৮৯৮ সালের ১৫ মার্চ বরিশালের ঝালকাঠির অধীন গাভা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ক্ষেত্রনাথ ঘোষ ছিলেন ব্রজমোহন কলেজের অধ্যাপক এবং মা অন্নদা সুন্দরী ছিলেন কবি। কৃতী ছাত্র দেবপ্রসাদ এন্ট্রান্স ও আইএ পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করলেও স্বদেশি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বরিশালের ব্রজমোহন স্কুল এবং কলেজের ছাত্র হওয়ায় তৎকালের ব্রিটিশ সরকারের বৃত্তি থেকে বঞ্চিত হন। পরে কলকাতার সিটি কলেজ থেকে গণিতে বিএ পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে ‘ঈশান স্কলারশিপ’ লাভ করেন। গণিতে এমএ পাস করার পর তিনি রিপন কলেজে শিক্ষকতায় নিযুক্ত হন। এরপর দেবপ্রসাদ রিপন কলেজের ল’ ক্লাসের ছাত্র হিসেবে ল’ পরীক্ষাতেও প্রথম স্থান অধিকার করেন। ১৯৪১ সালে তিনি রংপুরের কারমাইকেল কলেজের অধ্যক্ষ পদে যোগ দেন এবং ১৯৫০ সালে অবসর গ্রহণ করেন। অনেকগুলো ভারতীয় ও ইউরোপীয় ভাষায় দেবপ্রসাদের বিশেষ দখল ছিল এবং বিশিষ্ট ভাষাতত্ত্ববিদ হিসেবে তিনি সমাদৃত ছিলেন। বাংলা ভাষা ও বানান নিয়ে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তার পত্র-বিতর্ক একসময় বিদগ্ধ মহলে যথেষ্ট আগ্রহ সৃষ্টি করেছিল। এ বিষয়ে তার রচিত ‘বাঙ্গালা ভাষার বানান’ গ্রন্থটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য। খ্যাতিমান গণিতজ্ঞ দেবপ্রসাদের রচিত বীজগণিত, পাটিগণিত, জ্যামিতি ও ত্রিকোণমিতির ওপর পাঠ্যবইগুলো ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। দেবপ্রসাদ ১৯১৫ সালে কংগ্রেসের সদস্য হিসেবে সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ নেন। ১৯২৩-৩২ সাল পর্যন্ত বাংলার ন্যাশনালিস্ট পার্টির সদস্য ছিলেন। ১৯৩৩ সালে তিনি হিন্দু মহাসভায় যোগ দেন। পরে ১৯৫১ সালে নবপ্রতিষ্ঠিত ভারতীয় জনসংঘের সদস্য হন। ১৯৫২ সালে নির্বাচনে জিতে রাজ্যসভার সদস্যপদ লাভ করেন। ভারতীয় জনসংঘের সভাপতি ছিলেন পাঁচ বছর এবং রাজ্য শাখার সভাপতি ছিলেন দীর্ঘদিন। ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষায় সুবক্তা হিসেবে খ্যাতি ছিল তার। ১৯৮৫ সালের ১৪ জুলাই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।