আসন্ন কোরবানির ঈদ সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রস্তুত হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার গরু। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব গরুর বেশিরভাগই ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ফতুল্লা, মাওয়াসহ বিভিন্ন বড় বড় কোরবানির পশুর হাটে নিয়ে বিক্রি করা হয়। উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন যমুনা নদীবেষ্টিত হওয়ায় নৌপথে গরু আনা-নেওয়া করেন কৃষক, খামারি ও ব্যবসায়ীরা। সড়কে ট্রাকযোগে গরু পরিবহনে পুলিশি হয়রানি ও পরিবহন সেক্টরের চাঁদাবাজি এ বছর কম হলেও নৌপথে গরু পরিবহনে তারা ডাকাত আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। নৌরুটে ব্যাপক নৌপুলিশ ও থানা পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধির জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
উপজেলার পৌর সদরসহ ১৩ ইউনিয়নের গ্রামগুলোর অধিকাংশ বাড়িতেই কোরবানি উপলক্ষে ২-৪টি করে ষাঁড় বা বলদ গরু লালন-পালন করে হৃষ্টপুষ্ট করা হয়েছে। এ ছাড়া কোরবানির গরু লালন-পালন করে উপজেলার যমুনা নদীবেষ্টিত খুকনি, জালালপুর, কৈজুরি, সোনাতনী ও গালা ইউনিয়নের চর এলাকার হাজার হাজার হতদরিদ্র কৃষক সচ্ছল হয়ে উঠেছেন। সাধারণ কৃষকের পাশাপাশি ৫ হাজার মোটাতাজাকরণ খামার গড়ে উঠেছে উপজেলায়।
কোরবানি উপলক্ষে গরু মোটাতাজা করেছেন সোনাতনী গ্রামের কৃষক ভোলা মোল্লা ফকির চান, ছোট চানতারা গ্রামের এনামুল হক, জগতলা গ্রামের আলেফ আলী, জামিরতা গ্রামের নাজমুল হক ও উল্টাডাব গ্রামের আলমাস আলী। তারা এই প্রতিবেদককে বলেন, আমরা নিজের সন্তানের মতো করে গরুগুলোকে প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করে মোটাতাজা করেছি। এ গরু বিক্রির আয়ে আমাদের সংসার চলে। নৌপথে এ গরু হাটে নিতে আমরা ডাকাত আতঙ্কে আছি। নদীপথে নৌপুলিশের টহল আরও বাড়ানোর জোর দাবি জানাচ্ছি।
শাহজাদপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, এলাকার ২০ হাজার গরুর চাহিদা মিটিয়ে আরও প্রায় ৪০ হাজার গরু এ বছর ঢাকাসহ আশপাশের বড় বড় কোরবানির হাটে নিয়ে বিক্রির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের শঙ্কার কোনো কারণ নেই। নৌপথে নির্বিঘেœ গরু পরিবহনের সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শাহজাদপুর-নারায়ণগঞ্জ নৌপথের সব থানা ও নৌথানা পুলিশকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. শামসুজ্জোহা বলেন, নৌপথে কোরবানির গরু নির্বিঘেœ পরিবহনের সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।