কোরবানিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি

ইসলামের প্রত্যেকটা বিধানই বাস্তবসম্মত। জাকাত, উশর, ফেতরা, কোরবানি, দান-সদকা ইত্যাদি ইবাদতের মধ্যে আমাদের জন্য অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনা রয়েছে। ঈদুল আজহায় আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের নিমিত্তে পশু কোরবানি এদেশের ৯০ শতাংশ জনগোষ্ঠী মুসলিমের ধর্মীয় অনুভূতি ও ইবাদতের অংশ। আসুন কোরবানি সম্পর্কে পবিত্র কোরআন থেকে কিছু বিষয় জেনে নিই।

সৃষ্টির শুরুতে কোরবানি : ‘আর তাদেরকে আদমের দু’ছেলের সঠিক কাহিনীও শুনিয়ে দাও। তারা দুজন কোরবানি করলে তাদের একজনের কোরবানি কবুল করা হলো, অন্যজনেরটা কবুল করা হলো না। সে বলল, আমি তোমাকে মেরে ফেলব। সে জবাব দিল, আল্লাহ তো মুত্তাকিদের নজরানা কবুল করে থাকেন।’ সুরা মায়েদা : ২৭

‘প্রত্যেক উম্মতের জন্য আমি কোরবানির একটি নিয়ম ঠিক করে দিয়েছি, যাতে লোকেরা সে পশুদের ওপর আল্লাহর নাম নেয়, যেগুলো তিনি তাদেরকে দিয়েছেন। (এই বিভিন্ন নিয়মের উদ্দেশ্য একই) কাজেই তোমাদের ইলাহও সে একজনই এবং তোমরা তারই ফরমানের অনুগত হয়ে যাও।’ সুরা হজ : ৩৪

দুই নবীর আত্মত্যাগ : ‘শেষ পর্যন্ত যখন তারা দুজন (ইবরাহিম ও ইসমাইল আ.) আনুগত্যের শির নত করে দিল এবং ইবরাহিম পুত্রকে উপুড় করে শুইয়ে দিল এবং আমি আওয়াজ দিলাম, হে ইবরাহিম! তুমি স্বপ্নকে সত্য করে দেখিয়েছ। আমি সৎকর্মকারীদের এভাবেই পুরস্কৃত করে থাকি। নিশ্চিতভাবেই এটি ছিল একটি স্পষ্ট পরীক্ষা। একটি বড় কোরবানির (আত্মত্যাগের) বিনিময়ে আমি এ শিশুটিকে ছাড়িয়ে নিলাম এবং পরবর্তী বংশধরদের মধ্যে চিরকালের জন্য তার প্রশংসা (কোরবানির বিধান জারি করে) রেখে দিলাম।’ সুরা সাফফাত : ১০৩-১০৮

তাকওয়া : ‘তাদের গোশতও আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, তাদের রক্তও না। কিন্তু তার কাছে পৌঁছে যায় তোমাদের তাকওয়া।’ সুরা হজ : ৩৭

তাই কোরবানি নিজেকে জাহির করতে নয় বরং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা আদায়ের জন্য দিতে হবে। এ প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে, ‘এ পশুগুলোকে আমি এভাবেই তোমাদের জন্য বশীভূত করেছি, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।’ সুরা হজ : ৩৬

অভাবীদের জন্য গোশত : ‘আর যখন (কোরবানির পরে) তাদের পিঠ মাটির সঙ্গে লেগে যায় তখন তা থেকে নিজেরাও খাও এবং তাদেরকেও খাওয়াও যারা পরিতুষ্ট হয়ে বসে আছে এবং তাদেরকেও যারা নিজেদের অভাব পেশ করে।’ সুরা হজ : ৩৬