১৮৬৩ সালের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন কবি, নাট্যকার, সুরকার ও গীতিকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। তার বাবার নাম কার্তিকেয়চন্দ্র রায় এবং মা প্রসন্নময়ী দেবী। তিনি ১৮৭৮ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় বৃত্তিলাভ করেন। এফএ পাস করেন কৃষ্ণনগর সরকারি কলেজ থেকে। পরে হুগলি কলেজ থেকে বিএ এবং ১৮৮৪ সালে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইংরেজিতে এমএ পাস করেন। কিছুদিন রেভেলগঞ্জ মুখার্জি সেমিনারিতে শিক্ষকতা করার পর সরকারি বৃত্তি নিয়ে তিনি ইংল্যান্ড যান এবং রয়াল এগ্রিকালচারাল কলেজ ও এগ্রিকালচারাল সোসাইটি থেকে কৃষিবিদ্যায় ডিগ্রি অর্জন করেন। ইংল্যান্ডে থাকাকালে ১৮৮৬ সালে প্রকাশিত হয় তার একমাত্র ইংরেজি কাব্যগ্রন্থ ‘লিরিকস অব ইনড’। এ বছরই দেশে প্রত্যাবর্তন করে জরিপ ও কর মূল্যায়ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং মধ্য প্রদেশে সরকারি দপ্তরে যোগ দেন। পরে তিনি দিনাজপুরে সহকারী ম্যাজিস্ট্রেট পদে নিয়োগ পান। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি ১৯১৩ সালে সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেন। বাল্যকালে তিনি একটি সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বড় হয়েছিলেন। ফলে কৈশোরেই তিনি কবিতা রচনা শুরু করেন। তিনি পাঁচ শতাধিক গান লিখেছেন, যা দ্বিজেন্দ্রগীতি নামে পরিচিত। ১৯০৫ সালে তিনি কলকাতায় পূর্ণিমা সম্মেলন নামে একটি সাহিত্য সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯১৩ সালে তিনি ভারতবর্ষ পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব নেন। তার রচিত কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে ‘আর্যগাথা’ ও ‘মন্দ্র’ বিখ্যাত। তার বিখ্যাত নাটকগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ‘একঘরে’, ‘কল্কি-অবতার’, ‘তারাবাঈ’, ‘দুর্গাদাস’, ‘রানা প্রতাপসিংহ’ ইত্যাদি। সাহিত্যে তার দেশপ্রেমের পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে। এ ছাড়া হাস্যরসেও তিনি অসামান্য পারঙ্গমতা প্রদর্শন করেছেন। ১৯১৩ সালের ১৭ মে তার জীবনাবসান ঘটে।