মাঝরাতে ভেঙে পড়ল প্রধানমন্ত্রী দেওয়া উপহারের ঘরের বারান্দার পিলার

রাতের খাবার খেয়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন ভূমিহীন আরিফ মন্ডল। তখন রাত বাজে এগারোটা। ঘুমের মধ্যে হঠাৎ একটা শব্দ শুনতে পেয়ে ঘুম ভেঙে যায় তাদের।

পরে ঘুম থেকে উঠে দেখতে পান প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারের ঘরের বারান্দার একটি পিলার ভেঙে মাটিতে পড়ে গেছে। সে সময় তাদের হই-হুল্লা শুনে ছুটে আসেন আশপাশের লোকজন।

শুক্রবার দিনগত রাত ১১টার দিকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সুরাট ইউনিয়নের লাউদিয়া গ্রামের বড় ভাগাড় নামক এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

ফাতেমা খাতুন জানান, স্বামী আরিফ মন্ডল ও তার ৬ বছরের এক সন্তান নিয়ে ঘরের ভেতর ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় রাতে ঘরের বারান্দার একটি পিলার ভেঙে মাটিতে পড়ে যায়। এতে বিকট শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। পরে দেখতে পাই প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারের সরকারি এক নম্বর ঘরের বারান্দার পিলার ভেঙে মাটিতে পড়ে যায়।

শিউলি বেগম নামের এক ভূমিহীন জানান, প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ২১টি ঘর আছে এখানে। এর মধ্যে ঘরের মেঝেসহ প্রায় জায়গায় সিমেন্ট, বালু উঠে পড়ছে। এ ছাড়া অনেক স্থানে ফাটলও  দেখা যাচ্ছে। এখন ঘরে থাকতে আমরা চরম ভয় পাচ্ছি। কখন জানি নিজেদের গায়ের উপর এসব ভেঙে পড়ে যায়।

সুরাট ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারের ঘর তৈরির জন্য নিম্নমানের ইট আনা হলে সেটা ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরে এক নম্বর ইট এনে কাজ করে। এখানে নেই বিদ্যুৎ, নেই পানির ব্যবস্থা। এমনকি ভূমিহীনদের ময়লা ফেলারও নেই কোনো জায়গা।

এ ছাড়া রাস্তা থাকলেও বর্তমানে সেটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। ফলে ওই ২১টি ভূমিহীন পরিবারের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম শাহীন জানান, ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা মূল্যের একটি করে ঘর ২১টি ভূমিহীন পরিবারের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে এক মাস আগে তাদের বুঝে দেওয়া হয়।

সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য একটি চক্র রাতে ষড়যন্ত্র করে এক নম্বর ঘরের পিলারটি ভেঙে দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। সেই সঙ্গে ভেঙে যাওয়া পিলারটি মেরামত করা হবে।