অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিক ও অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মীদের রহস্যময় সিরিজ অসুস্থতা দেখা দিয়েছে। জানুয়ারিতে জো বাইডেন হোয়াইট হাউজে আসার পর এখন পর্যন্ত সেখানে ২০ জনের বেশি কর্মীর দেহে রহস্যময় রোগের লক্ষণ মেলার খবর পাওয়া গেছে।
বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, উপসর্গগুলো অনেকটা ‘হাভানা সিনড্রোম’ এর মতো। এই বিরল রোগের সন্ধান প্রথম পাওয়া যায় ২০১৬ সালে কিউবায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে। পরে অবশ্য চীন ও অন্যান্য দেশের যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এই রোগের কথা জানায়। এই রোগের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ কানে ব্যথা ও তীব্র আওয়াজ শোনা, উচ্চ মাত্রার কম্পন, মাথা ধরা, চোখে কম দেখা, বুদ্ধি লোপ পাওয়া এবং অন্যান্য মানসিক সমস্যা।
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এক প্রতিবেদন মতে, বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস কূটনীতিক, কর্মী ও পরিবার-পরিজনদের অজ্ঞাত রোগ, ‘হাভানা সিনড্রোম’ এর কারণ হতে পারে, ঘন ঘন পরিচালিত বেতার তরঙ্গের ব্যবহার। তবে প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সরকার বলেছিল, ‘সনিক অ্যাটাক’ এর কারণে এমন হয়েছে। তবে হাভানা তা উড়িয়ে দেয়।
এদিকে অস্ট্রিয়ায় দূতাবাস কর্মীদের ‘হাভানা সিনড্রোমের’ মতো অসুস্থতায় আক্রান্ত হওয়া বিষয়টি সামনে আসার পরেই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওই অসুস্থতা সংক্রান্ত ঘটনা জোরালোভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানায়।
পরে এক বিবৃতিতে অস্ট্রিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারাও এ অসুস্থতার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে। ইউরোপের মধ্যে ভিয়েনায় কূটনীতিক আনাগোনা অন্য অনেক দেশের রাজধানীর তুলনায় বেশিই হয়। স্নায়ুযুদ্ধের সময় শহরটি গুপ্তচরদের আখড়া হিসেবেও পরিচিত ছিল। এখনো সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সংখ্যক কূটনীতিকের উপস্থিতি আছে। জুনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন কী কারণে এই অসুস্থতা দেখা দেয়, তা বের করতে বিস্তৃত পর্যালোচনার ঘোষণা দিয়েছিলেন।