বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের অন্যতম উজ্জ্বল শিল্পী সৈয়দ আবদুল হাদী। তার গায়কি শুধু স্বতন্ত্র নয়, গান নির্বাচনের ক্ষেত্রেও তিনি বরাবরই স্বকীয়তার পরিচয় দিয়েছেন। বাণীসমৃদ্ধ গানেই তার ঝোঁক আজীবন। তাই তো তার কণ্ঠে চটুল কথার গান শোনা যায়নি। তারপরও জনপ্রিয়তার দিক থেকে তিনি কারও চেয়ে কম নন। সিনেমার গানে তার আধিপত্য চোখে পড়ার মতো। অসংখ্য সুপারহিট গান গেয়েছেন, যা আজও মানুষের মুখে মুখে। দীর্ঘ সংগীত ক্যারিয়ার পার করে আসা এই জাত শিল্পী আজও ক্লান্ত হননি। গান নিয়ে নিত্যনতুন ভাবনা তাকে তাড়িত করে। সম্প্রতি নতুন সংগীতায়োজনে কালজয়ী গানের পাশাপাশি বেশ কিছু মৌলিক গান রেকর্ডিং করেছেন তিনি। এর মধ্যে ১০টি মৌলিক গানের যে আয়োজন শুরু করেছিলেন, তার কাজ কতদূর এগোল, জানতে চাইলে সৈয়দ আবদুল হাদী বলেন, ‘কিছুদিন আগে কাজ শুরু করেছি, এত তাড়াতাড়ি ১০টি গান কি তৈরি করা সম্ভব। অন্তত আমার পক্ষে নয়। কদিন আগে দুটি গানের কাজ শেষ করেছি। পাশাপাশি একটি গানের সুর করা হয়েছে, এখন গানের সংগীতায়োজন শেষ হলে রেকর্ডিংয়ে যাব।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগে পুরো কাজ শেষ হোক, তারপর না হয় বলা যাবে, এগুলো চলতি বছর প্রকাশ পাবে কি না। গানের রেকর্ডিং শুরু হতে না হতেই যদি থেমে যায়, তাহলে প্রকাশ নিয়ে ভেবে লাভ কী? এখন যে পরিস্থিতি তাতে একনাগাড়ে কোনো কাজ করে যাওয়া সত্যিই কঠিন। তার পরও ধীরে ধীরে কাজ করে যাচ্ছি। কাজ শেষ হলে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ইমপ্রেস অডিও ভিশনের কর্মীরা সিদ্ধান্ত নেবেন কবে নাগাদ গান প্রকাশ করা যায়।’
সৈয়দ আবদুল হাদীর গান শুনে কয়েক প্রজন্মের বেড়ে ওঠা। এই দীর্ঘ সময়ে শ্রোতার চাহিদাও ক্ষণে ক্ষণে বদলে গেছে। তাদের প্রত্যশা পূরণে কাজের পরিকল্পনা সাজাতে হয়েছে নতুন করে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শ্রোতার প্রত্যাশা পূরণ একক চেষ্টায় হয়নি। গীতিকার, সুরকার, সংগীতায়োজক সবাই সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নতুন কিছু করার চেষ্টা করেছেন বলেই সম্ভব হয়েছে। সবার চেষ্টা থেকেই গানের ভুবনের বিবর্তন। তাই যখনই কিছু করতে যাই, তখন সময়ের চাহিদাকে প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা থাকে।’
নতুন কিছু করার চেষ্টা থাকলেও মেলোডি থেকে দূরে সরে থাকেননি। এর কারণ কী?
‘মেলোডি সুরের গানের চাহিদা যুগ যুগ ধরেই ছিল। মেলোডি গানের আবেদন কখনো ফুরিয়ে যাবে বলেও মনে হয় না। তাই দীর্ঘ ক্যারিয়ারে মেলোডি সুরের গানই প্রাধান্য দিয়েছি।’ আবদুল হাদীর ভাষ্য।
অনেক দিন কোনো টিভি আয়োজনে অংশ নিতে দেখা যায় না এই কিংবদন্তিতূল্য শিল্পীকে। ঈদের কোনো আয়োজনে আপনাকে দেখা যাবে কি? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঘর থেকে যখন বের হওয়া কঠিন, এমন একটা সময়ে টিভি আয়োজনে অংশ নেওয়ার কথা ভাবাও কঠিন। গত ঈদে চ্যানেল আই আমার গান নিয়ে একক সংগীতানুষ্ঠান নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে শুটিংয়ে অংশ নিতে পারিনি। এবারও টিভি চ্যানেলগুলো থেকে প্রস্তাব পেয়েছি, কিন্তু কী করব, ভেবে পাচ্ছি না।’ ঈদে নতুন কোনো গান প্রকাশ করবেন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘গান প্রকাশের বিষয়টা আমার হাতে নয়। প্রকাশকরা ঠিক করবেন কবে আমার কোন গান প্রকাশ করা যায়। এটা সম্পূর্ণ তাদের হাতে। তবে এর মধ্যে নতুন কিছু গান প্রকাশ পাবে প্রকাশকদের কথায় এটুকু নিশ্চিত হতে পেরেছি।’
গানের বাইরে আর কিছু করার ইচ্ছা আছে? তিনি বলেন, ‘একসময় গানের পাশাপাশি টিভিতে নানা ধরনের অনুষ্ঠান করেছি। প্রযোজনা ছাড়াও কিছু অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করেছি। এখনো করি “গানে গানে দেশে দেশে” ও “স্মৃতিময় গানগুলো” নামের দুটি অনুষ্ঠান। এখনকার বেশিরভাগ কাজ সংগীতনির্ভর। তার পরও গান গাওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিনই ভাবি, নতুন কী আর করা যায়। সেই ভাবনা থেকেই কদিন আগে দুটি গানের সুর করেছি। নিজের গানের বাইরে নতুনদের জন্য কিছু করার কথা ভাবছি। অনেক পরিকল্পনা মাথায় আছে, এখন দেখা যাক কবে নাগাদ কী করতে পারি।’