টিকার জন্য তাকে জীবিত থাকার প্রমাণ দিতে হবে

কভিডের প্রতিষেধক টিকার জন্য নিবন্ধন করতে গিয়ে হাবিবুর রহমান জানতে পারেন ১২ বছর আগে তিনি মারা গেছেন! এখন তাকে প্রমাণ করতে হবে তিনি এখনো বেঁচে আছেন।

শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া গ্রামের হাবিবুর রহমান জানান, ২০০৮ সালের ২১ মে তিনি জাতীয় পরিচয়পত্র পান। এতদিন বিভিন্ন জায়গায় এই পরিচয়পত্র (এনআইডি কার্ড) দিয়েই প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম হয়েছেন। সম্প্রতি করোনার টিকা নেওয়ার জন্য সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনে নিবন্ধন করার চেষ্টা করেন তিনি। গত তিন দিন ধরে যখনই নিবন্ধন করার চেষ্টা করেন তখনই ব্যর্থ হতে থাকেন। অনলাইনে তার নাম, কার্ড নম্বর, জন্ম তারিখের নির্ধারিত ছক পূরণ করার পরও কোনো তথ্য না আসায় প্রথমে চিন্তা করেন সার্ভারজনিত সমস্যা। এরপর যশোর শহরে কম্পিউটারের কয়েকটি দোকানে জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে টিকার জন্য নিবন্ধনের চেষ্টা করেও সমস্যা ধরতে ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে তিনি জেলা নির্বাচন অফিসের মাধ্যমে তার এনআইডি কার্ডের সমস্যা জানার চেষ্টা করেন। সেখান থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভারের মাধ্যমে জানা যায়, সার্ভারে তাকে ২০০৯ সাল থেকে মৃত দেখানো আছে। অর্থাৎ ১২ বছর আগে তিনি মারা গেছেন বলে সার্ভার থেকে তার সব তথ্য সাধারণভাবে প্রকাশিত হচ্ছে না। এ কারণে টিকা নিবন্ধনের অনলাইন আবেদনের ফরমে কোনো তথ্য প্রদর্শিত হচ্ছে না।

হাবিবুর রহমান রিপন বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি তো এখনো জীবিত রয়েছি, তাহলে কোনো প্রমাণ ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যে কীভাবে আমি মারা গেলাম?’

জেলা নির্বাচন অফিসার হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘কিছু সমস্যা কোথাও কোথাও হতে পারে। হালনাগাদ করার সময় মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহকারী কর্মী হয়তো ভুল করেছেন। এখন ওই ব্যক্তি শার্শা নির্বাচন অফিসে একটি আবেদন করতে পারেন বর্তমান কার্ডের ফটোকপিসহ। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের দেওয়া সনদ জমা দিতে হবে। পরে নির্বাচন অফিস তদন্ত করে প্রতিবেদন জাতীয় পরিচয়পত্র অধিদপ্তরে জমা দিলে কিছুদিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে।’