আর্জেন্টিনার হয়ে লিওনেল মেসি প্রথম বড় কোনো শিরোপা জয়ের পর আবারও উঠে এলো পুরনো আলোচনা। সেরা কে? মেসি নাকি ডিয়েগো ম্যারাডোনা। বর্তমান ও সাবেক ফুটবল তারকার মধ্যে অবশ্য তুলনা টানতে নারাজ মারিও কেম্পেস। আর্জেন্টিনার প্রথম বিশ্বকাপ (১৯৭৮) জয়ের নায়কের মতে, ম্যারাডোনার মতো ফুটবলার জন্মে একবারই; তাকে ছাড়িয়ে যাওয়া খুব কঠিন।
মেসির নেতৃত্বে ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে গত ১০ জুলাই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারিয়ে ১৫তম কোপা আমেরিকা জেতে আর্জেন্টিনা। ২৮ বছরের শিরোপা খরা উদযাপনে প্রয়াত ম্যারাডোনাকে স্মরণ করছেন দেশটির ফুটবল সমর্থকরা। ১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী মহানায়ককে ইএসপিএন মেক্সিকোর একটি অনুষ্ঠানে স্মরণ করলেন কেম্পেসও। সময়ের সেরা ফুটবলারদের একজন হিসেবে বিবেচিত মেসির সঙ্গে ম্যারাডোআর তুলনাও টানেন ১৯৭৮ বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ‘মেসির জন্য দুর্ভাগ্য যে তাকে ডিয়েগো ম্যারাডোনার বিকল্প মনে করা হয়। আর বিশ্বব্যাপী ডিয়েগোর প্রতি ভক্ত-সমর্থকদের যে শ্রদ্ধা-ভালোবাসা তা ছাপিয়ে যাওয়া খুবই কঠিন। লম্বা সময় ধরে সে (মেসি) আর্জেন্টিনার হয়ে একটা শিরোপা মিস করেছে। সে যদি ম্যারাডোনাকে ছাড়িয়ে যেতে চায়ও, পারবে না। এমনকি যদি সে টানা চারটি বিশ্বকাপও জেতে তবুও না। বিশ্বকাপ জিতলেই এটা পারা যায় না।’
দুজনের তুলনা নিয়ে বলতে গিয়ে কখনো ক্ষুব্ধ, কখনো বিস্মিতও হন ৬৬ বছর বয়সী কেম্পেস, ‘এটা অসম্ভব। সে (মেসি) কত জিতেছে, কী জিতেছে এটা কোনো ব্যাপার না, ম্যারাডোনা যা করেছে তার সঙ্গে এর কোনো তুলনাই চলে না। সে তার জায়গায়, মেসি মেসির জায়গায়। যে মেসির সমালোচনা করে সে ফুটবলের কিছুই বোঝে না। যখন তাকে ম্যারাডোনার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তখন সে খুব ভুগতে থাকে। ম্যারাডোনার মতো একজন আর জন্মাবে না। এই দিক থেকে আমরা ভাবতে পারি, মেসি হলো সব মানুষের মধ্যে সেরা, কারণ ম্যারাডোনা কোনো মানুষ ছিল নাৃ এটা দিয়ে আমি খারাপ কিছু বোঝাচ্ছি না।’
মেসির প্রতি ভালোবাসার কমতি নেই কেম্পেসের। রেকর্ড ছয়বারের বর্ষসেরা ফুটবলারকে তিনি সেরা হিসেবেই মানেন, কিন্তু ম্যারাডোনার স্থান তার কাছে আরও উঁচুতে, ‘আমি মেসিকে পছন্দ করি, তাকে ভালোবাসি। মেসির মতো মানসম্পন্ন ফুটবলার ইতিহাসে কখনো আসেনি। তাকে আমি এখন খুব খুশি দেখছি। জাতীয় দলের হয়ে সে শিরোপা জিততে পেরেছেৃ এটা আমাকে খুশি করেছে। এটা এমন আনন্দ দিয়েছে, যা বর্ণনা করা কঠিন।’